বাংলাদেশের মানুষ একটা প্যারাডক্স। তারা একদিকে চরম কূটিল, স্বার্থান্বেষ – আমান আবদুহু

বাংলাদেশের মানুষ একটা প্যারাডক্স। তারা একদিকে চরম কূটিল, স্বার্থান্বেষী এবং মোটামুটি মানের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিভার পরিচয় দেয়, আবার অন্যদিকে তারাই বেশ সহজ সরল। এতোটাই সহজ সরল যে তাদেরকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই বেকুব হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।

এইসব বেকুবদের সামনে একটা মুলা ঝুলিয়ে পেছনে কলের চাবি ঘুরাবেন। চাবি যতই ঘুরাবেন তাদের গিয়ার ততই নিচে নামতে থাকবে, একসময় পুরোপুরি লো গিয়ারে গর্জন করতে করতে সামনের দিকে ছুটে গিয়ে তারা উত্তেজনায় ফেটে পড়বে।

ইসকন প্রসঙ্গে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন মানুষের পেছনে চাবি ঘুরিয়ে গেছেন। শেষপর্যন্ত ভোলায় আজকে ঈমান আমল রক্ষায়, আল্লাহ ও রাসুল সা. এর প্রতি ফেইসবুকে কটুক্তির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে পুলিশের গুলিতে ছয়জন মারা গেছে, আহত অসংখ্য।

পত্রিকাগুলো যেখানে ছয়জনের কথা বলতেছে, মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা আসলে দশ বা বারো থেকে বিশজনের মতো হওয়াও অসম্ভব না। স্বৈরাচারী সরকার নিয়মিত লাশ খেয়ে ফেলে।

এই যে সালমান রুশদী থেকে শুরু হয়ে তসলিমা নাসরিন থেকে আজ পর্যন্ত ফেইসবুকে বিপ্লব চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ তৌহিদী জনতা তুমুল গর্জনে রাস্তায় নেমে আসে, তাদের এই আবেগকে আমি সম্মান করি, তাদের জযবাকে দামী মনে করি কিন্তু আলটিমেটলি তাদের লম্ফঝম্ফের ফুল প্যাকেজটা হলো আলটিমেট বেকুবগিরি। আখেরে এতে বুশ-ব্লেয়ার কিংবা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ লাভবান হয় না। কারণ ঘটনাচক্রের হাজার হাজার মাছ যখন দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে সেই বিপুল পরিমাণ মৎস্য আহরণের জন্য বড় জাল কেবলমাত্র তাদেরই আছে। মুসলমানদের মধ্যে এইরকম জাল এরদোয়ান হুজুরের আছে। আপনাদের সেই জাল নেই। সুতরাং খালি খালি মাছগুলোতে দৌড়ের উপর তুলে দিয়ে শেখ হাসিনার জন্য উৎসবের মওসুম শুরু করে দেন।

আজকের এই ঘটনায় দাড়ি টুপি সাদা পাঞ্জাবীর সাথে রক্তের ভয়াবহ কনট্রাস্টের ছবি সহ তুখোড় সব ইংলিশ রিপোর্ট তৈরী হচ্ছে এখন। বিদেশীরা জানবে বাংলাদেশে উগ্র জঙ্গিবাদের অবস্থা খারাপ, এই সরকার একশনে আছে। সুতরাং কয়েকমাস পরে যখন আপনি বেহুদা ক্রসফায়ারে বেমালুম অক্কা পাবেন তখন সেই খবরে বিদেশীরা কান দেবে না, কারণ এই সরকার একশনে আছে।

সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইনকে কি আমি দোষী মনে করি? না। উনি মোটামুটি ভালো কাজই করেছেন। বংলাদেশে পুরোদমে বৈষম্য এবং ব্রাক্ষণ্যবাদী শয়তানি চলতেছে সরকারী স্পন্সরশিপে। এর বিরুদ্ধে আঙ্গুল তোলার পর্যন্ত কেউ নাই। সুতরাং ইলিয়াস হোসাইনের জায়গায় তিনি আমার কাছে প্রশংসাযোগ্য। আমি জানি একজন যোগ্য বাংলাদেশী সাংবাদিক হিসেবে তিনি যে কোন সময় পল্টি মেরে দিবেন, এক ফোঁটা সংশয় নাই, তবে এভারেজ আইকিউর বাংলাদেশীদের জন্য তার বর্তমান ভূমিকার একটা মূল্য এবং সম্মান অকুণ্ঠচিত্তে দিতে আমি প্রস্তুত। তাতে প্রগতিবাদীরা হাউকাউ করলেও পাত্তা দেয়ার কিছু নাই। তারা বরং বেশি শয়তান। তাদের কারণেই আজকে এই অবস্থা।

সাংবাদিক শাহেদ আলমকে কি আমি খারাপ মনে করি? বিন্দুমাত্র না। তাকে বরং অপেক্ষাকৃত 'প্রয়োজনীয়' মনে করি। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজে তার মতো ভূমিকা নিতে পারলে ভালো লাগতো। সমস্যা হলো তার কথা বুঝার মতো অবস্থায় ঠান্ডা অবস্থায় তৌহিদী জনতা নাই, তারা সবসময় উত্তপ্ত থাকে। আওয়ামী লীগের মতো পক্ষগুলো সবসময় এনশিওর করে কয়লার যেন কমতি না হয়। এইটা একটা অন্ধচক্র।

পরিশেষে নিহত ছয় বা দশ বা বিশজনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আপনারা হয়তো বা পরকালের বিচারে অনেক সফল হয়ে গেছেন, নিশ্চিতভাবে জানার কোন সুযোগ আমাদের নাই। কিন্তু দুনিয়ার বিচারে আপনারা কেবলমাত্র শেখ হাসিনাদের দাবা খেলায় এবং বড়ু হুজুরদের আদাবত/মুহাব্বাতের রশি টানাটানিতে স্রেফ ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃতই হয়ে গেলেন।

Aman Abduhu | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-10-20 15:50:13