আজ এক সপ্তাহ হল আমি রাজুতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। সীমান্ত হত্যার – কল্লোল মোস্তফা

আজ এক সপ্তাহ হল আমি রাজুতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। সীমান্ত হত্যার বিচার এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আমার অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছি। এ দাবি মেনে নিবে কে? বর্তমান সরকার নাকি জনগণ? জনগণ যখন নিজেদের ভোটাধিকার আর মতপ্রকাশের অধিকার থেকে বঞ্চিত তখন এ দাবি পূরণে সরকার কোন ভূমিকা রাখবেনা এটাই স্বাভাবিক। কারণ অধিকার হরণ করার ফলে এ সরকারের জনগণের প্রতি কোন দায় নেই। কিন্তু জনগণ কি চুপ থাকবে?

না, আমি মনে করি জনগণ চুপ থাকবেনা। তারা ভয়ের বৃত্ত ভাঙ্গবে। তারা রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের দখলদারিত্ব বিরোধিতায় উচ্চকণ্ঠ হবে। জনগণ জানে, বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার খুটি ধরে নাড়া দিলেই জনগণ সীমান্তে এবং দেশের ভেতর সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হবে।

আর জনগণের এ বিশ্বাস আর প্রত্যয়ের রাজনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যেই আমার এ অবস্থান। মুক্তির লড়াইয়ে ছাত্রদের সাথে জনগণের যে মৈত্রী ও সংহতির সম্পর্ক তার ধারাবাহিকতায় যে চিড় ধরেছে সে সম্পর্কের নতুন সূত্রধর হিসেবে আমি আমার অবস্থানকে ন্যায্য ও সময়ের দাবির কার্যকর প্রতিফলন হিসেবে চিন্তা করছি।

সীমান্ত হত্যা এবং ভারতের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনগণের চাপা ক্ষোভের সমান্তরালে যে বিশ্বাস ও প্রত্যয় তাদের মনে হাজির আছে তাই আগামী দিনের সকল গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মূল শক্তি। এ শক্তিকে যথাযথ অনুধাবন ব্যতিরেকে কোন ধরনের গণতান্ত্রিক লড়াই সফলতার মুখ দেখবেনা। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সহজ সত্য অনুধাবনে বারবার ভুল করছেন।

বিরাজনীতিকরণের এ সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সৎ থেকে অব্যাহত কর্মসূচি পালনের সাহসই ভয়ের ভিত আর বৃত্ত ভেঙ্গে দেয়ার একমাত্র উপায়। আমি চাই ছাত্র-জনতা এ সততা আর সাহসের নজির স্থাপন করুক। ততদিন আমি আমার অবস্থান আর আহবান অব্যাহত রাখবো।

বাঁধভাঙা সব আসুক রাগ, কন্ঠে মোদের স্লোগান থাক- আরে! দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা!

রাজু ভাস্কর্য
৩১/০১/২০২০

Kallol Mustafa | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-01 00:56:54