সংখ্যালঘু আহমদিয়া বা নাস্তিক বা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের ভোট এদেশে খুব অল্প, – কদরউদ্দিন শিশির

সংখ্যালঘু আহমদিয়া বা নাস্তিক বা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের ভোট এদেশে খুব অল্প, তাই ক্ষমতান্ধ মতলববাজ ‘সেকুলাররা’ এদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াবে, আর বলদ মোল্লারা লাফ দিয়ে উঠবে, ‘দেখছোস পুরাই কামেল ঈমানদারদের পায়া গেছি। এরা কাদিয়ানি আর নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বলে। চল, কিছু কাদিয়ানি, আর নাস্তিক মাইরা আসি, কিম্বা দেশছাড়া কইরা আসি। অথবা ফাঁসির দাবি তুলি।’ আর তারচেয়েও মজার বিষয় হইলো, ‘হাউজ নিগার’ সংখ্যালঘুরা এই ঘৃণা ছড়ানোয় তাল দেবে!

সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভোট একটু বেশি। ফলে এদের বিরুদ্ধে আপাতত ঘৃণা ছড়ানোয় লাভ নাই। ভোট যদি কাউন্টেবল না হইতো তাইলে এই ক্ষমতান্ধ ‘সেকুলাররা’ এদের বিরুদ্ধেও ঘৃণা ছড়াতো।

অন্যদিকে এই ঘৃণা উৎপাদনের উৎসবে ক্ষমতাহীন ক্ষমতান্ধরাও নীরব থাকবে। কারণ, ভোট কম থাকা কাদিয়ানি, আর নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোয় বাধা দিলে সংখ্যাগুরু মুসলমানের ভোট কমতে পারে, বলদ মোল্লারা জোশের সহিত ‘নাস্তিক-কাদিয়ানি’ অস্ত্র লইয়া বাধাদানকারীদের ওপর ঝাপাইয়া পড়তে পারে।

কাদিয়ানি মারা, নাস্তিক মারা, ইহুদী-খ্রিস্টান কিম্বা হিন্দু ইত্যাদি নানা জাতিগোষ্ঠির মানুষের বিরুদ্ধে ঘৃণা উৎপাদন করা, ঘৃণা প্রচার করা এইসবকে যে জানোয়াররা ঈমানী কাজ মনে করে এদেরকে উত্তর প্রদেশ কিম্বা গুজরাটে নিয়ে আরএসএস কিম্বা বিজেপির সন্ত্রাসীদের হাতে ছেড়ে দেয়া দরকার। তখন বুঝবে সংখ্যায় কম দুর্বল জাতিগোষ্ঠির বিরুদ্ধে ঘৃণা চর্চা কেমন উত্তম কাজ। এই সমাজে উল্লেখযোগ্য লোক এসব ঘৃণা চর্চাকে ঈমানী কাজ মনে করে বলেই ক্ষমতান্ধ ধুর্তরা ‘সেকুলার’ ভেকের আড়ালে দাঁড়িয়ে ঘৃণার ব্যবসা করার সাহস পায়।

Qadaruddin Shishir | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-10-29 01:01:56