কোন সমালোচনা করতে চাইনা। কারণ আমি নিজেই পারফেক্ট না। তবে উম্মাহর বাঙগা – রেজাউল করিম ভূইয়া

কোন সমালোচনা করতে চাইনা। কারণ আমি নিজেই পারফেক্ট না। তবে উম্মাহর বাঙগালরা যে ভিতরে ভিতরে অনৈতিকতায় আক্রান্ত তা দেখতে পাচ্ছি। এই অনৈতিকতায় আক্রান্ত উম্মাহ কে কেন আল্লাহ সবার উপরে বসাবেন? এজন্য মনে একটা প্রশান্ত বোধ করি। যে আমরা আসলে এখনও 'আপ টু দ্য মার্ক' হতে পারিনি বলেই আল্লাহ এই দুনিয়ার দায়িত্ব আমাদের হাতে দিচ্ছেন না। যদি দিতেন, নিতে পারতাম না। আমরা যার যোগ্য না, আল্লাহ তা আমাদের দেন নি আরকি।

আজ পশ্চিমা বিশ্বে এসে শিখতে হয় যে নৈতিকতার স্ট্যান্ডার্ড কি?
ইহুদী খ্রিস্টানদের কাছ থেকে? মুসলিমদের কাছ থেকে শিখতে পারিনা। আই মীন, ইসলামী বাহিনীর 'মুসলিমদের' লোকদের কথাই বলতেছি, সেক্যুলার মুসলিমদের কথা বলতেছিনা। অথচ রসূল(স) কত সুন্দর নৈতিকতা , পবিত্রতা শিক্ষা দিয়েছেন।

=====

মাদ্রাসার ঘটনাগুলো ফ্লাশ হলো। বুঝলাম কি অবস্থা।

তাবলীগ তো আগেই ভেঙ্গেছে। বুঝলাম কি অবস্থা।

এবার ফ্লাশ হল ছাত্রশিবির এর সভাপতি র থিসিস, পিএইচডি থিসিস।

একটা ক্লাস ফাইভের বাচ্চা যে ইংরেজী পারে, তার থেকেও খারাপ ইংরেজী লিখেছে। বিন রে করছে কনটেইনার। কোন একটা বাক্যের ঠিক নাই। কোন আগা নাই, মাথা নাই। একটা বি এস ইক্যুইভ্যালেন্ট থিসিসও লিখতে পারেনাই। অথচ তা লিখে সে পি এইচ ডি করছে। দরকার তো ছিলনা, বাংলাদেশে তো একটা বি এস ডিগ্রিই যথেষ্ঠ।

কষ্ট এখানে না, কষ্ট হল, তার ফলোয়ার রা এটাকেই ডিফেন্ড করতেছে। তার ফলোয়ার রা দাবী করতেছে, যে গুগল-উইকি থেকে একটু আধটু কপি বা দুই একটা ইংরেজী ভুল হইলেই পিএইচডি থিসিস ফেইক হয়ে যাবে? তার পি এইচ ডি সহীহ পি এইচ ডি। সভাপতি সাহেব অনেক কাজে ব্যস্ত, সময় পান না– এই হল এক্সকিউজ। তো এত ব্যস্ত হইলে পি এইচ ডি করার দরকার কি? ফাকিবাজি করার দরকার কি? না করলেই হয়। একটা কাজ করলে ভালভাবেই করতে হবে তাইনা? চুরি-বাটপারি-ফাকিবাজি করার তো দরকার নাই, তাইনা? অথচ বাংগাল-উম্মাহ এটাই চায়। এই হল বাঙগাল উম্মাহ র অবস্থা। কমেন্টে লিংক দিলাম, দেখেন।

ঠিক যেমন মাদ্রাসার ঘটনা বললে তার ফলোয়ার রা এটাকে ডিফেন্ড করতে থাকে, বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে থাকে।

কলরবের ঘটনা দেখেন, কি করলো। আগে যখন প্রথমবার ধরা পড়ছে, তখন ধামাচাপা দেয়া হয়েছে, কিন্তু সমস্যা সমাধান করা হয়নি। এখন এক্বেবারে গন হারা সব কলরব-নেতা ধরা পড়ছেন।

এই হল, উম্মাতের আগা থেকে গোড়া। আগা থেকে গোড়া উভয় জায়গায় পঁচন ধরেছে।

পাবলিকলী সব তো আর ফ্লাশ হয়না। কিন্তু যা হচ্ছে, নিশ্চয়ই তার চেয়ে বহুগুন বেশী ঘটনা ভিতরে ঘটতেছে। দু:খ সেখানে না, দু:খ এখানে, যে ফলোয়ার রা এটা নিয়ে সন্তুষ্ট।

অন্যায়কে অন্যায় বলার হক সাহস এখন উম্মাতের আমজনতার মধ্যে যেন কমে এসেছে। বরং বড় কেউ অন্যায় করলে, সেটাকে ভুং ভাং দিয়ে জায়েজ করার চেষ্টা, এড়িয়ে যাবার চেষ্টা, এক্সকিউজ দেবার চেষ্টা। অন্যায় কে মেনে নিয়ে তওবা করা বা ফিক্স করার চেষ্টা নেই, বা কম।

আপনারা করবেন ইসলাম প্রতিষ্ঠা? আল্লাহ আপনাদের দিবে? কেন দিবে? আপনি কোন দিক থেকে সেক্যুদের থেকে ভাল? এই আপনাদের নাহি আনিল মুনকার? আমর বিন মারুফ? যে আরেকজনকে নৈতিকতা শিক্ষা দিবে, তার নিজেরই নৈতিকতার কোন স্ট্যান্ডার্ড নাই। তার অবস্থা অন্যদের থেকেও খারাপ।

আজ আমি বুঝলাম, যে কেন আল্লাহ সেক্যুদের হাতে এই উম্মাতকে তুলে দিছেন।
======
(ডাউনলোড করে সভাপতি সাহেবের পিএইচডির পেপারটা পড়লাম। পড়ে বুঝলাম, অভিযোগ সত্য। )
======

এখনও উম্মাতের মধ্যে ভাল লোক পকেট হিসেবে আছেন। কিন্তু জেনারেল ট্রেন্ড বললাম আরকি।

======

এমন একদিন দিন আসবে, যখন মাটির নীচ মাটির উপর থেকে উত্তম হবে। এই হাদীসটা মনে পড়লো, সহীহ না হতে পারে। তবে দয়ীফ হইলেও আমি এটা প্রত্যক্ষ করতেছি।

======

সময় এখন আত্মশুদ্ধির, আত্মসমালোচনার, নিজেকে শোধরানোর , নিজের আমল বৃদ্ধি করার , সৎ আমল বৃদ্ধি, অসৎ আমল হ্রাস।

ইনশাআল্লাহ একদিন উম্মাহ এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবে এবং হক্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

যাজাকাল্লাহ।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-13 22:25:31