হুমায়ুন আহমেদের জীবনী থিকা হুমায়ুনরে বাদ দিলে সমস্যা হোলো এইটা আদৌ কোনো মুভি দাবী করে কি – ফাহাম আব্দুস সালাম

হুমায়ুন আহমেদের জীবনী থিকা হুমায়ুনরে বাদ দিলে সমস্যা হোলো এইটা আদৌ কোনো মুভি দাবী করে কি না সন্দেহ। ৫০ বছর বয়সে স্ত্রীর অত্যাচারে জর্জরিত পুরুষ কম করে হলেও কোটি খানেক আছে দেশে। কম বয়সী মেয়ের প্রেমে পড়ছে ওই বয়সে – এইরকম ঘটনাও আছে কোটির কাছাকাছি, তবে মেয়ের বান্ধবীর সাথে বিয়ে করা লোক কম। ভালো হইতো যদি হুমায়ূনের বায়োপিক হিসাবেই সিনেমাটা রিলিজ হইতো। মানুষ ঘটনার অথেন্টিসিটিরে প্রতি মুহূর্তে কোয়েশ্চেন করতো, একটা ইনহেরেন্ট টেনশন থাকতো। তবে এই দেশের মানুষ কাউরে ভালোবাসলেই নবী বানায়া ফেলে মৃত্যুর পর। সেই হিসাবে ফারুকী সাহেব ঠিকই করছেন। দেশে উতলা মানুষ বেশি।

২ ব্যাপারে ফারুকী সাহেবের উন্নতি হৈছে – ডিরেক্টর হিসাবে। উনি আগে ৩৫ মিমি তে নাটক বানাইতেন। উনি এখন সিনেমার লাঙ্গুয়েজটা ধরছেন। শট ডিভিশন বড়ো পর্দার জন্যে হৈছে – এইটা ভালো পাইছি। আরেকটা ভালো জিনিস হইলো উনি ভিজুয়াল ন্যারেটিভ তৈরী করা শিখছেন। বাংলাদেশের সিনেমা পুরাটাই হয় ডায়ালগ দিয়া – এইটা অপচয়মূলক ও বিরক্তিকর। দুঃখ মানেই ভ্যা ভ্যা করে কান্দা – এইটা দেখার জন্য তো সিনেমা হলে যাওয়ার দরকার নাই। এইখান থিকা বাইর হইয়া ফারুকী ওয়ার্ল্ড সিনেমায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন – এইটা ভালো পাইছি।

ফারুকী ইন্টেলিজেন্ট মানুষ কিন্তু সিনেমা লেখা ওনার স্ট্রং সাইড না। ডুব আমার কাছে পুওরলি রিটেন ফিল্ম মনে হৈছে। জাভেদ (ইরফান খান) সাহেবের ক্যারেক্টার একেবারেই ইভলভ করে নাই, বঙ্কিমচন্দ্রের ক্যারেক্টারের মতো – প্রথমে যা, শেষে তাই। আমি জাভেদ সাহেবের প্রতি কোনো সহমর্মিতা বা রাগ বোধ করতে পারি নাই। ইরফান খানের ডেলিভারি যেরকম অন্য ছবিতে হয়, সেরকমই – নিজের মধ্যে নিজে, পোয়েটিক এবং ফ্রাস্ট্রেটেড – ভুল জায়গার ভালো মানুষ। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা – হুমায়ুন আহমেদ ব্যক্তি জীবনে খুবই ইন্টেলিজেন্ট, উইটি এবং লাইকেবল মানুষ ছিলেন, এইটা ইরফানের ক্যারেক্টারে একেবারেই অনুপস্থিত।

রোকেয়া প্রাচীরে কাস্ট করা একেবারেই ঠিক হয় নাই। উনি আমাদের কালের রওশন জামিল, জনম দুঃখী। উনি একই ক্যারেক্টার হাজার বার করছেন। দর্শকের উনার সাথে সহমর্মিতা বোধ করা দরকার ছিলো সিনেমার টেনশন বিল্ডআপ করার জন্য – যেইটা তিশা পারছে। আরেকটা কথা ইনায়ে বিনায়ে অন্য ভাবে বললে অনেকের জন্যে প্যালেটেবল হবে বাট রোকেয়া প্রাচী ইজ নট কাট আউট ফর বিগ স্ক্রীন। আপনি যখন স্ক্রীনে বিশ-তিরিশ ফুট জুড়ে একজনের চেহারা দেখবেন (আনলাইক টেলিভিশন), সেই চেহারার একটা অথেন্টিসিটি, একটা চার্ম দরকার – যেইটা এডভার্টাইজিং এর ঝুনা লোকরা বুঝে। রোকেয়া প্রাচীর কোনো চার্ম নাই (দয়া করে চার্মরে সেক্সী হিসাবে অনুবাদ কইরেন না)।

সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মনে হৈছে নিতুর ক্যারেক্টারটা। এই মেয়ের প্রেমে জাভেদ কেনো পড়লো এইটা একেবারেই কনভিন্সিং হয় নাই। ৫০ বছর বয়সে বাঙালি পুরুষ ঘর সংসার বাদ দিয়ে মেয়ের বান্ধবীকে বিয়ে করার যেই চাপ (মানে ধরেন প্রেগন্যান্ট কইরা ফেলা) কিংবা যেই প্রণোদনা (মানে মেয়ে হইলো তুখা ভিকসেন, মায়াবতী অথবা ডোমিন্যাট্রিক্স) কোনোটাই নীতুর মধ্যে নাই। বুঝলাম যে নীতু অপর্চুনিস্ট ও ছ্যাচড়া কিন্তু জাভেদ কেন এই মেয়ের প্রেমে পড়লো এইটা একেবারেই কনভিন্স করা যায় নাই। এইখানে হয় স্বস্তিকা মুখার্জি টাইপ কাউরে দরকার ছিল (তার বয়স এইখানে ম্যাচ করতো না) অথবা ইরফান খানের সাথে তার ফিজিক্যাল সম্পর্ক দেখানো দরকার ছিলো।

সিনেমায় সবচেয়ে কনভিন্সিং লাগছে তিশারে। উনি বিলিভেবল রোল প্লে করছেন।

সিনেমাটা আগায় না – এইটা সবচেয়ে সমস্যা। এর সবচেয়ে বড় কারণ ফারুকী জাভেদ সাহেবের ক্যারেক্টারকে খুব বেশী ভালোবেসে ফেলছেন। জাভেদ সাহেবের কোনো ডার্ক সাইড তিনি এক্সপ্লোর করেন নাই। এইজন্যে সিনেমায় জাভেদ সাহেব শুধুই পরিস্থিতির শিকার। ঘটনাটা ধরে রাখার জন্যে জাভেদকে খুবই কমপ্লেক্স একটা ক্যারেক্টার দেখানো দরকার ছিলো যে একই সাথে তার বউ বাচ্চারে ভালোবাসে আবার বাচ্চা মেয়েদের শরীরের প্রতিও দুর্বল। তাহলে তারে নিয়া একটা টেনশান হইতো, ভালো খারাপ দুইটাই বাসা যাইতো।

সিনেমার ভালো দিক হইলো ফারুকী ডিরেক্টার হিসাবে আগের চাইতে ম্যাচিউর হইছেন, সিনেমার লাঙ্গুয়েজটা রপ্ত করছেন – এইটা এচিভমেন্ট, সহজ কাজ না। ভালো হোক কিংবা খারাপ – ডুব কিন্তু সিনেমা হৈছে, ওনার আগের ছবিগুলা সিনেমা ছিলো না।

ডুব ওয়েস্টার্ন অডিয়েন্সের জন্য প্যালেটেবল হৈছে। অনায়াসে টু কিংবা টু এন্ড হাফ ষ্টার।

Faham Abdus Salam | উৎস | তারিখ ও সময়: 2017-10-30 09:28:28