দেশে যখন নাস্তিকদের প্রবালাধিক্য হয়ে যাচ্ছিলো, সব যখন শেষ হই হই অবস্থা – রেজাউল করিম ভূইয়া

দেশে যখন নাস্তিকদের প্রবালাধিক্য হয়ে যাচ্ছিলো, সব যখন শেষ হই হই অবস্থা, সেই ২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত অবস্থা টা চিন্তা করুন। আজ কিন্তু সেই অবস্থা নেই। এর মূল কারণ কি জানেন?

এর মূল কারণ কওমী মাদ্রাসাদের একতা এবং তাদের ইউনাইটেড ফ্রন্ট। মনে পড়ে সেই শাহবাগের কথা? সেই উত্তাল অবস্থায় কোন ইসলামী দলই তেমন কোন অবস্থান রাখতে পারেনি। ইভেন সংসদে আইনটাইন পাশ করে ইসলাম নিষিদ্ধ হয়ে টয়ে যাবে এমন অবস্থা।

কিন্তু একটা ঘটনা সবকিছুর মোড় ঘুরিয়ে দিল। সেটা ছিল সব কওমীদের ইউনাইটেড ফ্রন্টের একটা কমন রেসপন্স। জাতি তখনই কিন্তু তাদের শক্তিকে উপলব্ধি করেছে। তারা কত বড় শক্তি সেদিন বুঝা গেছে।

জামাত-চরমোনাই-ট্র্যাডিশনাল সালাফী-অন্য যেকোন ইসলামী দল: কেউই এত ইউনাইটেড ফ্রন্ট গড়ে তুলতে আসলে পারতেন না, যেটা কওমীরা করেছে।

তার ফলশ্রূতিতেই কিন্তু পরবর্তীতে ৫ই ঘটে এবং নাস্তিকদের আস্ফালন বন্ধ হয়। সরকারও শেষমেশ সমঝোতা করে নেয়। সকল স্কুল কলেজের বই থেকে সব নাস্তিকতাবাদ মোটামুটি বাদও দেয়া হয়। সবকিছুকে সরকার বাধ্য হয়ে লাইনে আনে। ওই শাহাদাহ টা মূল্য হল এগুলো। তাঁরা শাহাদাহ দিছেন, কিন্তু মূল্য হিসেবে ইসলাম আপাত রক্ষা পেয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ।
=====

কাজেই যদিও তাদের হাতে ক্ষমতা নেই, কিন্তু তাদের হাতে আসলে ক্ষমতা আছে। যদিও তারা হেরে গেছে বলে মনে হয়, আসলে তারা হারেনি। জামাতকে শেষ করা সম্ভব, কিন্তু তাদের শেষ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব না। কাজেই সমঝোতা ছাড়া আসলে আর কোন উপায় সরকারের ছিলনা। সরকার ইসলামী হয়ে যায়নি, বরং বাধ্য হয়ে সমঝোতা করেছে। হয়তো কওমীরা কিছু ভুল করেছে, কিন্তু মোটাদাগে তারা এক গোাঁয়ার এডমিনকে ডিসিশন চেঞ্জ করিয়েছে।
=====

কাজ করলে ভুল হয়ে বলে তো আর কাজ বন্ধ থাকেনা। সুতরাং কওমীদের কাজে যদি রাজনৈতিক কোন ভুলভ্রান্ত হয়ে থাকেও, শেষমেশ তাদের ইসলামিক ইমপ্যাক্ট পজিটিভ এবং তারা ইসলামের লাস্ট ফ্রন্ট হিসেবে ইসলামকে রক্ষা করেছে। বলতে পারেন, তাদের কারণেই এদেশে টিকে গেছে ইসলাম। না হলে যে কি হতো , আল্লাহ মালূম।

=====
ব্রিটিশ পিরিয়ডেও ইসলামকে রক্ষা করায় সবচে স্যাক্রিফাইসিং পিপল কিন্তু এই কওমীরাই; কওমী রা না থাকলে আদৌ ভারত স্বাধীন হইতো কিনা তাতে ভারতীয়দেরই সন্দেহ আছে। এজন্য এখনও ভারতে কওমীদের বড় প্রভাব। সেকারণ কওমীদের 'রাজাকার বা পাকিস্তানপন্থী' বলে খুব একটা লাভ হয়না, আর খোদ দেওবন্দই ভারতে। যে কারণ বামরা দেশে কওমীদের বিরুদ্ধে কিছু করতেও পারেনা।

সেকারণে কওমীরা একটু ফ্রেশ। এবং ভিতর থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

যেখুন তাবলীগও কিন্তু কওমীদেরই একটা ব্রাঞ্চ, যেটা সমাজে অনেক প্রভাব ফেলেছে। এটা অস্বীকার করার মতন কিছু নয়।

=====

আমরা ফেবুতে যত কথাই বলি, এগুলো ময়দানে বাস্তবায়নের ফোর্স কারুরই নাই, এক কওমী ছাড়া। চিন্তা করেন, কওমীরা যেভাবে আহমদ শফী-জুনায়েদ বাবুনগরীর এক ডাকে ২০ লাখ লোক জড়ো করে ফেলতে পারে, সেটা কি আমরা কেউ করতে পারবো? পারবোনা। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে। যে শেষমেশ ম্যানপাওয়ারের কারণে কওমীরা একটা রিকগনাইজড ফোর্স।

ইসলামের শত্রূরা হাজারো চেষ্টা করেও এই ফোর্সকে কিছু করতে পারতেছেনা। যদিও চেষ্টা কম হয়নি।

=======

সেজন্যই কওমীরা টিকে থাকুক , সেটাই আমরা চাই। কওমীরা না থাকলে ফেবুতে লিখে তেমন কিছু হবেনা, যখন সরকার পলিসি চেঞ্জ করতে যাবে, তখন এইসব ফেবুকথনের তেমন ফায়দা নেই, তখন দরকার ম্যানপাওয়ার। সরকার দেখে, কার হাতে কত লোক আছে, তাইনা?

=======

সেজন্যই আমরা কওমীকে বাঁচাতে এইসব ঘটনা নিয়ে লিখি। এসব দুর্ঘটনা যা ঘটতেছৈ এতদিন, সেটাই কওমীর সবচে বড় শত্রূ। বামরা না। বামরা – আওয়ামীলীগ কিছুই করতে পারবেনা কওমীকে। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা পারবে। যদি এসব রোধ করা না যায়, তাহলে একসময় মানুষ বাচ্চা দিবেনা মাদ্রাসায়, মানুষ রেসপেক্ট হারাবে। কাজেই এমন এক প্রজন্ম আসবে ১০-১৫ বছর পর, যেখানে কওমীদের কোন ম্যানপাওয়ারই থাকবেনা। তারা ডাকলেও মানুষ আসবেনা। মুসলিমলীগের মতন হবে।

তখনই ছোবল আনবে ইসলামের শত্রূরা, যেটা তারা এখন ম্যাসিভ ম্যানপাওয়ারের জন্য পারতেছেনা।

আর এসব গুণাহ এমন, যা আল্লাহর তরফ থেকে সাহায্য বঞ্চিত করবে। আল্লাহ কি এমন জাতিকে সাহায্য করবে, বলেন? অবশ্য আল্লাহই ভাল জানেন।

২০১৩ তে ঘটনাপ্রবাহ যেভাবে ঘটেছে, প্রতিটা দিন আমি আল্লাহর সাহায্য দেখেছি। প্রতিটা ঘটনা যে আল্লাহর সাহায্য ছিল। ইভেন ৫ই মে কেও আমি তার ব্যতিক্রম বলিনা। ঘটনাপ্রবাহ উল্টাভাবে ঘটতে পারতো, তারা ঠিকই ছেয়েছিল, কিন্তু কন্ট্রোলের বাইরে চলে গেছে।
======

কাজেই, আমাদের চাওয়া খুবই সামান্য। কওমী মাদ্রাসাগুলোতে যেন আর কোন দুর্ঘটনা না হয়। সব বড়রা বসে সদিচ্ছার সাথে নতুন পলিসি নিলে, এসব বন্ধ কোন সমস্যা না। এর থেকে কত বড় ঘটনাই ঘটতেছে দুনিয়া। এখনই সময়। মানুষ চেষ্টা করলে , সৎ কাজে আল্লাহ সাহায্য করেন।

সত্যকে ধামাচাপা দিয়ে লাভ নেই, যা সত্য তা প্রকাশ হবেই। গোপন রেখে রেখে রোগ বাড়ে বই কমেনা। রোগ কম থাকতে থাকতেই এন্টিবায়োটিক দিয়ে শেষ করে দেন। রোগ বেশী বেড়ে ক্যান্সার হয়ে গেলে তখন আর কেমো দিয়ে লাভ হয়না।

কাজেই এখনই যদি উদ্যোগ না নেয়া হয়, এমন এক সময় আসবে, যে উদ্যোগ নিয়ে কোন লাভ হবেনা, আল্লাহ না করুক। বেটার লেইট দেন এভার।
=====

জাযাকাল্লাহ।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-09 09:29:58