ব্যবসা জিনিসটা কি জানেন? ব্যবসা মানে সবসময়ই রিস্ক। লাভও হতে পারে, লসও – রেজাউল করিম ভূইয়া

ব্যবসা জিনিসটা কি জানেন? ব্যবসা মানে সবসময়ই রিস্ক। লাভও হতে পারে, লসও হতে পারে। দুইটাই। এক টাকায় কোন পণ্য উৎপাদন করে আপনি এক কোটি টাকায় বেচতে পারেন, আবার এক কোটি টাকায় পণ্য তৈরী করলেন, ভাবলেন একশো কোটি টাকায় বেচবেন, পরে বেচতে না পেরে দেউলিয়া হয়ে গেলেন। এমনটাও হয়।

সব চাহিদা আর যোগান। চাহিদা বেশী হলে খুব লাভ হয়, এরপর যোগান বেশী হয়, এরপর যোগান বেশী হয়ে দাম পড়ে যায়, এরপর চাহিদাও কমে যায়। এভাবে ব্যবসা ঘুরে ফিরে।

======

এজন্য পণ্যদ্রব্যের দাম কত হবে, তাতে কোন রেসট্রিকশন দেয়া যায়না। রেসট্রিকশন দিলে ব্যবসায়ীরা ফতুর হয়ে যাবে। পরে কোন পণ্যই খুজে পাবেন না।
=======

দেখেন ভেনিযুয়েলার দিকে বা যে কোন কমিউনিস্ট কান্ট্রির দিকে। পণ্যের দাম নির্দিষ্ট করতে গিয়ে কি হইছে। সম্পূর্ণ ইকোনমিক কলাপস।
=======

বাঙ্গালী ব্যবসায়ীর জাত না। ব্যবসা বুঝেনা। আমলাতন্ত্র বুঝে। সে চিন্তা করে, ব্যবসায়ীরা খারাপ, এত দাম রাখে কেন?

এত দাম এজন্য রাখে যে রিস্ক আছে। সবসময় লাভ হবেনা, কখনও কখনও লসও হবে। লস হয়ে বসে যেতে হয় অনেক ব্যবসায়ীকে।

আর দাম বেশী, লাভ বেশী? ওকে আপনিও ব্যবসায় নেমে যান? প্রবলেম কি?
–> না আমি নামতে ভয় পাই, দেউউলীয়া হয়েএ যাবো।
হা, আসলেই দেউলীয়া হবার চান্স আছে।

=======

এজন্য ইউরোপিয়ান আমেরিকান ইকোনমিতে কখনও দামের রেসট্রিকশন দেয়া হয়না। শুধু মনোপলী টা আটকায়, যখন কেউ জোর করে মনোপলী করে। সেকারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়ে, অটো দাম উঠে তারপর পড়ে যায়। আর যদি দাম উঠে না পড়ে, তাহলে নিশ্চয়ই ব্যবসায়ী খুব যত্ন করে পণ্য বানাইছে, যার কোন ইক্যুইভ্যালেন্ট নাই। সুতরাং সে লাভ করবে এটাই স্বাভাবিক।

একটা আইফোন বানাইতে 200 ডলার খরচ হয়, (সবোচ্চ) । কিন্তু বেচে ১০০০ ডলার।

যদি আমেরিকার অভ্যন্তরে, যেখানে লেবার কস্ট বেশী, সেখানে আইফোন বানায় , দাম পড়ে ৭৫ ডলার। তারপরও কত লাভ দেখেন? [দাম: একটু কম বা বেশী হতে পারে, মূলকথা সেটা নয়]

আপনার হিংসে হয়? হিংসে হলে বানান আইফোন, পারেন কিনা? এত্ত সহজ হলে তো সবাই করতো।

যেহেতু আইফোন ব্র্যান্ড বানাইতে পারছে, রিস্ক নিছে, তারা এর প্রফিট ভোগ করবে, এটাই স্বাভাবিক। অনেকে ব্র্র্যান্ড বানাইতে চেষ্টা করছে, কিন্তু দেউলিয়া হয়ে গেছে, তাইনা?

বড় ধরনের লাভের সম্ভাবনা আছে বলেই তো মানুষ এত রিস্ক নিয়ে ব্যবসায় আসে। মানুষ যদি ব্যবসায় না আসতো, দুনিয়ার ইকোনমি আপনার আমলা তন্ত্র দিয়ে চলতো?

আইফোনের মত সব ইলেকট্রিকাল-মেকানিকাল-আর্মার্ড পণ্যে শত বা হাজার বা লাখ গুন লাভ থাকে। কারণ এসব রিস্ক নিয়ে বানিয়ে সহজে কেউ সফল হয়না।

গুগল করে দেখেন।

কাজেই ৫০ টাকার পাঞ্জাবী যদি আড়ং ৫ লাখ টাকায় বেচে, এটা দোষের কিছুনা।
একশো টাকার থ্রি পিছ, কেউ যদি দশ হাজার টাকায় বেচে, এটা দোষের কিছুনা। এইটাই ব্যবসা। যার ইচ্ছা কিনবে, কেউ না কিনলে ব্যবসায়ী লস খাবে।
দেশে এমন কোন আইন নাই, যে, দামবৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাবেনা। দাম সকালে একরকম, বিকালে আরেক রকম হওয়া ব্যবসায় খুব সহজাত ব্যাপার, ডিমান্ডের উপর নির্ভর করে দাম এরকম বাড়ে কমে। পুরো আমেরিকা-ইউরোপে সব জায়গায় এটাই কিন্তু নিয়ম। সকালে যে জ্যাকেট দেখলাম ৩০ ডলার , তিন ঘন্টা পরে ৮০ ডলার হয়, পরের দিন আবার দশ ডলার হয়ে যায়। দাম বাড়ালে ধরবেন ওদের? কিন্তু দাম কমলে কি ভর্তুকি দেন? দেন নাতো। তাহলে ফেয়ার হলো?

ব্যবসায়ীর একদিন লাভ হয়, আরেকদিন লস হয়। লাভের সময় এসে খামচি মারেন, কিন্তু লসের সময় যখন ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করে, লাশটাও তো দেখে আসেন না। উল্টা টাকা চুরি করে বিদেশে পাচারের ব্যবস্থা করেন।
=======

এ জিনিসটাই বাংলাদেশ সরকার বুঝতে পারেনাই। তারা ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আড়ং-স্বপ্ন-আগোরার মত বাংলাদেশী বিজনেস কোম্পানীগুলোকে লাখ টাকা জরিমানা করতেছে। বাজারে বাজারে ব্যবসায়ীদের আননেসেসারী জরিমানা করতেছে। কোন আইনে এসব বৈধ? আইনে বলা আছে, যে দাম চেঞ্জ করা যাবেনা?

আগে থেকে বলে দিছেন, যে কোন পণ্য বানানোর দশগুনের বেশী দাম নেয়া যাবেনা? দাম কত পড়ে তা হিসেব করে দেখছেন? কত ঝুঁকি একটা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে নিতে হয়, তার হিসেব করে দেখছেন?

এরা তো কাউকে জোর করে কিনাচ্ছেনা, তারা ভাল ব্র্যান্ড বানাইছে, মানুষ নিজেই গিয়ে কিনতেছে।

সারা দেশে ফরমালীন সহ ভেজাল খানাপিনায় ভরা , ধরতে পারেনা, ঠিক করতে পারেনা। পারে ওই ভাল প্রতিষ্ঠানগুলো , যেগুলোর মধ্যে ভাল করার চেষ্টা আছে, সেই স্বপ্ন-আগোরা এদেরকে ধরতে। এদের দোষ কি? দোষ হল পণ্যের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সীল নাই, বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ্‌এগুলা একটা দোষ হইলো? ফরমালীন তো মিশায় নাই? আর মেয়াদোত্তীর্ণ সীল জাস্ট বসাইয়া দেয়। কেউ জানেনা, কোন পণ্য কখন নষ্ট হবে।

পারে ওই একটাই, মেয়াদোত্তীর্ণ সীল ধরা। কেন বাজারে যে তরমুজ-আম-কলা-পেপে তে ভয়াবহ রাসায়নিক দেয়, ওগুলা ধরতে পারেন না কেন?

ধরতে না পাইরা, ভুল মেশিন এ ফরমালীন মেপে ভাল ব্যবসায়ীদের ভাল আম ধ্বংস করেন। কোন মিনিমাম টেকনিকাল নলেজ একজন সরকারী কর্মকর্তঅর নেই। শুধু লোককে খুশী করার জন্য ভাল ব্যবসায়ীদের ধরে তাদের ব্যবসা নষ্ট করতেছেন। আর খারাপদেরকে ছেড়ে দিচ্ছেন। আর মিডিয়াকে দেখাচ্ছেন, যে আমরা খুব করিতকর্মা।

ইকোনমির বারোটা বাজাচ্ছেন।

যে কয়টা ভাল ব্র্যান্ড হইছে, এগুলাকে ধ্বংস করতেছেন।
আর কয়দদিন পর বাংলাদেশ তো ভেনিজুয়েলা হবে। তখন কি সরকারী কর্মকর্তারা আগোরা – স্বপ্ন দিয়ে চালাবেন? আড়ংএর কাপড়ের ব্যবসা করবেন?
=======
এভাবে না। বরং টেকনিকাল লোক দিয়ে কমিটি করেন। কোন কোন কেমিকেল বৈধ, কোন কোন কেমিকেল অবৈধ তার লিস্ট করেন। কোন কোন কেমিকেল কতটুকু মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে, তার তালিকা করেন।

এরপর আইন বানান, যে অমুক আমুক কেমিকেল এত পরিমানে ব্যবহার করা যাবে, এর বেশী করলে শাস্তি হবে।

এরপর বাজার থেকে পণ্য নিয়ে ল্যাবে গিয়ে টেস্ট করে বের করেন, যেএ কোন ফলে কতটুকু 'খারাপ কেমিকেল দিছে। তারপর শাস্তি দেন।

আকামা নন-টেকনিকাল লোক দিয়ে কখনও এসব করতে পারবেন না, এর জন্য দরকার যারা কেমিস্ট্রি-এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এসব পড়াশোনা করেছে। তাদের দরকার।
======
পণ্য সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে শাস্তি দেন। যেমন : শীয়ালের গোশতকে গরুর বলে বিক্রি করলে, যেমন: মরা মুরগীর মাংস বিক্রি করলে।

আর পণ্যদ্রব্যের দাম? কন্ট্রোল করার দরকার নাই। বাজার অটো ব্যালেন্স করবে। খালী মনোপলাইজ হতে দিবেন না। ব্যবসা হলো ফ্রি , যে খুশী , অনেক লাভ দেখে, এন্টার করতে পারে যে কোন ব্যবসায়। কোন ব্যবসায় যদি আসলেই অনেক লাভ হয়, মার্কেট ফ্রি হওয়ায়, অন্য লোকেরা ওই ব্যবসা শুরু করবে। তখন কমপিটিশন হবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে, ফলে পণ্যের কোয়ালীটি বাড়বে এবং দাম কমবে। এক সময় সাম্যাবস্থা হবে, ওই ব্যবসায় একটা মোটামুটি লাভ হবে, কিন্তু নতুন কেউ ঢুকলে লসে পড়ে যেতে পারে। এভাবে ব্যবসা হয়।

এ ব্যাপারে সুন্নাহ: একবার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে রসূল(স) কে সাহাবীরা(রা) দাম নির্দিষ্ট করতে অনুরোধ করেন। রসূল(স) দামকে নির্দিষ্ট করতে রাজী হন নি। দামকে ন্যাচারালী ফ্লো করতে দিয়েছেন। কারণ এটা জুলুম। বাজার অটো চাহিদা-যোগানের সূত্র ধরে অটো প্রাইস ব্যালেন্স করে।

=======

দিন দিন দেশের ব্যবসা বাণিজ্যগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে।
আড়ং,ক্যাটস আই, আগোরা, স্বপ্ন এর মত ভাল দেশীয় ব্যবসাগুলো শেষ করে দেয়া হচ্ছে। এটা যে কত লোক কে এমপ্লই করতেছে, সেটা কেউ দেখতেছেনা। দেশী ব্যবসা দাড়াবে কিভাবে?

চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছু করার নাই। একদিন হয়ে যাবে ভেনিযুয়েলা। আসতাগফিরুল্লাহ। আল্লাহ না করুক।
=====
অডিয়েন্স: সরকারী বন্ধুগন।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-06-04 01:15:13