কিছু বিদায়ী ফ্যাক্টস দেই এরশাদ সাহেবের ব্যাপারে: – শাফকাত রাব্বী অনিক

কিছু বিদায়ী ফ্যাক্টস দেই এরশাদ সাহেবের ব্যাপারে:

– এরশাদ ছিলেন ইরাকের সাদ্দাম, লিবিয়ার গাদ্দাফি, মিশরের হুসনি মুবারাক , পাকিস্তানের জিয়াউল হক এর মতো নামজাদা স্বৈরাচারের সম সময়িক। এদের কারো কারো সাথে তার সরাসরি কমিউনিকেশন ও বন্ধুত্ব ছিল। বিশেষ করে ইরাকের সাথে তার একটা সম্পর্ক ছিল যেটা 1988 সালের বন্যার সময় বাংলাদেশের কাজে লেগেছিল।

এরশাদ জানতেন এই বড় বড় স্বৈরাচার কিভাবে তাদের দেশ চালান। কিন্তু এরশাদ মোটা দাগে এই সব স্বৈরাচারের থেকে নিজেকে বেটার ও নমনীয় শাসক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন (গান কবিতা লেখা, এতিম শিশুদের নিয়ে কাজ , ইত্যাদি)

– এরশাদের পরের প্রতিটা সরকার ছিল এরশাদের চাইতে এক সাইজ বড় স্বৈরাচার এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকারী।

– এরশাদের সময় প্রচুর আন্দোলন হতো। সমাজের প্রতিটি স্তরে লোক এই আন্দোলনে স্বরিক হতো। বিশেষ করে বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্ররা ও আর্টিস্টরা প্রচুর আন্দোলন করতো।

এরশাদের আমলে বিশ্ব-বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানতেন যে শায়ত্ত শাসিত বিশ্ব-বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি খেতে পারবে না সরকার। এসব আইনের কোন বালাই এখন আর দেশে নাই।

– এরশাদের আগের এবং পরের প্রতিটি সরকারের হাতে অনেক বেশি হারে দেশের নাগরিক গুলি খেয়েছে কিংবা মারা পড়েছে।

– এরশাদের আমলে মিছিলে গুলি চালাতে হলে মেজিস্ট্রেটের কাছ থেকে পুলিশের পারমিশন নিতে হতো। এর ফলে মিছিলে সরাসরি গুলির কালচার অনেক অনেক কম ছিল এরশাদ আমলে।

এরশাদকে নিয়ে আমার খুব সিম্পল উপসংহার হলো:

এরশাদ ছিলেন একজন উইক ম্যান, একটা স্ট্রং ম্যানের শরীরে।

তিনি হয়তো ডিক্টেটর ছিলেন, কিন্তু টাইরান্ট ছিলেন না।

তার পরে যারা এসেছে, তারা ডিক্টেটর না হলেও সবাই কম বেশি ছিলেন এক একটা টাইরান্ট।

Shafquat Rabbee Anik | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-14 11:46:58