ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় সমস্যা হল, এটা আমাদেরকে অহংকারী করে – রেজাউল করিম ভূইয়া

ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় সমস্যা হল, এটা আমাদেরকে অহংকারী করে তুলে। মুখে না বললেও আচার আচরণে , হাবে-ভাবে তা প্রকাশ পায়। স্পেশালি কেউ বিখ্যাত হয়ে গেলে, শেষমেশ এই 'খ্যাতি' তার জাহান্নামের যাবার কারণ হতে পারে।

আপনি খ্যাতিপ্রাপ্ত হলে আপনার দিলে শয়তান একটা বিশাল প্রাউড ফিলিংস প্রবেশ করিয়ে দিবে। এই প্রাউড ফীলীংসটা যখন সীমা অতিক্রম করবে, তখন আপনি মানুষকে তাচ্ছিল্য করবেন, এটাই হল অহংকারের নিদর্শন। যখনই দেখবেন, যে তাচ্ছিল্য চলে আসছে, বিনয় চলে যাচ্ছে। তখনই বুঝবেন, থামার সময় হয়েছে।

এজন্য কেউ খ্যাতিপ্রাপ্ত তার মানে যখন তখন জাহান্নাম হয়ে যেতে পারে, যত আমলই থাকুক।

একই কথা বিভিন্ন গ্রূপ এডমিনদের জন্য প্রযোজ্য। আমার এ ব্যাপারে কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে।

======

আম্রিকার এক ঘটনা, এক 'হুজুর' বুজুর্গ লোক নারীঘটিত ঘটনায় 'ধরা' পড়লো। এখন তার সাথে কথাই বলা যায় না। বলতে গেলেই, আমি হেন, আমি তেন, আমি মিলিয়ন ফলোয়ার গ্রূপের এডমিন….তুমরা কি? .

আমি তো কথা শুনে টাসকি? তুমি মিলিয়ন ফলোয়ার গ্রূপের এডমিন হলে কি তোমার সব মাফ?
নিজেরে যে কি মনে করে একটা গ্রূপের এডমিন হয়ে, বা হাজারো ফলোয়ার থাকলে ।

এডমিন হওয়া বা বহু ফলোয়ার থাকা এমন কি কাজ যে এজন্য ইভেন গর্ব করতে হয়? একটা নির্দিষ্ট দিকে কনটিনিউয়াস লিখলেই আপনার অনেক ফলোয়ার হবে, আর গ্রূপ একটা খুলে মানুষকে লাখে লাখে এড করলেও আপনি বিশাল গ্রূপের গ্রূপ এডমিন। তাইনা? এমন কি? অনেকে সময় দেয়না, তাই হয়না আরকি? ফেবু ফলোয়ার বা গ্রূপ এডমিন হওয়ার এমন কি ভ্যালূ আছে? না আছে শরয়ী ভ্যালু, না আছে দুনিয়াবী ভ্যালূ। আসলে এসব হল অহংকার করার এক্সকিউজ। দিল সবসময় অহংকার করতে চায়, নিজেকে বড় মনে করতে চায়। যদিও আল্লাহই একমাত্র 'বড়'।

এগুলার আসলে কোন ভ্যালূ নাই । সওয়াব থেকে গুণাহ হবার সম্ভাবনা বেশী। সুবিধার থেকে অসুবিধা বেশী।

=====
বাংলাদেশের বুজুর্গদেরও এমন ঘটনা বিরল নয়। খুজলেই পাবেন।

=======

যদি তুমি মিলিয়ন ফলোয়ার গ্রূপের এডমিন না হতা, বা তোমার লাখো ফলোয়ার না হতো, হয়তো, তোমার জন্য জান্নাত সহজ হয়ে যেতো।

কিছু কওয়াই যায়না, কওয়ার আগেই, আমি কিন্তু অমুক গ্রূপের এডমিন। আমার এত লাখ ফলোয়ার।
======

একবার বাংলাদেশে এক সেলিব্রেটি এই ঘটনায় পড়ছে। তো কিছু্ হইলেই, আমার কিন্তু লাখ লাখ ফলোয়ার ।

======
সেক্যুদের জন্য এসব স্বাভাবিক হলেও মুসলিম ভাইদের এহেন এপ্রোচ বেশ দৃষ্টিকটূ।

=======
আপনার লাখো কোটি ফলোয়ার বা আপনার এডমিন হওয়া, এটা এডভানটেজ না, এটা একটা বোঝা। যার মূল্য জাহান্নাম দিয়ে দেয়া লাগতে পারে। মাঝে মধ্যে আপনার ইলমও আপনার জন্য বোঝা, যদি আপনার ইলমের গরমে আপনার পাশে কেউ যাইতে না পারে। আপনি ইলম অর্জন করছেন, মানুষকে গরম দেখানোর জন্য? ইলম দিয়ে গরম দেখাচ্ছেন? মূল্য খারাপ হতে পারে।

আল্লাহ না করুক।
========
কিয়ামতে সর্বপ্রথম তিনজন লোককে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, একজন খুব ইলমদ্বার, আরেকজন খুব বড় মুজাহিদ, আরেকজন খুব বড় দাতা। হাদীসটা মনে আছে?

জাস্ট তাদের নিয়্যত ঠিক না থাকার জন্য। তারা তৎকালীন যুগের সেলিব্রেটি ছিল। বর্তমান যুগের ফেবু সেলিব্রিটি-এডমিন ইক্যুইভ্যালেন্ট।

========

আল্লাহ আমাদের সবাইকে : 'কখন থামতে হবে' : তা বুঝার তৌফিক দান করুন । এটা বুঝার তৌফিক দান করুন, যে জান্নাতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত আমরা , জেনারেলী, সবাই আনসেইফ।

আর, ক্ষমতাবান হওয়া, প্রভাবশালী হওয়া, বিখ্যাত হওয়া, পজিশন অব অথরিটিতে থাকা, সেলিব্রেটি-এডমিন হওয়া : এগুলো আসলে বোঝা। জাহান্নামে যাবার প্রবাবিলিটি বেশী হবার সম্ভাবনা আছে।

সহজ সরল সাধা সিধা হওয়া, খ্যাতিতে না থাকা, ক্ষমতা না থাকা, এমন হওয়া যে কেউ চিনেনা, সেলিব্রেটি-এডমিন না হয়ে আম হওয়া — — এগুলো সম্পদ। জান্নাতে যাবার প্রবাবিলিটি বেশী হবার সম্ভাবনা।

সকল বুজুর্গদের এটা মাথায় রাখা উচিত।

আল্লাহ ভাল জানেন।
=======
যাজাকাল্লাহ

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-06-18 08:01:40