আলোচনা আর সংলাপের একাল সেকাল – – সাবিনা আহমেদ

আলোচনা আর সংলাপের একাল সেকাল –

ইয়াহিয়া খানেরাও মনে করত পাকিস্তানের সরকার গঠন কেবল তারাই করবে। পাকিস্তান শাসন কেবল তারাই করবে। পাকিস্তানের উন্নয়ন কেবল তাদের দ্বারাই সম্ভব। নিদেন পক্ষে শেখ মুজিব ক্যান বি দ্যা প্রাইম মিনিস্টার অফ পূর্ব পাকিস্তান অনলি।

খান-ভুট্টোরা নির্বাচনের ফলাফল মানতে রাজি ছিল না। তাই ৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রচুর আলোচনা চলে, আর জাতীকে জানানো হয় আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে। কিন্তু ভিতর ভিতর ইয়াহিয়া সরকার বাঙ্গালীকে উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল। পুরা আলোচনা এক সময় হয়ে দাঁড়ায় জাস্ট একটা ভাঁওতাবাজি। এর পর ২৫ শে মার্চের রাতে পাকিস্তান সামরিক জান্তা বসায় মরন কামড়, অপারেশন সার্চ লাইট। আর খুব দ্রুত আলোচনা থেকে চলে যায় সামরিক হামলায় আর সেখান থেকে স্বাধীনতার যুদ্ধে।

আলোচনা বা সংলাপ সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধান এনে দেয় না। সংলাপের জন্য দুই পক্ষের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকার প্রয়োজন নাই, কিন্তু মিউচুয়াল রেস্পেক্ট থাকা জরুরি। সেটার অভাব হলে সংলাপ ফলপ্রসূ হয় না। যার প্রমান আমাদের ৭১ এর যুদ্ধ।

অপারেশান সার্চ লাইটের প্রারম্ভেই যখন আওয়ামী নেতারা কোলকাতামুখি, বোরখা পরে পলায়নপর, স্যুটকেস আর পাইপ নিয়ে শেখ মুজিব যখন গ্রেফতারের জন্য রেডি, তখন কিন্তু ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের জওয়ান আর ইস্ট পাকিস্তান রেজিমেন্টের কিছু সেনা বন্দুক হাতে তুলে নেয়। কিন্তু তা হতো কেবল বিদ্রোহ যদি জিয়াউর রহমান তাকে স্বাধীনতার লড়াই বলে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণা না দিত। স্বাধীনতার ঘোষণাই এসব সেনা বিদ্রোহকে স্বাধীনতার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। যারা বন্দুক ফেলে পালাচ্ছিল, তারাও সেই ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বন্দুক হাতে তুলে নেয়। সেই বিপদে যখন সবাই দিক্বিদিক শুন্য হয়ে ছুটছিল, পালাচ্ছিল, তখন জাতীকে সঠিক পথ দেখানোর সূচনটা করেছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।

কোন কারনে ধরা পড়ে গেলে মেজর জিয়ার জন্য নিশ্চিত ছিল রাষ্ট্রদোহীতার দায়ে ফায়ারিং স্কোয়াড। সামরিক বাহিনীর লোকদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বন্দুক তুলে নেয়া মানে কোর্ট মার্শাল হয়ে সোজা ফাঁসী বা ফায়ারিং স্কোয়াড। আর রাজনীতিবিদ? তাদের কাজই হচ্ছে বিরোধী দলে থাকাকালে সরকারের সমালোচনা করা আর সরকারী দলে থাকাকালে তাবেদারি।

আজ এতকাল পরে মনে হয় আওয়ামী লীগ ৭১ এর ইতিহাস থেকে যেই প্রধান শিক্ষাটা নিয়েছে তা হলো নিজেকে দেশের এলিট শাসক ক্লাস মনে করা, যা ইয়াহিয়া-ভূট্টোরা মনে করত। কিন্তু যা ভুলে গেছে তা হলো দেশ আল্টিমেটলি এই এলিট শাসক ক্লাসকে ছুড়ে ফেলে দেয়, আজ অথবা কাল। সেটাই প্রকৃতির নিয়ম। আর প্রাকৃতিক ভাবেই জাতিকে সঠিক পথে ঠেলে দেয় একজন মেজর জিয়া।

Sabina Ahmed | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-11-02 21:06:44