এসকে টিভি নামে একটা ইউটিউব চ্যানেলের দুই এডমিনকে র‌্যাব গত রাতে গ্রেফত – কদরউদ্দিন শিশির

এসকে টিভি নামে একটা ইউটিউব চ্যানেলের দুই এডমিনকে র‌্যাব গত রাতে গ্রেফতার করেছে। তাদের খালিদ বিন আহমেদ ও মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ।

চ্যানেলটিতে ঢুঁ দিয়ে দেখলাম বেশ জনপ্রিয়। ২ বছর সময়ের মধ্যে ১৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার তাদের। ভিডিওগুলো প্রচুর ভিউ হয়। লাখে লাখে। সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ভিডিওটি ৭৫ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে। ১০ লাখের বেশি ভিউ হওয়া ভিডিও ১০টির বেশি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত মোট ভিউ প্রায় ৪৮ কোটি। হিসাব করে দেখলাম প্রতিদিন গড়ে ভিউ ৫ লাখ ৮১ হাজার। অর্থা, চ্যানেলটির প্রভাব বলতে গেলে হিউজ।

চ্যানেলটি কী পাবলিশ করে? ঘেঁটে যা পেলাম তাতে কোট আনকোট করে বলা যাবে ‘নিউজ’। একটু বিস্তারিত করে বললে, এটিতে যা প্রকাশ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে- ফেইক নিউজ, সঠিক কোনো নিউজের অতিরঞ্জন, গসিপ, আবেগী প্রপাগান্ডা ইত্যাদি।

বাংলাদেশি নিউজ ভিত্তিক টিভি চ্যানেলগুলোর কোনোটিরই ইউটিউব চ্যানেল সম্ভবত এত ‘জনপ্রিয়’ নয়। ইউটিউবে ১৫ লাখ সাবস্ক্রাইবার কোনো বাংলাদেশি নিউজ চ্যানেলের নাই। ২ বছর সময় ধরে ডেইলি গড়ে কোনো নিউজ চ্যানেলের ইউটিউবে ৬ লাখ ভিউ হওয়ার প্রশ্নই আসে না!

গসিপ ইত্যাদি প্রচার করা কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু ফেইক নিউজ বা কোনো সত্যিকারের সংবাদকে কোনো ধরনের সূত্র থেকে যাচাই করা ছাড়া ডেস্কে বসে নিজের মতো করে অতিরঞ্জিত তথ্য/বক্তব্য জুড়ে দিয়ে ‘সংবাদ’ আকারে প্রকাশ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা অপরাধ এবং অনৈতিক।

সেলফ সেন্সরশিপ এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশের মিডিয়ায় মানুষের আস্থা কম। তাই তারা বিকল্প খুঁজেন। ইউটিউব ফেসবুক তাই বিকল্প হয়ে উঠছে তাদের কাছে। আর এরই সুযোগ নিচ্ছেন কিছু লোক। তারা অন্য সংবাদমাধ্যম থেকে নানা সংবাদ বাছাই করে সেগুলোকে মানুষের চাহিদা মতো এবং নিজেদের ইচ্ছা মতো সাজিয়ে প্রকাশ করছেন ‘সংবাদ’ আকারে। এই প্রকাশকরা একটি সংবাদও নিজের সূত্র থেকে ভেরিফাই করে প্রকাশের যোগ্যতা বা সামর্থ্য রাখেন না। কিন্তু লাখ লাখ মানুষ মনে করেন (নিজেদের আজাম্পশনের সাথে মিলে যাওয়ার কারণে) ‘এগুলো মূলধারার সংবাদের চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য’!

এসকে টিভির মতো আরও প্রচুর চ্যানেল আছে যারা আসলে ভুয়া সংবাদের কারখানা, নানা পত্রিকা/টিভির সূত্র ব্যবহার করে নিজেদের মতো খবর দেয়। এগুলো বন্ধ হওয়া উচিত। এসবের সাথে জড়িতরা আইনি শাস্তির আওতায় আসা উচিত।

মতামত ভিত্তিক কিছু চ্যানেল আছে, সেগুলোর কথা আলাদা। তারাও নিজের বা অন্যের মতামতকে ক্লিকবেইট আকারে প্রচার করেন। এটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু কোনো বিষয়কে ভূয়া/নামহীন সূত্রের বরাতে সংবাদ আকারে প্রচার করার বিষয়টি খুবই সেন্সিটিভ। যে কেউ ইচ্ছানুযায়ী ভুলশুদ্ধ তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করবে- সেটা মূল ধারার মিডিয়া হোক আর বিকল্প- সবারই আইনের আওতায় আসা উচিত।



Qadaruddin Shishir | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-10-06 14:59:03