কথোপকথনঃ – আমান আবদুহু

কথোপকথনঃ

ইয়াসমিন- কি গো, কয়েকদিন ধরে খুব মনমরা দেখাচ্ছে কেন তোমাকে?
জাফর – আর বলো না। এই যে আবরার ছেলেটা মারা গেলো। এখন আমি কি করবো?
ইয়াসমিন- কেন? কি সমস্যা? লিখে ফেলো ভালোভাবে একটা কলাম।
জাফর- ওখানেই তো সমস্যা। ছেলেটাকে তো ছাএলীগের ছেলেরা মেরেছে। অনেক চেষ্টা করেও এঙ্গেল ফিট করতে পারছি না।
ইয়াসমিন- তাহলে এবার আমি একটা লিখে দেই? তোমার নামে ছেড়ে দাও।
জাফর- লিখে দিবে? দাও তাহলে।

কয়েকঘন্টা পর ইয়াসমিনের রচিত দানব সংক্রান্ত খটমটে ভাষার প্রবন্ধ পাঠ করে জাফরের মুত্রাবেগ পেয়ে গেলো। দ্রুত সে বাথরুমে গিয়ে ব্লাডার হালকা করে আসলো। কপালে চিকন ঘামের রেখা। হাত কাঁপতেছে।

ইয়াসমিন- ওগো কেমন হয়েছে?
জাফর- দুর্দান্ত। ঠিক যেমনটা চেয়েছিলাম।
জাফর (জনান্তিকে): শালীর ঘরের শালী কাজটা করছেটা কি! এখন দুইদিকে বিপদ। একদিকে পাবলিক প্রেশার। আরেকদিকে এইটা না দিলে ঘরে ঝাড়ুর পিডা। আল্লাহ মাবুদ তুমি রহম করো।

পরেরদিন জাফরের ফোনে ক্রিং ক্রিং। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভক্সুদ বলছি। উনি কথা বলবেন।

উনি- জাফর তুনে কেয়া কিয়া‍‍!! এইটা আপনি কি করলেন?
জাফর- আপা ভুল হয়ে গেছে। আপনার পায়ে পড়ি। মাফ করে দেন।
উনি- কিভাবে মাফ করি? আপনি তো নিজের ফিল্টারেই ধরা খেয়ে গেছেন। আপনি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে লিখেছেন। আপনি কি পাকিস্তানী দালাল?
জাফর- আপা আমাকে একটা সপ্তাহ সময় দেন। শেষবারের মতো। সারাজীবন আপনার সেবা করেছি। আপনাকে আমি হতাশ করবো না।
উনি- আচ্ছা ঠিক আছে। দেখি কি করেন। কুছ তো মিলা।

দরজা জানালা বন্ধ করে ছিয়ানব্বই সালে কেনা টিভি দারাজে বেঁচে দিয়ে মোবাইলের সুইচ অফ করে ফেইসবুকের বেনামী একাউন্ট ডিএকটিভেট করে জাফর কাজে নেমে পড়লো। এবার তার অগ্নিপরীক্ষা। সম্বল তার কম্বলখানি থুক্কু সারাজীবনের চর্চিত ও সঞ্চিত মহামূল্যবান সিক্রেট রেসিপি।

সাড়ে সাতশ গ্রাম হ্যান্ডপিকড বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের কালো ইতিহাসকে অপর্যাপ্ত পরিমান সোঁদা সোঁদা আবেগে ভিজিয়ে রাখুন। চব্বিশ ঘন্টা পর সব ভালোভাবে মিলে আসলে তাতে তিন টেবিল চামচ দেশপ্রেম ও তিন টেবিল চামচ মুক্তিযুুদ্ধের ত্যানা থুক্কু চেতনা ভালো ভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাখান। কলাপাতায় মুড়িয়ে তা হেফাজত ও শাহবাগের গনগনে প্রি-হিটেড কয়লার এক হাত উপরে তন্দুরীতে পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার জন্য স্লো কুকে চড়িয়ে দিন। প্রতি তিন ঘন্টা পর পর উপর থেকে একাত্তরের ভয়াবহ সংগ্রামমুখর স্মৃতির রস ফোঁটায় ফোঁটায় ঢেলে দিন।

আটচল্লিশ ঘন্টা পর রান্না পাকাপোক্ত হয়ে লেখাটি সুপক্ক, নরম ও জাফরীয় হয়ে আসবে।

তিনদিন পর ইয়াসমিন- কি গো, তোমাকে খুব ফুরফুরে দেখাচ্ছে।
জাফর- এই আর কি একটা সাদাসিধে লিখে ফেল্লুম।
জাফর (জনান্তিকে): বহুদিনের আটকে থাকা কোষ্ঠ ক্লিয়ার হয়ে যাওয়ার আনন্দ কেউ কি বুঝতে পারে? অক্ষরে অক্ষরে মিশিয়ে সব ছেড়ে দিয়েছি। কি যে হালকা অনুভূতি। #থ্যাংকিউপিএম

Aman Abduhu | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-10-19 06:36:47