নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের কোন অর্থ হয় না। কিন্তু যেখানে গণতন্ত্রই কায়েম হয় নি, এব – ফরহাদ মজহার

নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রের কোন অর্থ হয় না। কিন্তু যেখানে গণতন্ত্রই কায়েম হয় নি, এবং রাষ্ট্র একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থায় পর্যবসিত সেখানে নির্বাচন মানে ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া। অর্থাৎ বিদ্যমান ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা কায়েম রাখা। বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করবার জন্য শাসক ফ্যাসিস্ট শ্রেণিরই পুরানা তরিকা হিশাবে আন্দোলন-সংগ্রামের বিপরীতে হাজির হয়েছে নির্বাচন। এটা নতুন কিছু নয়। অতীতেও হয়েছে। শোষক ফ্যাসিস্ট শ্রেণির নিজেদের মধ্যে আপোষ রফার পথ এটা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গণতন্ত্র কায়েমের জন্য রাজপথে জনগণের লড়াই-সংগ্রাম নস্যাৎ করবার জন্য নির্বাচনী হুজুগ তোলা খুবই স্বাভাবিক একটি কৌশল। এই ভুল ধারনা তো বদ্ধমূল করতেই হবে যে নির্বাচন হলেই দেশের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

নির্বাচনবাদ ভয়ংকর। অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির সমস্যা এবং তার আলোচনা বেমালুম গায়েব করে দিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য বিষয় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, মাসুদা ভাট্টি এবং তসলিমা নাসরীন। বিষয় কী? কে কাকে 'চরিত্রহীন' বলছে সেই তর্ক। চালিয়ে যান!

তো তামাশা করতে থাকুন, প্রিয় দেশবাসী। ফ্যাসিস্ট রাষ্ট ব্যবস্থাই আপনাদের প্রাপ্য। যেসব সম্পাদকরা দৈনিক আমার দেশ বন্ধ হবার পর যাক আমার দেশ গেলো বাঁচা গেলো, মাহমুদুর রহমানের উচিত শিক্ষা হয়েছে ভেবে আনন্দিত ছিলেন আজ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার আঞ্জাম হয়েছে। আহা রে! তাঁরা এখন রাস্তায় দাঁড়াচ্ছেন। লোক দেখাতে? দেখুন, বিড়াল প্রথম রাতেই মারতে হয়। দৈনিক আমার দেশ কেন্দ্র করেই বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না তার ফয়সালা হয়ে গিয়েছে।

এখন সম্পাদকরা কেন রাস্তায় নামছেন? এই জন্য নয় যে তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, কারন আমার দেশ, দিগন্ত টেলিভিশান ইত্যাদির ক্ষেত্রে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতার বিরোধী সুদৃঢ় অবস্থানই আমরা দেখেছি। এখন মুশকিল হবে এই যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে তারা যেসব সংবাদ ছাপবেন সেইসব পয়সা দিয়ে কেউ কিনে পড়বে না।

জয় হোক সোশ্যাল নেট ওয়ার্কিং ও গেরিলা সাংবাদিকতার।

একটা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা মানুষের টুঁটি টিপে ধরেছে, ব্যাংক সহ সর্বত্র হরির লুট চলছে, গুম করে আইনবহির্ভূত ভাবে মানুষ খুন করা হচ্ছে, বিচার ব্যবস্থা বলে কিছু নাই, অনির্বাচিতরা যা করতে চাইছে তাই হয়ে যাচ্ছে আইন। কোটা সংস্কার আন্দোলন কিম্বা নিরাপদ সড়কের মতো আন্দোলন ভুলে গিয়ে আমাদের এখন তর্ক করতে হচ্ছে ডাক্তার বদরুদ্দোজা কতো ভাল লোক ছিলেন!

আর, ইলেকশান তো হবেই, তাই না? এটাই তো আমরা চাই। কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগারে পচুক!!! পচুক হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী, এমনকি শহিদুল আলমও!

মাশাল্লাহ, শেখ হাসিনাকে সরিয়ে আগামি দিনে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন? ডক্টর কামাল হোসেন, নাকি ডাক্তার বদরুদ্দোজা?

গুড লাক। পারলে চেষ্টা করেন!

ফরহাদ মজহার | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-10-23 05:07:54