ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া লেগেছিল । তো, আগে ভেবেছিলাম: এ জায়গাকে বিশ্বের রাজধানী বলা যায় – রেজাউল করিম ভূইয়া

ওয়াশিংটন ডিসিতে যাওয়া লেগেছিল । তো, আগে ভেবেছিলাম: এ জায়গাকে বিশ্বের রাজধানী বলা যায়, নিশ্চয় চ্রম উন্নত হবে। চ্রম সভ্য হবে।
ওমা!!!!
কি রকম হতাশ যে হতে হল।
====
রাস্তায় রাস্তায় মানুষ ঝগড়া করছে, ভিক্ষাও করছে। চারিদিকি স্লাম থেকে আসা অজস্র মানুষ। মনে হইলো গর্জিয়াস আর নোংরা একসাথে।

সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস বলে একটা শব্দ আছেনা? তো, ওয়াশীংটন গিয়ে মনে হইলো এটা 'গর্জিয়াসের মধ্যে নোংরা' ; একই সাথে গগন বিদারী সুঊচ্চ ভবন আর ভিক্ষুক। এর থেকে অন্য শহরগুলো ভাল।
====
তবে সবচে খারাপ লাগছে, মানুষে মানুষে কামড়া কামড়ি। মাত্র ৫ দিন ছিলাম, তাতেই কয়েকবার দেখলাম, মানুষের ঝগড়া। যদিও সে ঝগড়া ইংরেজীতে।

তবে খিস্তি খেউড় বাংলায় যেমন খারাপ, ইংরেজীতেও কম খারাপ না। একজন আরেকজনকে যখন বলা শুরু করে, কীয়েক্টাবস্থা। আগে বুঝতামনা ভাল আছিল। এখন বুইঝা পড়ছি বিপদে।
====
তো, আসলে বলছিলাম এটাই, যে গালিগালাজ – অসভ্য ভাষা – অমার্জিত আচরন – খিস্তিখেউড় এসব যদি ইংরেজীতেও করা হয়, সেটা বেসম্ভব খারাপ শুনায়। ক্ষেত্র বিশেষে বাংলা থেকেও খারাপ। যারা এভাবে ইংরেজীতে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করে, তারাও কিন্তু সমাজে সম্মানিত হয়না, বা মূল্যহীন হয়ে যায়। তাদের দ্বারা মানুষ প্রভাবিত তো হয়ইনা, বরং অপছন্দ করে।
===

আসলে মানুষকে কনভিন্স করতে হলে, প্রভাবিত করতে হলে, মার্জিত ভাষা, ভদ্র আচরনটা বেশী দরকার। সুনির্দিষ্ট কোন ভাষা এখানে প্রভাবক নয়।

আপনি বাংলা হোক, উর্দু হোক, ফার্সি হোক, আরবী হোক, ফ্রেঞ্চ হোক বা চাইনিজই হোক: যে ভাষাতেই মানুষের সাথে মার্জিত আচরন করবেন, মানুষ প্রভাবিত হবে।

আর গালিগালাজ? গোপাল ভাঁড়ামি? তা ইংরেজীতে করলেও মানুষ সেটাকে গ্রহণ করবেনা, সম্মান করবেনা। — এটাই হল মূল পয়েন্ট।

===

তাবলীগের দিকে তাকিয়ে দেখেন। আমার জীবনে সবচে মোটিভেশনাল স্পীচ আমি শুনেছিলাম একবার কাকরাইলে গিয়ে কোন এক মুরুব্বীর বাদ আসর বয়ানে। আমার আজও মনে আছে। রুহের ব্যাটারী এমন চার্জ দিছিল, যে ২-৩ মাস ছিল।

অথচ তিনি বাংলার উপর আরবী-উর্দু-ফার্সির সমন্বয়ে কথা বলতেছিলেন, যেভাবে তাবলীগ কথা বলে। ইংরেজী কোন শব্দ আনেনই নাই।

দেখেন তাবলীগের ভাইদের প্রচারে প্রভাবিত হননি, এমন লোক বাংলাদেশে ইসলামী মহলে কমই পাওয়া যাবে। অথচ তারা তো ইংরেজী ব্যবহারই করেনা। কত ইংরেজী পড়ুয়া লোক হেদায়েত হয়েছে, ওই সাধাসিধা বাংলার উপর 'আরবি-উর্দু-ফার্সি' মিশ্রিত বয়ানে।

===

কারন কি জানেন?

কারন একটাই: মার্জিত আচরন, দরদ ভরা কন্ঠ, সুন্দর ব্যবহার, সুন্দর আখলাক, ইন্সপাইরেশনাল কথা: আশা ভরসা জান্নাতের, ভয়: জাহান্নামের। আর কিছু না। ইভেন যুক্তি তর্কে যে খুব পটু হতে হবে- এমন কিছুও না।

===

সত্যি কথা, তাবলীগ যেভাবে নরম হয়ে মানুষের সাথে মিশতে পারে, যেভাবে বিনয় দেখাতে পারে, সেটা আর কোন অর্গানাইজেশনে দেখা যায় না। এটাই কিন্তু তার সফলতার মূল কারন।

যদিও ব্যতিক্রম আছে, আর এখন গন্ডোগল বেধে হয়তো ওই অবস্থা নেই। কিন্তু অতীত স্মৃতি থেকে রোমন্থন করে বললাম আরকি।
===

আসলে, অনেকের ধারনা হয়েছে যে আযহারী খ্যাতিলাভ করেছে ইংরেজীর জন্য। তার ইংরেজী শুনে বুঝি দলে দলে তার মাহফিলে আসছে — এটা ভুল ধারনা। আসলে ইংরেজী বড় কথা না। ভাষা একটা হলেই হয়। মাহফীলে যারা আসে, তারা ইংরেজী বুঝে না এত।

আসলে সাধারন মাহফিলের তুলনায় আযহারীর আচরনে মার্জিত আচরন বেশী, গোপাল ভাঁড়ামি নেই, হাত পা ছুড়াছুড়ি নেই, কাদা ছুড়াছুড়ি নেই, আরেকগ্রূপের প্রতি বদনাম নেই, হিংসা নেই। বরং আছে, তাবলীগ স্টাইল ইসলাহী বয়ান, যা শুনে মানুষের অন্তর প্রশান্ত হয়। আছে ইমান-তাকওয়া বৃদ্ধি করার দিক নির্দেশনা।

এজন্য মাহফীলগুলো সফল করতে চাইলে, তাবলীগ স্টাইল ইসলাহী বয়ান মার্জিত আচরনের সাথে করুন, সুনিশ্চিত ফল পাবেন। ইংরেজী বড় কথা নয় ভাইরা। বড় কথা হল দরদ ভরা কন্ঠ, মার্জিত আচরন, ইসলাহী বয়ান। আর ভাষা? মানুষ বুঝে এমন ভাষা হলেই হল। তবে ইংরেজীর প্রতি অকারন শত্রূতাও নয়, অকারন 'জোর করে অতি ব্যবহার'ও নয়।

===
দরদ ভরা কন্ঠ হলে, মার্জিত আচরন হলে মানুষ ইভেন অর্ধেক বুঝেও বয়ান শুনে চোখের পানি ফেলে। উদাহরন? তারিক জামিলের বয়ান গুলো। 'জাহান্নাম চিখ মারেগি'? মনে আছে, সেটা উর্দুতে করা ৬ মিনিটের বয়ান ছিল: ৮০ ভাগ বুঝেছি, ২০ ভাগ বুঝিনি, কিন্তু চোখে পানি চলে আসার মতন।

এজন্য আসলে দরকার দরদ ভরা কন্ঠ, মার্জিত আচরন, ইংরেজী ভাষা এর থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আসবে, অন্তরের পরিচর্যা করলে: ফরজ আমলে বাহিরে অধিক পরিমান কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, তাসবীহ তাহলীল করলে; সেই সাথে থাকতে হবে উম্মতের প্রতি ভালবাসা, নিজ ভাইর প্রতি সত্যিকারের দরদ ,সবাইকে ক্ষমা করার গুন।

অন্তরে যদি হিংসা থাকে অন্যের প্রতি? ওই হিংসাই বের হবে মুখ দিয়ে, কন্ট্রোল করতে পারবেন না। দিলে অন্য মুসলিমের প্রতি হিংসা থাকলে এজন্য মাইক ধরবেন না।

আসলে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করলেই সব সমস্যার সমাধান। কারন মাইকের সামনে আসলে অন্তরে যা আছে সেটাই বের হয়ে যায়, কন্ট্রোল করা যায় না।

===

কাজেই , মাহফীল সফল করতে চান? ইংরেজী নয়। অন্য কিছু আনতে হবে। কি আনতে হবে? বলা হয়ে গেছে।

আল্লাহ ভাল জানেন।

আল্লাহ আমাদের মাহফীলগুলোকে সুশোভিত ফুলবাগান করে দিন। আমীন।
===

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-05 10:03:17