একটি ওয়াজের ভিডিও দেখলাম। ওয়াজ চলাকালীন অন্যত্র মাইক বাজলে হুজুর গরম হ – এএসএম ফখরুল ইসলাম

একটি ওয়াজের ভিডিও দেখলাম। ওয়াজ চলাকালীন অন্যত্র মাইক বাজলে হুজুর গরম হয়ে যান। যারা এ কাজ করছে তাঁরা “কত্ত বড় বেদ্দব!” ও তাঁদের “কত্ত দুঃসাহস!” জানতে চান। তারপর উপস্থিত ইসলামের খাদেমদের নিয়ে “নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার‍”, ” ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান” স্লোগান দিতে থাকেন। এই হুজুরটি ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া হুজুরের চ্যালাদের কাছে আমি কয়েকটি বিষয় জানতে চাইঃ

(১) একইসাথে মাইক বাজানোয় তাঁদের মাইকের কারণে আপনার যেমন “ডিস্টার্ব” হচ্ছিলো, আপনার মাইকের কারণে তাঁদেরও তো ডিস্টার্ব হচ্ছিল। আপনি যেমন তাঁদের “লিস্ট” চাইছিলেন, তাঁরা কি তেমনি আপনাদের লিস্ট চাইতে ও আপনাদেরকে মাইক বন্ধ রাখতে বলতে পারবে? না পারলে, কেন নয়?

(২) আপনারা যে রাতভর উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে “ওয়াজ” করেন, আপনাদের জন্য পরীক্ষার্থী, অসুস্থ্য রোগী, সাধারণ মানুষ যাদের ডিস্টার্ব হয়, আপনাদের ব্যাপারে তাঁদের করণীয় কি? তাঁরা কি আপনাদের লিস্ট চাইতে ও “এত্ত বড় বেয়াদবী” করার ব্যাপারে কোনো অ্যাকশান নিতে, নিদেনপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করতে, পারবে?

(৩) আপনারা যে আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুর মধ্যে ইসলাম ভইরা দেন, ধর্মের কার্ড খেলে নিজেদের কাজকর্ম জায়েজ করার চেষ্টা করেন, আপনাদের এসব চোগলখুরীর বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে কি? নাকি সেইটা বেয়াদবী ও কুফরি হয়ে যাবে?

(৪) আপনারা যে সোনার বাংলার আর দশটি গুন্ডার মতই ভিন্ন একটি ক্যাটাগরির গুন্ডা, এটি কি বলা যাবে? নাকি গায়ে যেহেতু জোর আছে, লক্ষ লক্ষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা গুন্ডাবাহিনী আছে, সেহেতু হাতের কাছে পেলে কল্লা ফেলে দিবেন?

আমার প্রশ্নগুলো শেষ হলো।

Asm Fakhrul Islam | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-08-18 00:23:32