"পিনাকী বাংলাদেশের মেজরিটি মুসলমানদের তেল মেরে নিজের পিঠ বাঁচায়" – পিনাকী ভট্টাচার্য

“পিনাকী বাংলাদেশের মেজরিটি মুসলমানদের তেল মেরে নিজের পিঠ বাঁচায়”

এইটা হচ্ছে আমার বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান, বাংলাদেশের হিন্দু, বাম এমনকি আওয়ামী লীগের একাংশের প্রচারণা। এরা নিজেদের আধুনিক ও প্রগতিশীল বলে দাবী করে। কোলকাতার “ভাবনা” বলে একটা গ্রুপের মন্তব্যে আমার নামে এই মত জোরেসোরেই ব্যক্ত করা হয়েছে।

এদের কাছে আমি বাংলাদেশের একজন “মাইনরিটি” সম্প্রদায়ের সদস্য, আমি বাংলাদেশের নাগরিক নই। কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকেরা কখনোই মাইনরিটি-মেজরিটিতে বিভক্ত হয়ে থাকেনা। তাঁরা সবাই সম অধিকার নিয়ে দেশের নাগরিক। প্রতিটা ঠিকঠাক ভাবে চলা রাষ্ট্রই তার নাগরিকদের পিঠ বাঁচায়। এই পিঠ বাঁচানোর চুক্তির নাম সোস্যাল কন্ট্র্যাক্ট, যা সংবিধান হিসেবে মূর্ত হয়।

সংবিধান আর তার উপরে গড়ে ওঠা রাষ্ট্র যদি আমার পিঠ বাঁচাতে না পারে, তাহলে তো রাষ্ট্রটাই ঠিকঠাক গড়া হয়নি।

বাংলাদেশে তাই আলাদা করে “হিন্দু স্বার্থ” বা “মুসলমান স্বার্থ” বলে কিছু থাকতে পারেনা; থাকতে পারে শুধু “নাগরিক অধিকার”।

এরা নিজেদের আধুনিক ও প্রগতিশীল বলে দাবী করলেও আদতে অনাধুনিক এবং “রাষ্ট্র” ও “নাগরিক” ধারণাটাই বুঝতে অক্ষম।

বাংলাদেশের জনগোষ্ঠির একটা সার্বভৌম স্বার্থ আছে। সেই স্বার্থের পক্ষে যারা দাঁড়ায়না না আর সেই স্বার্থকে যারা মেজরিটি মুসলমানের স্বার্থ বলে পরিচয় করিয়ে দিতে চায় তারা আসলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকেই চায়না।

এরা সম্প্রদায়ে আর ধর্মে দেশকে ভার্চুয়ালি বিভক্ত রেখে আমাদের রাষ্ট্র গড়তে দিতে চায়না।

একটা রাষ্ট্রে নিশ্চয়ই নানা ধর্ম থাকবে, নানা ভাষা থাকবে। ভিন্ন ধর্ম বা ভাষার বা ভিন্ন পরিচয়কে রাষ্ট্র কীভাবে মোকাবেলা করছে সেটা দিয়েই নির্ধারিত হয় রাষ্ট্র নাগরিকের হয়ে উঠতে পেরেছে কিনা।

আমাদের লড়াই রাষ্ট্রকে সব নাগরিকের স্বার্থের রক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা, রাষ্ট্রকে হিন্দু বা মুসলমান বান্ধব করে তোলা নয়। ওটা তাহলে রাষ্ট্র নয়। ওটা মাফিয়া রাজ্য।

রাষ্ট্রকে নাগরিকের করে গড়ে তুলুন। নিজে নাগরিক হোন। তাহলে সংখ্যালঘুর হীনমন্যতা আর সংখ্যাগুরুর দম্ভ অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে।

আমার লড়াই “নাগরিকের রাষ্ট্র” গড়ার লড়াই।

PB/FS/1/17AUG2019

Pinaki Bhattacharya | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-08-17 16:36:12