অভিনন্দন বাংলাদেশ: – রেজাউল করিম রনি

অভিনন্দন বাংলাদেশ:

একটা দেশের এতো এতো মানুষ মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসের পক্ষে রাস্তায় নামে নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।

ভোট দখল ও গুন্ডামিকে মনে করে তাদের অধিকার। এমন একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সন্ত্রাসের মুখে অসহায় জনগনকে ঠেলে দিয়ে তাদের কাছ থেকে ভোট আশা করা এবং সেই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফেরানোর সংগ্রামকে সফল করার স্বপ্ন যারা দেখেন তারা রাজনৈতিক ভাবে নতুন বাংলাদেশের জন্য অনুপযুক্ত। কথা ছিল ভোট টা হবে আন্দোলনের অংশ। এই জন্যই আমরা জনগনকে ভোটে অংশ নিয়ে নিজের ভোট দেয়ার চেয়ে ভোট রক্ষার জন্য আহবান জানিয়ে ছিলাম। কিন্তু এমন সংগঠিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে বিরোধীদল আরও সুসংগঠিত না হওয়ার ফলে ভোট রক্ষা তো দূরের কথা ভোট দেয়াই সম্ভব হয় নাই। ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মানুষ ছিল জিম্মি।
কজেই যা হওয়ার তাই হয়েছে। তবে হাতাশ হওয়ার কিছু নাই। এমন হবে এটা সবাই জানত।
মিডিয়া ছাড়া এই নির্বাচন কারো কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। ভোট ১০০ ভাগ ফেয়ারও যদি হয় আর লীগ যদি জিতে যায় তা হলে নির্বাচন সঠিক হয়েছে এমনটা কেউ মনে করবে না। শুধু মাত্র লীগ ব্যাপক ভাবে পরাজিত হলেই নির্বাচন সঠিক হয়েছে – এমনটাই মনে করার মানসকিতা দেশের মানুষের তৈরি হয়ে আছে। এটাই লীগের রাজনীতির অর্জন। কাজেই এই নির্বাচনে লীগের কিছু অর্জন করার নাই জনগনের তরফ থেকে।
কেন্দ্রে গিয়ে দেখেছি, মহল্লার সব চেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাসীরা খুব সংগঠিত হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে আছে। তারাই মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। সব সময়মানুষকে চোখে চোখে রাখছে। এই অকুপাই অবস্থায় নিজ পছন্দকে ভোট দেয়ার কোন সুযোগ নাই। চোখে চোখে রাখা হয়েছে প্রতিটি ভোটারকে।
কেউ নিজের পছন্দ মতো ভোট দিলেই বের হওয়ার সাথে সাথে অনেক জায়ঘায় মাইর দেয়া হয়েছে। ফলে অনেক মানুষ ভোট দিতে পারে নাই নিজের পছন্দমত। অন্যদিকে লীগের অধীনে নির্বাচন মানেই সিল উতসব। সব মিলে এই নির্বাচন এবং জনগনের টাকা নষ্ট করে বাংলাদেশেকে আসল লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দেয়া হল। অভিনন্দন ।
ফলাফল কি হবে তা সবাই আগেই জানত। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এমন সহজ সংগ্রামে জয়ী হওয়ার সুযোগ নাই। কোন দেশে হয় নাই। ফ্যাসিবাদের আছে মিথ্যা আস্ফালন, মিডিয়া ও সংগঠিত গুন্ডাবাহিনী। কোন আদর্শ থাকে না। দরকার হয় না। ফলে এটার বিরুদ্ধে সংগ্রামকে হতে হয় প্রথমে আদর্শিক ও পদ্ধতীগত ভাবে মিলিটেন্ট। যার কোন কিছুই বাংলাদেশে নাই।
মনে রাখতে হবে, রক্ষিবাহিনীর বিরুদ্ধে গণবাহিনীর সংগ্রামকে।
ফলে এতো সহজেই ক্ষমতার বদল যারা চাইছেন তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে এম্বাসির শক্তির উপর। যারা আসলে এই অবস্থায় হুট করে কিছু করতে পারবে না। এই ধরণের রাজনীতি দিয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম হয় না। এগুলা গত ১০ বছর ধরে বলে আসছি।
অন্যদিকে গোটা দেশে অনৈতিক ও সন্ত্রাসের দিকে সাধারণ মানুষের নতজজানু হওয়ার যে সংষ্কৃতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে শক্ত আদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রাম ছাড়া মুক্তির সব পথ বন্ধ হয়ে গেল। এটাকে আমি অন্য অর্থে পজেটিভ মনে করি।
ফ্যাসিবাদের সংষ্কৃতির ভিতরে যে জনতা আরামে থাকার জন্য মুখ গুজে বাঁচতে লজ্জা পায় না তার জন্য স্বাধীনতা না। এখন দরকার রাজনৈতিক সংষ্কৃতির সামাজিকীকরণ। কিন্তু এখানে মিথ্যা, ভন্ডামি-গুন্ডামির সামাজিকিকরণ হয়েছে।
সংগঠিত জনসংগ্রামের বাইরে বাংলাদেশের জন্য আর কোন পথ খোলা নাই। এই নতুন যুগে বাংলাদেশেকে স্বাগতম। অভিনন্দন

#রিপোষ্ট। প্রথম লেখা হয়েছিল-
( ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮)

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-12-30 00:13:08