সুন্নাহ অব প্রফেট মুহাম্মদ(স) : কিভাবে মাদ্রাসার অনাচার এবং ছাত্রমৃত্য – রেজাউল করিম ভূইয়া

সুন্নাহ অব প্রফেট মুহাম্মদ(স) : কিভাবে মাদ্রাসার অনাচার এবং ছাত্রমৃত্যু সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান দেয়?
======
উম্মাহ যখনই কোন সমস্যায় পড়ে, তখনই আপনি দেখবেন, এর সমাধান খুঁজে পাবেন, নবী(স) এর সুন্নাহ এর মধ্যে। এমন কোন সমস্যা থাকতে পারেনা, যার সমাধান রসূল(স) এর সুন্নাহ র মধ্যে নাই। সুতরাং আমাদের এখন সময় ১৪০০ বছর পিছনে গিয়ে খুজে দেখা যে কিভাবে সুন্নাহ আমাদের মাদ্রাসাগুলোকে যৌনাচার এবং ছাত্রমৃত্যু থেকে হেফাজত করতে পারে।
======
একদম গোড়ায় গিয়ে দেখা যাক সমস্যার গোড়া কোথায়, মূল কোথায়। একদম মূলে এভাবে বিষ টা ঢুকছে মাদ্রাসায়, যেটা কেউ খেয়াল করছেনা হয়তো:

১. একজন ছাত্র মাদ্রাসায় শুরুতে ৪-৫-৬ বছর বয়সে যখন প্রবেশ করেন। শুরু হয় ব্যাপক মারধর আর পিটানি। জুলুম। বেত দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা, ইস্ত্রী দিয়ে শরীরে হিট দেয়া, রশীতে বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা, সূর্যের দিকে তাকিয়ে মাথার মাঝখানে একটা পয়সা দেয়া — এইসব নিত্যনতুন উপায়ে টর্চার চলতে থাকে । অপরাধ কি? অপরাধ হলে সে হয়তো ১/২ দিনে ১০ পাতা মুখস্থ করতে পারেনি, ৮ পাতা মুখস্থ করেছে, বা কোন দুষ্টামী করেছে। ওইটুকুন ছোট্ট বাচ্চাকে এত বড় বড় পানিশমেন্ট দিতে তাদের বুকে কাঁপেনা। এটাকে তারা জায়েজ ও বৈধ , এবং এছাড়া কোনভাবেই বাচ্চাকাচ্চাকে শিখানো সম্ভবনা , সেটাও তারা মনে করে। [সব মাদ্রাসা এত খারাপ নাও হতে পারে, তবে আমি জেনারেল ট্রেন্ড বললাম আরকি। ]

এখন আপনি এ ব্যাপারে রিসেন্ট হিউম্যান সাইকোলজী নিয়ে পড়াশোনা করেন, আপনি দেখবেন, যেসব বাচ্চাকে ছৌট বেলায় মাত্রাতিরিক্ত মারা হয়, তাদের মস্তিষ্ক গাঠনিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে যায়, এবং সে বড় হয়ে সন্ত্রাসী-ক্রিমিনাল-রূক্ষ-পশু হয়ে যায়। তার মধ্যে কোন হিউম্যানিটি থাকেনা, তার মধ্যে নম্রতা থাকেনা। আদর-ভালবাসা-সহমর্মিতা-নম্রতা : এই মানবিক গুনাবলি সে হারিয়ে ফেলে। তার মস্তিষ্ক এসবের প্রতি রেসপন্স করেনা। মস্তিষ্ক এই সংক্রান্ত নিউরনের সেলগুলোকে মেরে ফেলে, নিজেকে বাঁচানোর জন্য।

সে কারণে যে কোন ক্রিমিনালের পাস্ট খুঁজলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার ছোটবেলায় 'মাত্রাতিরিক্ত মারধর' এর হিস্টোরী পাওয়া যায়।

একটা এক্সাম্পল দি: পৃথিবীর সবচে বড় ক্রিমিনাল হিটলারের বাবা , তাকে ছোটবেলায় মাত্রাতিরিক্ত মারধর করতেন, অকারনে পিটাতেন। ফলাফল: সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার, কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু, জেরুজালেম হাতছাড়া আমাদের।

মাদ্রাসার ক্ষেত্রে এই জিনিসটাই কিন্তু ঘটতেছে। একটা মাসুম বাচ্চাকে আপনি যখন দিনের পর দিন এভাবে বদ্ধ একটা পরিবেশে রেখে সারাদিন পিটাবেন, সে কুরআন মুখস্থ করবে, কিন্তু সে কিন্তু ভিতরে ভিতরে কঠোর-রূক্ষ-সহমর্মিতাহীন মানুষে পরিণত হয়ে যাবে। সেই অন্য কাউকে পিটাতে বা কারো উপর জুলুম করতে দ্বিধা করবেনা। তার কাছে এভাবে পিটানো, বা জুলুম করা, খুব স্বাভাবিক মনে হবে। তার মস্তিস্কের রেসপন্সটাই নষ্ট হয়ে গেছে, যে এটা জুলুম।[ অথচ এই বয়সটা ছিল, মায়ের সাথে আদর ভালবাসায় আর দুষ্টুমি কাটানোর।]

সুতরাং পরবর্তী জেনারেশনে জুলুমের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, কারণ প্রত্যেক জেনারেশনের হুজুর রা দিন দিন মস্তিষ্কের রেসপন্সকে হারাচ্ছে। এভাবে ১শ বছর চললে ৪ জেনারেশন পরে দেখা যাবে, মাদ্রাসা থেকে পাশ করা মানুষ রা অনেকে অনেক জুলুম খুব সহজে করে ফেলতেছে, যেগুলো খুব অস্বাভাবিক; সে বুঝে এটা হারাম, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা। কারো উপর জুলুম করা তার কাছে এখন 'কোন ব্যাপারইনা'।

এই জুলুমের ই এক প্রকার হল যৌন নির্যাতন, সমকামিতা, ছাত্রহত্যা। আর কিছু না। এভাবেই কিন্তু প্রসেসটা তার মধ্যে আসতেছে, সেটা কিন্তু বুঝতে হবে।

=====
২. মাদ্রাসায় ছেলে মেয়েরা কোন খোলা মেলা পরিবেশে , ন্যাচারাল এনভায়রনমেন্টে বড় হয়না। কোন বিষয়ে তর্ক বিতর্ক-আলোচনা করা শিখেনা। এখানকার কালচার হল, হুজুর যা বলবে-লাইন বাই লাইন তাই মানতে হবে। না হলেই মাইর হবে।

তাহলে একটা ছেলে/মেয়ে শিখেনা, যে কিভাবে যুক্তি তর্ক করতে হয়, কিভাবে মস্তিকের এনালিটিকাল পার্টকে ব্যবহার করতে হয়। সে হয় একজন ক্রীতদাস। হুজুরকে মাত্রাতিরিক্ত তোয়াজ করতে হয়। হুজুরের হাতপা টিপা- তার কাপড় ধোয়া, ব্যক্তিগত খেদমত করা সবকিছু ছাত্র-ছাত্রীরা করে।

হুজুর প্রভু, আর ছাত্রছাত্রীরা দাসদাসী : এই রকমের মনোভাব মাদ্রাসায় গড়ে ওঠে।

এতে ছেলেমেয়েরা হীনমন্যতায় ভুগে, ব্যক্তিত্ব্য গড়ে উঠেনা, বড় হয়ে যুক্তি তর্কে এরা পারদর্শী হয়না, সোশাল এনভায়রনমেন্টে এরা খাপ খাওয়াতে কষ্ট হয়। বরং হয় এরা দাসবৎসল হয়, না হয় এরা প্রভুবৎসল হয়, মানুষের সাথে। বন্ধুর মতন লীডার হতে পারেনা, বন্ধুর মত ছৌট ভাই হতে পারেনা। হয় দাস না হয় প্রভু।

এরা যখন প্রভু বৎসল হয়, তখন তারা মানুষকে যুক্তি তর্ক দিয়ে কনভিন্স করতে পারেনা কিছু; বরং আমি অর্ডার করবো, ওরা পালন করবে, পালন না করলে মাইর দিবো — এমন একটা মেন্টালিটি ওদের মাঝে থাকে। অনেক সময় বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের দেখবেন ওরা এমন করে। মসজিদ কমিটির সামনে গিয়ে দাস, কিন্তু আমজনতার সামনে এসে প্রভু হয়।

কাজেই এমন অবস্থায় একই সাথে সে কখনও উম্মাহকে লীড করতে পারেনা, কারণ মানুষের সোশ্যাল এনভায়রনমেন্ট এরকম নয়। মানুষ সামাজিক প্রাণী, এবং মানব সমাজের বৈশিষ্ট মেনেই আপনাকে নেতৃত্ব দিতে হবে। এই দাস-প্রভু কালচার কোন মানব সমাজেই নেই। গ্রামে গিয়ে দেখবেন, যে সবচে প্রভাবশালী ব্যক্তিও একজন লেবারকে সম্মান করে তার সাথে ডীল করতেছে, নাহলে সে কাজ না করে চলে যাবে।

কাজেই দেশে লক্ষ লক্ষ হুজুর হচ্ছে, কিন্তু একজন কার্যকারী লীডার আসছেনা। সেই সাথে হাজার হাজার জালিম হুজুর দেখা যাচ্ছে, যারা বাচ্চা দের মেরে ফেলছে, এবং যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে।
=====
৩. আরেকটা ব্যাপার, অতিরিক্ত মারধোর এর কারণে, মাদ্রাসায় যদি একটা শয়তানকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কিন্তু ওই শয়তানও দাওরায়ে হাদীস পাশ করে বের হয়েএ যায়। এখানে কোন সেকেন্ড অপশন নেই। ইখলাছ কারো আছে কিনা তা দের আর বুক চিরে দেখা যায় না। কাজেই কোন শয়তান যদি মেধাবী হয়, পড়া ভাল পারে, সেও কিন্তু হাফেজ হয়ে দাওরায় হাদীস পাশ করে বের হবে। এরপর মাদ্রাসা বানিয়ে সে শয়তানী করবে। তাইনা?

মারধোর না থাকলে ওই শয়তান ছোট বেলাতেই মাদ্রাসা থেকে ড্রপ আউট হতো, বের হয়ে যেতো। কিন্তু এই অপশনটাই মাদ্রাসায় নেই।

কাজেই কোন মুখলিছ বান্দা , পড়ায় একটু কম হলে, সে মাদ্রাসায় টিকতে পারতেছেনা, পালিয়ে যাচ্ছে। আর শয়তান বান্দা, পড়ায় ভাল হলে, মাদ্রাসার দাওরায় হাদীস পাশ করে বের হচ্ছে।

ফলাফল অনেক 'মাওলানা শয়তান' আমরা দেখতে পাচ্ছি।

=====

গোড়ায় যদি যান, তাহলে এক. কঠোরভাবে বাচ্চা পিটনো এবং দুই. কঠোর একনায়কতান্ত্রিক প্রভু-দাস রিলেশন হচ্ছে মাদ্রাসার সব সমস্যার জন্য দায়ী। এবং এগুলো সুন্নাহর বিপরীত।
======
এখন সুন্নাহ যদি দেখেন, দেখবেন, যে রসূল(স) সবসময় আমজনতা বা বাচ্চাদের মোটিভেট-ইন্সপায়ার করতেন দ্বীন পালনের জন্য , এরপর ছেড়ে দিতেন, জোর জবরদস্তি -মারধর করতেন না; মানুষ নিজে থেকেই করতো। রসূল(স) কখনও কোন বাচ্চার গায়ে হাত তুলেন নি। ওপেন এনভায়রনমেন্টে খোলামেলা পরিবেশে তিনি ফাতিমা বা হাসান-হুসেইন (রা) কে পালন করেছেন। তাদের সাথে বন্ধুবৎসল আচরণ করেছেন, প্রভু-দাস কালচার আনেন নি।

দশ বছর বয়সে নামাজের জন্য শাসন করতে বলেছেন । এতটুকুই। কুরআন মুখস্থ করার জন্য এমন নিয়ম করে দেন নি যে ১ দিনে ১০ পাতা মুখস্থ না করলে মাইর হবে। বরং তখন মানুষ বড় হয়ে কুরআন মুখস্থ করতো। কুরআন মুখস্থ করতে না পারা বা পড়া না পারা কোন অপরাধ নয়, যার জন্য হদ্দ আসে আর মারতে হয়। ইসলামে হদ আছে, কিন্তু সেটা অন্য ক্ষেত্রে, পড়া না পারার জন্য হদ হয়না।

রসুল(স) মানুষকে মোটিভেট-ইন্সপায়ার করার পরে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দিতেন, সে নিজেই দ্বীন পালন করতো। রসূল ভদ্রভাবে যুক্তি তর্ক করে, ভাল ব্যবহার করে মানুষকে দ্বীন শিক্ষা দিতেন, ফলে মানুষ ও যুক্তি তর্ক করা শিখতো , ভাল ব্যবহার শিখতো। অথচ মাদ্রাসায় মারধর করে পিটিয়ে খারাপ ব্যবহার করে দ্বীন শিক্ষা দেয়া হচ্ছে, ফলে ছাত্রছাত্রীরা সমাজে এসে মানুষকে মারধর/খারাপ ব্যবহার করে দ্বীন শিক্ষা দেবার চেষ্টা করতেছে এবং হিতে বিপরীত হচ্ছে।

রসূল (স) সাহাবীদের থেকে ব্যক্তিগত কাজ নিতেন না, কাপড় ধোয়াতেন না, হাত-পা টিপাতেন না, দাস – প্রভু রিলেশন করতেন না। বন্ধু বৎসল রিলেশন করতেন। ফলে সাহাবী(রা) রাও দুনিয়ার সব প্রান্তে গিয়ে দ্বীন পালন করানোর সময় মানুষের সাথে বন্ধুবৎসল আচরণ করতেন। কিন্তু মাদ্রাসায় কিন্তু বিপরীত হচ্ছে। রাইট?

এজন্য মাদ্রাসার প্রডাক্ট মাওলানা রা অনেক সময়ই এরকম ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত হচ্ছেন। মাদ্রাসায় থাকা সত্যিকারের ভাল মানুষগুলো এই অপরাধীদের জন্য ব্যাপক লজ্জায় পড়ছেন।
=====

কাজেই মাদ্রাসার সমস্যার সমাধান যদি চান, মাদ্রাসার পরিবেশকে সত্যিকারের ইসলামিক করতে হবে। এমন মাদ্রাসা গড়তে হবে যেখানে:

ক. শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক হবে বন্ধুবৎসল। এমন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, যিনি মোটিভেট করতে পারেন, ইন্সপায়ার করতে পারেন। ছাত্ররা খোলামেলা পরিবেশে বড় হবে। পড়া না পারার জন্য মাইর হবেনা, তবে মানসিক চাপ হবে, উস্তাদ মুখে বলবেন। ছাত্রদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরী করলে , ওরা এমনিতেই নিজে থেকে পড়ে।

খ.ভদ্র আচরণ করতে হবে বাচ্চাদের সাথে। মার ধর নয়, হাত-পা টিপানো-কাপড় ধোয়া-ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার নয়। বাচ্চাদেরকে একটি 'মানুষ' হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, দাস হিসেবে নয়।

গ.ইসলামের প্রতিটি বিধান যুক্তি তর্ক দিয়ে আলোচনা করে বুঝাতে হবে। জবরদস্তি নয়। কোশ্চেন করতে দিতে হবে এবং কোশ্চেনের জবাব দিতে পারতে হবে।

ঘ. ছাত্র ছাত্রীরা সবসময় নির্দেশ মানবেনা। এতে এত উত্তেজিত হবার কিছু নেই। ছেড়ে দেন। দৌড়াদৌড়ি করে আবার ঘরে ফিরে আসবে।

ঙ. পড়া না পারার জন্য শাস্তি নেই। পরীক্ষার ভয়ে এমনিতেই ওরা পড়ে। প্রতিযোগিতার জন্য এমনিতেই পড়ে। সবোর্চ্চ দশ ঘা, বালেগ বাচ্চার জন্য, যদি সে খুব ইনডিসিপ্লীন হয়, — এর পক্ষে একটি হাদীস আছে মাত্র ( অবশ্য তা মূলত শাসকের জন্য)। নাবালেগ বাচ্চাকে মারলেই গুণাহ হবে। নাবালেগ বাচ্চা কন্ট্রোল করতে না পারলে , বাচ্চাকে ভর্তি করাবেন না: বা বাপ-মা কে ফিরত দিবেন। কোন বাচ্চা পড়াশোনায় খারাপ হলে হবে, এটা মেনে নিতে হবে। সবার মাথা এক না।

চ. বাচ্চাদেরকে অতিরিক্ত পড়িয়ে লাভ নেই। এত পড়া বড় হবার পর কোন কাজে আসেনা। তাই সিলেবাস হবে ছোট, এত বড় নয়। সোশাল এনভায়রনমেন্ট, সোশাল স্কিল-কমুনিকেশন স্কিল এসব বেশী দরকার, মুয়ামালাম-মুয়াশারাত বেশী দরকার। এসবই কাজে লাগে। কাজেই এসব শিখানোর জন্য খোলামেলা পরিবেশ দরকার, ভাল আচরণ কারী টিচার দরকার। ভাল আচরণ কারী, শিক্ষক নিয়োগ এবং খোলামেলা পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে, মুয়ামালাত মুয়াশারাতের প্রতি নযর দিতে হবে।

এসব করতে পারে, এমন মাদ্রাসা গড়ে তুলুন, বা পুরাতন মাদ্রাসাগুলোকে এসবের মধ্যে আনুন। তাহলে ভবিষ্যতে সমস্যার সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ, সমাধান আসলে সুন্নাহ র মধ্যে। ওভারনাইট হবার মতন সমাধান এটা নয়।
=====
কিন্তু এখন জরুরী ভিত্তিতে কি সমাধান করা যায়? ইমিডিয়েট একশন হিসেবে? নিম্নলিখিতি সমাধান চিন্তা করা যেতে পারে:

১. মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা , যা পুরুষের কর্তৃত্বে চলে, তা বন্ধ করে দিন। যদি চালাতেই চান, তাহলে এমন নিয়ম করুন, যাতে একটি মহিলা মাদ্রাসা সম্পূর্ণ মহিলা এডমিনের দ্বারা চলে, পুরুষ ওস্তাদরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে লেকচার দিবেন, কিন্তু ফিজিকালী মাদ্রাসায় আসবেন না। তাহলে নো ফিতনাশংকা। মহিলা অনাবাসিক মাদ্রাসা চললেও কঠোর নিয়মানুবর্তিতা আবশ্যক। মহিলা মাদ্রাসা র জন্য এরকম নীতিমালা বানান। মানতে কিভাবে বাধ্য করাবেন, সেটা পরে বলতেছি।

২. সকল মাদ্রাসায় মারধরের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করুন , এবং মানসুরুল হক (দা. বা.) র যে ফতোয়া সেটা পাঠীয়ে দিন, মানতে নির্দেশ দিন। মারধোর ছাড়া যদি হিফজ না করানো যায়, হবেনা হিফজ, এমন সিদ্ধান্ত নিন, …., আসলে হবে, কিন্তু সময় লাগবে একটু বেশী আরকি। মাদ্রাসাগুলোকে মৌলিকভাবে পাল্টানোর চেষ্টা করুন এবং সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিন, যে পাল্টাবেন। আকাবির রা সিদ্ধান্ত নিলে অন্যরা মানতে বাধ্য।

৩. মাদ্রাসায় ছাত্ররা আলাদা খাটে ঘুমাবে, বয়স ৭ এর পরেই। এক ফ্লোরে সব ছাত্র গাদাগাদি করে ঘুমানো বন্ধ করান। ছোট বড় ছাত্র একসাথে ঘুমানো নয়। ছোট ছাত্র বড় ছাত্রের পাসোর্নাল এসিসটেন্ট নয়। কেউ কারো পাসোর্নাল এসিসটেন্ট নয়। সবাইকে নিজের কাপড় নিজেকে ধুতে হবে, নিজের হাত পা নিজেকে টিপতে হবে।

৪. এবার উপরের নীতিমালা, মহিলা মাদ্রাসা সংক্রান্ত, মাদ্রাসায় মারধর সংক্রান্ত কাগজে লিখুন, নিয়ম বানান, এ নিয়ম বেফাক থেকে পাশ করান, সব মুরুব্বির রাজী ক্রমে। নিয়মগুলোর নাম দিন 'মাদ্রাসা পরিচালনা এক্ট-১০১', সরকারকে বলে এই এক্ট কে আইন বা রুলস বানান। । এরপর মাদ্রাসাগুলোকে বেফাক থেকে লাইসেন্স দিন, যারা এই এক্ট-১০১ মানতে পারবে, তারা থাকবে, যারা মানতে পারবেনা, তারা বন্ধ হবে। । বেফাক থেকে লোক যাবে, লোক গিয়ে মাদ্রাসার অবস্থা ভিজিট করবে, ছাত্রদের সাথে কথা বলবে, বলে সিদ্ধান্ত নিবে যে মাদ্রাসা 'বেফাক এক্ট-১০১ কমপ্লাইয়েন্ট' কিনা । যদি দেখেন যে মাদ্রাসা এই এক্ট – ১০১ মানতে পারেনাই, মাদ্রাসার লাইসেন্স দিবেন না, মাদ্রাসা বাতিল হবে। সরকার মাদ্রাসা বন্ধ করবে তখন।

যদি সরকার এই এক্ট-১০১ না মানে? তাহলে আপনারা ওই মাদ্রাসাকে 'অবৈধ' বলে ঘোষণা দিন। এলাকায় বলে দিন যে এটা ভাল মাদ্রাসা না, এতে ছেলে-মেয়ে দিওনা। এট লিস্ট আপনারা মুক্ত হলেন। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কম নিতে হবে।

৫. সরকারের কাছে আবেদন জানান, যে কেউ মাদ্রাসায় থেকে অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হলে তার যাতে সবোর্চ্চ শাস্তি হয়। সরকারকে দিয়ে আইন বানান। এরপর দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রূত বিচারের জন্য আপনারা বেফাকের পক্ষ থেকে দৌড়াদৌড়ি করে শাস্তি বাস্তবায়ন করেন। ভিকটিমের পাশে গিয়ে দাড়ান, তাকে সরি বলেন। চুপ করে গর্তে লুকিয়ে থাকবেন না। গর্তে লুকিয়ে থাকলে দায় আরও বাড়বে। মানুষকে গিয়ে দেখা করে সরি বললে তাও দায় একটু কমে ।

=====

পয়েন্ট: ক-খ-ঙ-চ এবং ৪-৫ সবচে গুরুত্বপূর্ণ। ৪-৫ বাস্তবায়ন সহজ, তবে ক-খ-ঙ-চ একটু সময়সাপেক্ষ। ক-খ-গ : এসব প্রতিরোধ মূলক: লং টাইম;;;; আর ১-৫ : প্রতিকারমূলক, শর্ট টাইম। যদি এই প্রতিরোধ এবং প্রতিকারমূলক উভয় ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে পারেন, ইনশাআল্লাহ কওমী মাদ্রাসাগুলো ভবিষ্যতে রক্ষা পাবে। মানুষ বাংলা-ইংরেজী মিডিয়াম থেকে সন্তানকে বের করে কওমীতে দিবে।

কওমী মাদ্রাসা আমাদের গর্বের ধন, সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। এজন্যই এত কষ্ট করে এত কিছু আমরা লিখতেছি। মনে রাখবেন, যদি এখনই আপনারা উদ্যোগ না নেন, সমস্যা সমাধানে সবোর্চ্চ চেষ্টা না করেন, হয়তো আল্লাহ আপনাদের অন্য কাউকে দিয়ে রিপ্লেস করে দিবেন। ইসলাম ধ্বংস হবেনা, কিন্তু আপনারা হবেন। কাজেই গুরুত্ব দিয়ে কাজে নামুন, এই কাজ আপনাদের সাধ্যাতিত নয়, কষ্টসাধ্য হলেও সম্ভব।

'আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতিত কাজের ভার দেন না। (Quran: 2-286)

রক্ষা পাক কওমী মাদ্রাসা। কওমী মাদ্রাসাগুলো হোক বাচ্চাদের সুকুমার বৃত্তি গড়নের এক অনন্য প্রতিষ্ঠান; কওমী মাদ্রাসা থেকেই বের হয়ে আসুক উম্মাতের পাঞ্জেরী, তার অপেক্ষাতেই আমরা আছি। কওমী মাদ্রাসাই হোক সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভবিষ্যত বাংলার সব ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে।
====
সব মাদ্রাসা কিন্তু এরকম খ্রাপ না, তবে অনেকগুলা খারাপ। আমি জাস্ট বুঝানোর জন্য খ্রাপ সব বৈশিষ্ট্য একসাথে বলছি আরকি। (ডিসক্লেইমার)
====
পুনশ্চ: এগুলো আমার মত মাত্র, আপনারা ইচ্ছেমতন এডিট করতে পারেন। সমস্যার সমাধান সুন্নাহ র মধ্যে, সীরাতের মধ্যে। সেখানেই আসলে সব আছে।
জাযাকাল্লাহ।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-07 23:49:00