আমাগো আবুল ভাই। টং এর একটা ঘরে জন্ম নিছেন। বাপ গরীব মানুষ। পড়ালেখা সের – রেজাউল করিম ভূইয়া

আমাগো আবুল ভাই। টং এর একটা ঘরে জন্ম নিছেন। বাপ গরীব মানুষ। পড়ালেখা সেরকম করাইতে পারেনাই। কোনরকম ৪-৫ পর্যন্ত পড়াশোনা করছে।

তারপর বাপে কইলো, শুনরে আবুল, এত পড়াশুনা কইরা কি করবি শুনি। একটু ইনকাম কর। নে রিক্সাটা চালা।

মাত্র ১২ বছরেই রিক্সাটা হাতে নিলো আবুল। ১৫ বছরেই মাসে ২০ হাজার টাকা ইনকাম। ১৬ বছর বয়সেই বাপে কইলো, পোলা এত বড় হই গেছছ, তোর তো বিয়া করা দরকার। আবুলও ….. আবুলের মনে তো বাকবাক বাকবাক বাকবাকুম বাক….।

এখন আবুলের বয়স ২০ । মাসে মোটামুটি ২৫ হাজার টাকা ইনকাম। গরীব মানুষ হওয়ায় বাসা ভাড়া মাত্র দেড় হাজার টাকা। মাস শেষে অনেক টাকা বাচে। ৩ টা পারসোনাল এসিসটেস্ট বাসায়, সারাদিন কোলে আইসা বইসা থাকে।

মাসে প্রতিদিন চালান লাগেনা। মাত্র সপ্তাহে ৪-৫ দিন চালায়। মনে হইলে চালায়, মনে না হইলে চালায় না। কোন প্রেসার নাই। এত টাকা কি করবে ভাবে?

ঘটক পাখি ভাইও পিছে ধরছে। খালী ঘরের পাগলীটারে রাজী করতে পারলেই ইছনানা হবে ইনশাআল্লাহ …..

=======
এদিকে আবুল প্রতিদিন বুয়েট পাশ শিক্ষিত গাধা (শিগা) ভাইরে পলাশী থেকে শাহবাগ পৌছায়। শিগা ভাই বুয়েট থেকে পাশ করছে নতুন। শিগা ভাই এর সাথে সবসময় তার বন্ধু শিহা ভাই থাকে । শিহা (হা=হাবা) ভাই ঢাবি থেকে পাশ করছে। দুই বন্ধু এখনও চাকরি পায়নাই ঘুরতেছে। দুই বন্ধুই এখনও বিয়ে করতে পারেনাই। যাদের করার কথা ছিল, তাদের একজন বিসিএস ক্যাডার বড় ভাইরে বিয়ে করছে, আরেকজন আম্রিকা পাড়ি জমাইছে, বড় ভাইকে বিয়ে করেই। কাজেই এখন শিহা আর শিগা দুইজন আবুল ভাইয়ের রিক্সায় বসে বাদাম খায় আর রিক্সায় ঘুরে গল্প করে।

শিহা আর শিগা ভাই গল্প করতেছে:

–> দোস্ত ভাবতেছি, আর কতদিন বেকার থাকবো, ভাবতেছি জয়েন করেই ফেলি।

===> কিন্তু এত কম টাকা বেতন? মাত্র দশ হাজারে জয়েন করবি?

—> আগের ইন্টারভিউয়ে তো ৮ হাজার সাধছিল। দুই অংক না হলে খারাপ দেখায়, এটা তো তাও দুই অংক। খারাপ কি কহ? অন্যরা তো ইভেন এক অংকেই জয়েন করতেছে।

===>হ রে, সারাজীবন শুনলাম, পড়ালেখা করে যে, গাড়ী ঘোড়ায় চড়ে সে। এত কষ্ট কইরা ইন্টার পাশ করলাম, বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা দিলাম, কত গুলা সেমিস্টার পাশ করলাম, কত কষ্ট করলাম। এখন তো দেখি রিক্সা চালানোই ভাল ছিল।

—> কিছু করার নাই বন্ধু, এখন আর সম্ভব না, সোসাইটির ফান্দে পইড়া গেছো। এখন আরও পাচ বছর চাকরি করার পরে বেতন ২০ হাজার হবে। অথচ দেখো আমাগো আবুল ভাই অলরেডী ২৫ হাজার কামায়। জিজ্ঞেস কর, আবুল ভাই আমার বন্ধু টাইপ মানুষ।

===> কি আবুল ভাই, সত্যি নাকি?

++++ আফনেগো দোয়া , আলহামদুলিল্লাহ ভাল ইনকাম। জোরে টানতে টানতে বললো আবুল ভাই।

—-> আবুল ভাই, আপনার নাকি বিয়া, দাওয়াত দিবেন না? বলে উঠো শিহা।

++++ ভাই, এইটাতো আমার দুই নাম্বার। এত অনুষ্ঠান করার দরকার কি কন?

—-> আবুল ভাই, তাড়াতাড়ি রিক্সা ঢাকা মেডিকেলের দিকে ঘুরান , তাড়াতাড়ি।

++++ হায় হায় কি হইছে কি হইছে?

——> ভাই, শিগা তো মনে হয় একটু অজ্ঞান হয়ে গেছে। শিহা জবাব দিলো …..

তাড়াতাড়ি রিক্সা ঘুরালো আবুল ভাই। ডিএমসিতে যেতে হবে। এ অভিজ্ঞতা তার নতুন না। আগেও হইছে দুই বার। এই কথাটা বললেই শিগারা অজ্ঞান হয় কেন সে একটু একটু বুঝে এখন।

=======

মেডিকেলের বারান্দায় আবুল ভাই। আজকে থেকেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ ধরে ফেলবে ভাবতেছে। আল্লাহ এত সুখ দিলো, একটু শুকরিয়া করা দরকার।

এইসব শিগা/ শিহা রা এত বড় বড় ধামড়া এখনও বিয়া করতে পারেনা, আর তারে আল্লাহ ৩ টা এসিসটেন্ট সহ দুই জন আন নিসা দান করছেন, এই সুখ আর সইতেছেনা আবুল ভাইয়ের।

''বুঝিনা এত পড়াশুনা কইরা কি লাভ?'' এই প্রশ্নটা মনের মধ্যে ঘুরে আবুল ভাইয়ের। হুজুরে ঠিকই কইছিল: 'মুখ দিছেন যিনি, আহার দিবেন তিনি।' যারা বেশী বুঝে তাদের এমনই হয়। আমি গরীব হইয়াও কত ভাল আছি।

=======

তাড়াতাড়ি অযু খানায় …..তাড়াতাড়ি সিজদা দিলো আবুল ভাই।
======

এটা একটা ফান ছোটগল্প। বেশী সিরিয়াসলী নিয়ে মন খারাপ করবেন না। । জীবন মানেই এমন, আল্লাহ যাকে যা দিয়েছে, তাকে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-02 10:36:44