অদ্ভুত একটা ব্যাপার হোলো। গতকাল আমি আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখলাম। আর ঠিক আজই – আসিফ সিবগাত ভূঞা

অদ্ভুত একটা ব্যাপার হোলো। গতকাল আমি আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে একটা স্ট্যাটাস লিখলাম। আর ঠিক আজই একটি আত্মহত্যাকারী ছেলের জানাযার নামাজ পড়ে এলাম।

শুধু তাই না, ছেলেটির বাসায় ঢুকেছি। যে ঘরে সে ফাঁস নিয়েছে, যে ফ্যানের সাথে সেটি দেখলাম। এমনকি ছেলেটির পার্সটা পর্যন্ত দেখার সুযোগ হোলো। কী এক আশ্চর্য কারণে আমার ধারণা হচ্ছিলো পার্সে আমি কোনও নোট টোট পাবো, যদিও অনেক আগেই পুলিশ সেটা দেখে গেছে। ভাবতে অবাক লাগছিলো যে ছেলেটির পার্সোনাল সব জিনিস আজ একটা অচেনা মানুষ ইচ্ছেমতো নাড়াচাড়া করতে পারছে। কী সামান্য নিয়তি আমাদের!

ড্রয়িংরুমে ছেলেটির মরদেহ রাখা। আত্মীয়দের অনেক ভিড়ের মাঝেও আমি ভিড় ঠেলে ছেলেটিকে দেখতে পেলাম। জানাযা ও দাফনের মাত্র আধা ঘন্টা আগের কথা। আমি দেখলাম ছেলেটির মা ছেলেটির মাথার কাছে বসে চুপচাপ মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। যে ছেলেকে আর মাত্র আধা ঘন্টার মতো দেখতে পাবেন তার সাথে শেষ কিছু সময় কাটাচ্ছেন।

আরেক ঘরে বাবা জানাযার নামাজের জন্য তৈরি হচ্ছেন। অসুস্থ মানুষ। লুঙ্গি খুলতে কষ্ট হচ্ছে। চেহারা নির্বাক।

গোরস্তানে কবর দেয়া পর্যন্ত ছিলাম। সন্ধ্যার ঠিক আগে আগে কবরে শেষ মাটিগুলো পড়ছিলো। বাবাটা একটা হুইলচেয়ারে বসে একবার পাশের একটা বাঁধানো কবর দেখিয়ে বলছেন যে এটা দিয়ে কবরটা চিনতে সুবিধে হবে। ভাবলেশহীন কন্ঠ। আরেকবার একটু ডুকরে উঠে পাশেরজনকে বলছেন যে ছেলেটা আর বাবা বলে ডাকবে না। খুবই অনাটকীয় স্টাইলে বললেন যদিও। কোনো ফিল্মি ব্যাপার ছিলো না। আটপৌড়ে বাংলার আবহমান অসহায় অসুস্থ পিতা, অভিমানী ছেলেকে বিদায় জানানোর সময় তেমন কোনো ক্লাইম্যাক্স তৈরি করতে পারলেন না।

প্রতিটি জীবনেই সন্ধ্যা নেমে আসবে এভাবে। সহজ মৃত্যু বলে হয়তো কিছু নেই। কিন্তু মৃত্যু যেন সিদ্ধান্ত হয়ে না ওঠে এভাবে। মানুষগুলো মৃত্যুর আগপর্যন্ত প্রাণপনে বেঁচে থাকুক, বেঁচে থাকার ইচ্ছা পোষণ করুক।

আমার সব বন্ধুদের কাছে অনুরোধ, জীবনের কঠিন মুহুর্তগুলো কারও সাথে শেয়ার করবেন, কাছের কাউকে খুলে বলবেন। যদি আর কাউকে না পান, আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি চাই না আমার চেনা কেউ মনে ব্যাথা পুষে এরকম সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন। এটা বন্ধুত্বের দোহাই। আমি শ্রোতা হিসেবে খুব ভালো।

Asif Shibgat Bhuiyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-02-03 21:07:23