ছোটগল্প: টাইম মেশিন – রেজাউল করিম ভূইয়া

ছোটগল্প: টাইম মেশিন
================

হঠাৎ টাইম মেশিনে পেয়ে গেল আজ সাইদুল। না চাইতেই। সসার থেকে নেমে আসা এলিয়েনরা আজ তাকে অফার করছে। এরা তার পুরান বন্ধু, নেপুচা-২৩১ গ্রহের এলিয়েন ভাই তারা। মাশাআল্লাহ।

আজ তার সাধ পূর্ণ হয়েছে। যাই হোক, তাকে দুটো সুযোগ দেয়া হচ্ছে। একবার পিছনে যেতে পারবে, আরেকবার সামনে। মানে ব্যাকে একবার, ফ্রন্টে আরেকবার।

প্রথম বার, ব্যাকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলো সাইদুল, সাথে তার এলিয়েন বন্ধু মাস্টার শুভ। প্রথমে পিছনের দুনিয়াটা দেখার খুব শখ সাইদুলের। একেবারে ২০০০ বছরের ব্যাকে চলে এসেছে তাই। শুভ আর সাইদুল এসে পড়লো সেই মরক্কোর এক বনের পাশে।

দুই গ্রূপের মানুষকে দেখা যাচ্ছে, ভাল করে খেয়াল করলো সাইদুল। এক গ্রূপের মানুষ তাঁবু টানিয়ে থাকে। তাঁবুর ভিতরে পরিবার পরিজন নিয়ে।

আরেক গ্রূপের মানুষ বাহিরে বনে জঙ্গলে থাকে, থাকার জায়গা কিভাবে বানাতে হয়, তা জানেনা এখনও। এ যেন টেকনোলজি আর সভ্যতার ইভোলিউশন দেখছে সাইদুল। শুভ মন্তব্য করলো : ' বুঝলে সাইদুল, যারা টেন্টে থাকেনা, তারা এখনও সভ্য হয়নি। দেখো, টেন্টগুলোকে কেন্দ্র করে কত সুন্দর জীবন্ত সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এই বনে জঙ্গলে থাকা মানুষগুলো কবে যে টেন্ট বানানো শিখবে।

টেন্টে থাকা আর না থাকা আকাশ পাতাল পার্থক্য। গায়ে কাপড় থাকা আর না থাকার মতন। দেখো , পশু পাখিরা যেমন কাপড় পরেনা, এরা তেমন টেন্টে থাকেনা। '

==========

প্রথম জায়গায় ভ্রমন শেষ। এবার ফ্রন্টএ যেতে হবে। মাস্টার শুভ সাইদুলকে নিয়ে এগিয়ে চলছে ২৫০০ সালের পৃথিবীতে। বেশী দূর এগুতে রাজী হয়নি শুভ, কারণ যে জায়গায় তারা যাচ্ছে, ২৫০০ সালের পর তার কি অবস্থা হয় তা নিয়ে শংকিত শুভ।

সাইদুল গোঁ ধরেছে, বাংলাদেশের ভবিষ্যত সে দেখতে চায়, কাজেই আসা। কিন্তু বেশী আগে গেলে আবার কি হয়, মাস্টার শুভ ভয়ে ভয়ে ২০০০ বছর ফ্রন্টে না গিয়ে মাত্র ৪০০ বছর ফ্রন্টে এসেছে।

==========

এসে গেল বাংলাদেশে সাইদুল আর শুভ। দেশে এসেই পড়লো মহাবিপদে। এত ডিটেইলস লেখার সময় তো নেই। কিন্তু টাইম মেশিন থেকে বের হয়েই তারা পড়লো বিপদে।

এমন এক অবস্থা, যে এই দেশে সবাই পিএইচডি। সবাই ফরম পূরন করতে পারে। পেপার ওয়ার্ক করতে পারে। কিন্তু কিভাবে ইভেন একটা টেবিল চেয়ার বানাতে হয় তা জানেনা।

সবাই জিপিএ – ৫ , কিন্তু কেউ ব্যাসিক ম্যাথ জানেনা, কেউ ব্যাসিক ইংলিশ জানেনা, কেউ ব্যাসিকালী কোন কাজ জানেনা। অন্য দেশের ক্লাস ৫ পাশ লোকজনও এর থেকে বেশী কাজ পারে। প্র্যাকটিকাল কাজ জানা কোন লোকই নাই। সবাই খালি বই পড়ে, কিন্তু কি পড়ে তা বুঝেনা। পড়ে তাকে কাজে ইম্প্লীমেন্ট করতে পারেনা। তাহলে পিএইচডি করে কি লাভ? আমার কাজগুলো করে দিবে কে? এইসব

কোন একটা জায়গায় গিয়ে পিএইচডি নাই এমন একটা লোক পেলোনা সাইদুল আর শুভ। কিন্তু এমন অবস্থা, দেশে কাজের কোন লোক নাই।

ভূগোলে পি এইচ ডি করে লোকজন ডাক্তারদের হেড হইছে। ইতিহাসে পি এইচ ডি করে লোকজনে ইঞ্জিনিয়ারদের হেড হইছে। বাংলাভাষায় পিএইচডি করে লোকজন প্রবাসীদের হেড হইছে। কে যে কি পড়ে , আর তা পড়ে , সে যে কি করে , তার কিছুই বুঝলোনা শুভ। যে সাইদুল এত উৎসাহী ছিল , সেও হতাশ হয়ে গেছে। ভাঙ্গা রাস্তা পার হতে গিয়ে আর একটু হইলেই গাড়ীর তলে পড়ছিল।

যাই হোক, যাবার আগে একটা নিউজ দেখালো শুভ সাইদুলকে, সরকার নাকি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দেশে কাজের কোন লোক নাই, কারণ থীউরি পড়ে পিএইচডি করে লোকজন আসলে আকামা হয়ে যায়, এরা লেকচার দিতে পারে, কিন্তু কোন কাম পারেনা। হাজার হাজার ভার্সিটি থেকে লাখ লাখ পিএইচডি বের করে কোন লাভ নাই। বরং কাজ করার জন্য মিডল ইস্ট থেকে প্রবাসীদের ফিরিয়ে এনে ভাল বেতনে নিয়োগ দিতে হবে। ওরা হাতের কাজ পারে, প্র্যাকটিকাল কাজ পারে।

পিএইচডি করে এসিরূমে বসে গল্প-কবিতা পড়ে তো আর ইকোনমি চলেনা। ইকোনমি চলতে কাজের লোক দরকার।

শুভ বললো সাইদুলকে : এতদিন পরে বুঝলো? যে দেশে কাজের মূল্য নাই, শুধু লেকচারের মূল্য আছে, সে দেশে তো এমন হবেই। সারা দুনিয়া তো এটা ৫০০ বছর আগেই বুঝছিল।

======

সাইদুলের শখ মিটে গেছে। সাইদুল বলতেছে, ব্রাদার শুভ, আমার ওই টেন্টই ভাল, আমারে কোন জীবন্ত টেন্টে নিয়ে যাও, আমার দম বন্ধ হয়ে আসতেছে। আল্লাহ বাচাইছে, এখনও গাড়ির তলে পড়িনাই, তাড়াতাড়ি শুভ তাড়াতাড়ি। এখানে আমি দম নিতে পারতেছিনা।

সমাজবিজ্ঞানে পিএইচডি করে এক লোক নাকি দেশের এনভায়রনমেন্ট প্রটেকশন এজেন্সির সচিব হইছে। বাতাসে লেডের গন্ধ, পানিতে পা*খানার গন্ধ, কিন্তু সচিব সাহেব বুঝেন না বাতাসে কিসের বিষ, পানিতে কিসের গন্ধ । তার মতে ঢাকার বাতাস নাকি পৃথিবীর মধ্যে সবচে বিশুদ্ধ, ঢাকার পানি নাকি পৃথিবীর সেরা পানি, …..।

তাড়াতাড়ি তাড়াতাড়ি…. শুভকে তাগীদ দিচ্ছে সাইদুল। পিপাসা পাইছে আমার, দম বন্ধ হইয়ে আসছে, টেন্টে চলো টেন্টে..টেন্টে গেলেই আমি জীবন ফিরে পাবো……..

==========

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-06-11 13:08:44