সব দেশের জাতীয় সঙ্গীতগুলোর ভাষা কাছাকাছি হয়। আপনি চাইলে এক দেশের জাতীয় – এএসএম ফখরুল ইসলাম

সব দেশের জাতীয় সঙ্গীতগুলোর ভাষা কাছাকাছি হয়। আপনি চাইলে এক দেশের জাতীয় সঙ্গীত আরেক দেশের জাতীয় সঙ্গীতের জায়গায় বসাইয়া দিতে পারবেন। কাক-পক্ষীটিও টের পাবে না। কারণ, আলটিমেইটলি, সব জাতীয় সঙ্গীতেই ফুল-পাখি নিয়ে আলাপ করা হয়।

আপনি যদি একজন আমেরিকানকে জিজ্ঞেস করেন, আমেরিকাকে নিয়ে লিখা “চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি” গানটি সে শুনেছে কিনা, সে বলবে, “শুনি নাই, তবে গানটি যে আমেরিকাকে সঠিকভাবে তুলে আনতে পেরেছে এইটা বুঝতে পারতেছি।”

ফুল-পাখির কমন অংশটুকু বাদ দিলে, খুব কমই জাতীয় সঙ্গীত আছে যেখানে দেশের প্রসঙ্গে স্পেসিফিটি নাই। সেই হিসেবে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতে বাংলাদেশের কোনো উল্লেখ কিংবা রেফারেন্স নাই। শুরুতে একবার সোনার বাংলাকে নাম ধরে ডাকা হয়েছে, তবে সেইটা কোন সোনার বাংলা, বিশেষ করে সোনার বাংলা যেহেতু দুইটা, সেই ব্যাপারে কোনো স্পেসিফিসিটি নাই। তাছাড়া আমরা জানি, এই সোনার বাংলা আমাদের না, দাদাদেরটা।

এই গান লিখেছেন অন্য ভূখন্ডের একজন, সুর করেছেন অন্য ভূখন্ডের আরেকজন এবং লিখা ও সুর করাও হয়েছে অন্য ভূখন্ডকে মাথায় রেখে। যারা লিখেছেন ও সুর করেছেন ও যে চিন্তা থেকে করেছেন, তার কোনো কিছুতেই বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মননের কোনো প্রতিফলন নাই শুধুমাত্র আকাশ-বাতাসের আলাপ ছাড়া। তাহলে এই গানটির সাথে আমরা বাংলাদেশিরা স্পেসিফিক্যালি রিলেট করবো কিভাবে? এর ইতিহাস, ব্যাকগ্রাউন্ড, সৃষ্টি, সাবজেক্ট কোনো কিছুর সাথেই তো আমাদের কোনো যোগসাজোশ নাই!

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বদলে বাংলাদেশ নাম উল্লেখ রেখে ও বাংলাদেশকে নিয়ে ভেবে একটি গান করা উচিত। যেই গানের কোনো অংশে “তুই দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালে কী দীপ জ্বালিস ঘরে” (না, এই দেশের ৯০% মানুষ সন্ধ্যা হলে ঘরে দ্বীপ জ্বালে না) ধরণের বিজাতীয় ও সাম্প্রদায়িক আলাপ থাকবে না।

পৃথিবীর অনেক দেশেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা বিশেষ কিছু না। আমাদের দেশেও সংবিধান থেকে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাদ দেয়া হয়েছে। অসাম্প্রদায়িক হওয়া যেহেতু শুরু করেছি সেহেতু পুরোটা হইতে চাই।

Asm Fakhrul Islam | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-08-05 10:42:50