সর্বজনীন পেনশনের রূপরেখা – ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

সর্বজনীন পেনশনের রূপরেখা

বাজেটে কিছু নির্দিস্ট একালায় পেনশনের একটা রূপরেখা দেয়া হয়েছে। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় একজন কর্মজীবী মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দেবেন। একইভাবে তার নিয়োগকর্তা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীর জন্য পেনশন আকারে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করবেন। সরকারও একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ওই স্কিমে জমা করবে। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গঠিত তহবিল বিনিয়োগ থেকে পাওয়া অর্থ সর্বজনীন পেনশন তহবিলে জমা হতে থাকবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, উত্তোলনের পর এই তহবিল মুনতাসীর মামুন, মখা আর ছাত্রলীগ নেতার ফার্মার্স ব্যাংক বা অন্য কোন নেতার ব্যাংকে রাখা হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের টাকা ও জলবায়ু তহবিলের মতই মালিক পক্ষ কৌশলে ঋণ নিয়ে এই পেনশন ফান্ড হাতিয়ে নিবে এবং পরের বছরের বাজেট থেকে বেইল আউটের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, পেনশন পরিকল্পনায় কিভাবে টাকা আদায় হবে এই ব্যাপারে বলা আছে, কাকে, কখন, কিভাবে (কোন প্রসেসে) বরাদ্দ দেয়া হবে সেই পরিকল্পনা নেই।

আরো উল্লেখ্য, পেনশন ও ভাতা ব্যবস্থা যুগপৎ থাকতে পারে না।ভাতা হচ্ছে পেনশনের অনুপস্থিতি, ভাতার বাড়াবাড়ি হল লুটের যোগ, টেকসই ব্যবস্থা হল নাগরিক নির্বিশেষে নির্দিস্ট বয়স সাপেক্ষে অটোমোটেড পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রদত্ত পেনশন যেখানে রাজনৈতিক লোকেদের লিস্ট বানানো লাগবে না, ফলে কয়েক মাস ভাতা দিয়ে বাকি সময় প্রক্সি দিয়ে ভাতা লোপাটের বর্তমান প্রসেসও জারি থাকবে না। আর বাংলাদেশের ভাতা ব্যবস্থা কর্মহীন, এটা অতি সীমিত আকারে সামাজিক সুরক্ষা দেয়, এখানে শর্ত আছে, আপনাকে সরকারী দল করতে হবে, কর্মি হতে হবে, বিরোধীরা ভাতা পায়না। পেনশন পরিকল্পনায় কিভাবে টাকা আদায় হবে এই ব্যাপারে বলা আছে, কাকে, কখন, কিভাবে (কোন প্রসেসে) বরাদ্দ দেয়া হবে সেই পরিকল্পনা নেই।

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-06-08 14:19:19