টেলিভিশন না বুঝে শেখ মুজিবকে বুঝতে পারার সুবিধা: – রেজাউল করিম রনি

টেলিভিশন না বুঝে শেখ মুজিবকে বুঝতে পারার সুবিধা:

বাংলাদেশে টেলিভিশন সাংবাদিকতার অবস্থা ঠিক ওবায়দুল কাদেরের মতো। নাহ, এবারকার নিরাপদ অসুস্থ্য কাদের না।
সেই প্রথম বার তিনি যখন প্রায় যায় যায় অবস্থায় চলে গেছিলেন, আমাদের টিভি সাংবাদিকতার অবস্থাও এখন তেমন। প্রায় যায় যায়। বা যাএচ্ছাতাই অবস্থা।
কিন্তু আসল কথা এটা না। আসল কথা হল, এই দেশে কে কোন পজিশনে থাকবে তা কোন ভাবেই যোগ্যতা দ্বারা নির্ধারত হয় না। অতীতেও হয় নাই। আর এই দিকটি সবচেয়ে মহামারি আকারে ফলো করা হয় টিভি সাংবাদিকতায়।

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় দক্ষতার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীর নিকৃষ্টমত দেশ। তেলামি তো আছেই। তেলামির বাইরেও সাধারণ পেশাগত দক্ষতার দিক থেকেও এই দেশের টিভি ব্যাক্তিদের দক্ষতার অবস্থা অকথ্য রকম জঘন্য।
এমন সব লোকজন এই মিডিয়াতে ফাংশন করে যারা নিজেদের নিয়ে কখনও লজ্জিত হয় না। এই অবস্থার শুরু হয়েছিল আওয়ামী লীগের প্রথম ক্ষমতাসীন নেতা শেখ মুজিবের আমল থেকেই।
১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারী মানে তিনি দেশে ফেরার পরের দিনই সাংবাদিক এবিএম মূসাকে ডাকেন। মূসা আঙ্কেল হাজির হলে শেখ মুজিব বলেন,
'এখন থেকে তুই বিটিভির মহাপরিচালক।'

মূসা আঙ্কেল বলেন, 'নেতা আমি সংবাদপত্রের লোক টেলিভিশন বুঝি না।'
শেখ মুজিব রেগে গিয়ে বললেন, 'আমাকে বুঝিস?'
মূসা আঙ্কেল বলল, সবটা না হলেও বোধহয় অনেক খানি বুঝি। তখন তিনি বললেন, যা, তাতেই হবে।

এবং এখন যারা টিভিগুলাতে কাজ করে তারেও একই অবস্থা। এরা টেলিভিশন না বুঝলেও যারে বুঝার দরকার তাকে বুঝে। ফলে টিভিও চলে সেই ভাবে।
সারা দেশে বিটিভির ক্লোনিং চালু হয়েছে। এবং সাংবাদিকতার এই সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রটি ফ্যাসিবাদের তেল মালিশের মেশিনে পরিণত হয়েছে। ফলে এরা টিভিনা বুঝলেও তেল বুঝেন। তাতেই কাজ চলে যাচ্ছে।

( সূত্র: মুজিব ভাই- এবিএম মূসা। সাংবাদিক মূসার কন্যা ঝুমা আপা দৈনিক সকালের খবরে আমার কলিগ ছিলেন অনেক দিন। আমরা দুজনেই এডিটরিয়ালে কাজ করতাম। উনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। তখন থেকেই উনার বাবাকে আঙ্কেলই বলতাম।)

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-01-31 23:16:41