বীর চিনবেন কি ভাবে? – রেজাউল করিম রনি

বীর চিনবেন কি ভাবে?

বাংলাদেশে কবি-সাহিত্যিক বা সংষ্কৃতিকর্মি -এই কথাগুলা এখন যেমন হাস্যকর হয়ে গেছে, তেমনি সাংবাদিক শব্দটাও এখন প্রায় একটা গালির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
সরকারী দলের প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা যা করেন, টকশোতে যা করেন, আরও আরও বহু ক্ষেত্রে যা করে চলেছেন -এরপরে সাংবাদিক নাম শুনলেই, পাবলিকের মনোভূমিতে তেলের ডিব্বা হাতে লোভে চকচক করতে থাকা কোন ব্যক্তির ছবি ভেসে উঠে।

এটা শুধু সাংবাদিকতা পেশা নয়, এই অনির্বাচিত আমলে বাংলাদেশের একশ্রেণীর আলেমরাও জালেমের দোসর হয়েছেন।
এই চরম নৈতিকতাহীনতা ও রাজনীতির নামে কৌতুকের যুগে যিনি অপরিসীম সাহসের সাথে নিজের কন্ঠ ও বিবেককে সজাগ রেখেছেন তিনি, Nurul Kabir। কবীর ভাইয়ের ফেসবুক আইডিও ব্লক করে দেয়া হয়েছে সম্প্রতি। তার পরেও গত বছরের এই লেখটা আবার সামনে আসাতে পোষ্ট দিচ্ছি আপনাদের জন্য।

অশিক্ষিত, গোয়াড় ও খারাপ সাংবাদিকদের দেখতে দেখতে অনেক সময় এই পেশা ছেড়ে দিতে চেয়েছি। তখন উদাহরণ হিসেবে কবীর ভাইকে পাইছি। এই পেশায় কবীর ভাইয়ের মতো লোক আছেন ফলে পেশার সম্মানটা এখনও শেষ হতে পারে নাই পুরাপুরি -আমাদের দেশে।
সরাসরি উনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। যদিও আমি খুব ভাল ছাত্র না। চলমান এই শত্রুঘেরা পরিসরে সব সময় কবীর ভাইকে দেখেছি সাহসের সাথে লড়ে যাচ্ছেন। আমাদেরকেও অনুপ্রাণিত করেছেন। আপনারা তাকে হার্ডটকে, লেখায়, সাংবাদিকতায়, জানেন, দেখেছেন। আমি জানি একজন, চিন্তক কবীর ভাইকে। যার সাথে তর্ক করে নিজেকে ঝালাই করে নেয়া যায়। যার চিন্তা করার ক্ষমতা তাকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এটা আমি বিশ্বাস করি এবং দেখতেও চাই।

কবীর ভাই, অনেক দিন আপনার সাথে দেখা হয় না। কিন্তু সব সময় আপনি আছেন আমার প্রতিদিনের ক্ষুদ্র জিবনে। মধ্যবিত্তময় আরামের জিবনের বাইরে প্রতিদিনের রাজনীতির সাথে জিবনের যে সংযোগ, হে হুমকি, যে রিস্ক আপনি যাপন করেন আমিও তার ভিতর দিয়ে চলি। আপনিও এইসব ভালকরেই জনেন। হুম, একটু ইমোশনাল হয়ে গেল ব্যপারটা। প্রতি বাঁকে বাঁকে আপনাকে পাই। আমার বিপদে আপদে আপনাকে যেভাবে পাশে পাই তা এই কঠিন সময়কে একটু হলেও সহজ করে তুলতে পারছে। আপনার সাথে এতো আড্ডা হয় কখনও ছবিও তুলি না ইচ্ছে করেই। দেখানোপনার বাইরে রাখতে চাই সম্পর্কটা। ইদানিং আপনার সাথে তেমন দেখা করি না। কারণ, আপনি আমার বই এর কথা জিগাইলে কোন জবাব দেওয়ার থাকে না। তবে আমি কাজ করছি। যতটা পারি জানপ্রাণ দিয়ে কাজের মধ্যেই আছি। জানি না কি হবে। অবশ্যই এবার বই নিয়েই দেখা করব।

তার পরেও আপনার জন্মদিনে একটু ইমোশন প্রকাশ পেয়ে গেলে সেটাও জায়েজ হবে আশা করি। কবীর ভাই, আপনার চিন্তার ক্ষমতার প্রতি আমার আস্থা ও শ্রদ্ধা আছে। আশা করি আপনি অনেক অনেক দিন আমাদের মাঝে সক্রিয় থাকবেন। বীরের মতো লড়ে যাবেন। আপনার যাপিত সময়ের ইতিহাসে আপনি দাগ রেখে যাবেন -এটা আমরা জানি। কে না জানে, জয় বা পরাজয়ে নয়, আসল বীরকে চেনা যায় অবিরাম যুদ্ধের দম দেখে। যেমন আপনাকে চিনেছি। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার, সাহস ও চিন্তাশীল মানসিকতার হিরো আপনি, আমার চোখেও আপনি হিরো কবীর ভাই। আপনাকে আমি ইচ্ছে করেই কম কল করি যাতে বেশি মনে করা যায় মনে মনে।
আপনাকে অভিনন্দন। জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা।



Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-11-04 00:59:41