পাকিস্তানের ফজলু মওলানা বিতর্ক ও কারা ইসলামের শত্রু : – রেজাউল করিম রনি

পাকিস্তানের ফজলু মওলানা বিতর্ক ও কারা ইসলামের শত্রু :

অনেক লম্বা আলোচনা করতে হবে। জাস্ট অতি সংক্ষেপে ৫ টা পয়েন্টে বলতে চেষ্টা করছি। ভুল-ত্রুটি ক্ষমার মালিক আল্লাহ।

১.

ইসলামের সবচেয়ে বড় শত্রু হল, যারা ইসলামের এজেন্ট সেজে, লেবাস ধরে জনগনের সামনে যারা একমাত্র ইসলামের 'অথরিটি' আকারে হাজির হয়। এটা এন্টি ইসলামি আচরণ। ইসলাম দুনিয়ার প্রতিটি মানুষের জন্য ওপেন। এবং প্রজ্ঞা ও তাকওয়ার ভিত্তিতেই এখানে গুরুত্ব তৈরি হয়। লেবাস ও অশিক্ষা নিয়ে অথরিটি হলে এটা স্যাকুলার ফ্যাসিবাদেরই কাজে লাগে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও ফেসবুকে কিছু হুজুরদের পপুলিস্ট আচরণ ও ইসলামের প্রতি জনগনের ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে হুজুগে-পন্ডিতি করার প্রবণতা আর একটা পর্নতারকার জনপ্রিয়তা কামনোর প্রচেষ্টার কোন পার্থক্য নাই। দুইটার নফসের গোলমি করছে। যে নামেই করুক।

২.

একটা জিনিস দেখে ভাল লাগছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিষয়ে আমাদের দেশের কিছু মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হল এরা পকিস্তানের ফরিউদ্দিন মাসুদ খ্যাত ফজলু মওলানার পিছে ছুটছে। সে হুজুর, পগড়ি আছে এটাই যেন যথেষ্ট। তার সম্পর্কে কোন স্টাডি নাই। তাকে করা কি কাজে মাঠে নামাইছে? তার এজেন্ডা কি? এর ফলে কাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল হবে সেইসব প্রশ্ন নিয়ে কোন ইনকোয়ারি নাই। বরং যে কোন মূল্যে দাড়িহীন ইমরানের বিরুদ্ধে এরে ফিট করতে হবে। যার রাজনৈতিক গুরুত্ব জিরো। কিন্তু এই হুজুগের পিছে ছুটছেন একদল লোক।

৩.

ফজলু মওলানা যদি এতোই ইসলামের খেদমতদার হয় তাইলে ইসলামি হুকুমত কায়েমের ডাক দিক। তার দেশেই তো একদল সরাসরি জিহাদের মধ্যে জড়িয়ে আছে।
আধুনিক রাষ্ট্র জনগনকে সার্বভৌম ক্ষমতার ডিকলারেশন দিছে। যা শায়খ ইমরান হোসেন নজরসহ অনেক প্রখ্যাত আলেমের মতে শিরকের শামিল। গোট উম্মাহ আজ এই শিরকের শিকারে পরিণত হচ্ছে বাধ্য হয়ে অথচ এইসব গোস্তখোর মাওলানারা ক্ষমতার মৌলিক কাঠামো পরির্বতন না করে অন্যের এজেন্ট হয়ে এই আধুনিক ক্ষমতার ঝোল খাইতে চায়। এই চক্রটা ইসরায়েলের পারপাস খুব নিষ্ঠার সাথে সার্ভ করছে। আমি জানি এটা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে এখানে জাস্ট পয়েন্টটা কইলাম। আপনি আধুনিক রাষ্ট্রও চাইবেন আমার ইসলামও করবেন হবে না। এটা ভন্ডামি। রাষ্ট্র ধারণার এখন যে রুপ তা ইসলাম অনুমোদন করে না। সব বাদ দিলেও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটা সরাসরি কুআনের আয়াতের বিপরীত। লম্বা আলাপ। বহু বিতর্ক আছে এটা নিয়ে আমি জাস্ট পয়েন্টাট বললাম। আমার চেয়ে এটা অনেক ভাল জানেন এমন ব্যক্তি প্রচুর আছেন। আশা করি উনারা আরও কাজ করেবন এটা নিয়ে।
( দেখুন: খেলাফতের পতনের পরে আল আজহার বিশ্ব-বিদ্যালয়ের আলেমদের ফতোয়া)

৪.

বাংলাদেশের দেওবন্দির সিলসিলার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু ওরা যখন রাজনৈতিক ভাবে ইসরায়েলের প্রজেক্ট জেনেই হোক না জেনেই হোক সার্ভ করে তখন তাদের মাথায় তুলে নাচানাচি করা আত্মঘাতি। পাকিস্তানের ভাগ্য অতি জটিল সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ভাবেই । কারণ, পৃথিবীর একমাত্র সুন্নি পারমানবিক দেশ এটি। এটাকে অক্ষত রেখে ইসরায়েলের বিশ্ব কতৃত্ব কায়েমের স্বপ্ন সফল হবে না। ফলে এই দেশটিকে তারা সব সময় আমেরিকার কূটনৈতিক বলয়ে রাখতে চেষ্টা করে এবং একই সাথে এই দেশটাকে কি ভাবে সাইজ করা যায় তার চেষ্টাও চালায়। এবং মুসলিম বিশ্বের মুরুব্বি যারা হতে চায়, তুরস্ক, ইরান, সৌদি তারাও পাকিস্তানের এই শিক্তর জায়গাটা নিয়ে অস্বস্তিতে থাকে। উপরে উপরে খুব খাতির দেখালেও এদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা আছে।

সব মিলায়ে এই জন্য কোন ভাবেই দেশটাকে স্থীতিশীল করতে দেয়া হয় না। সব সময় যুদ্ধের মধ্যে রাখা হয়। ইমরান খান কোন জেহাদি নেতা না। তিনি ইসলাম উদ্ধারের কাজও করবেন না। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য এখন সব চেয়ে জরুরী যে কাজটা তা হল দেশটা স্ট্যাবল করা। যা তিনি মনে প্রাণে করতে চেষ্টা করছেন- এটা শত্রুরাও স্বীকার করবে। সফল কতটা হবেন তা সময় বলবে।
এমন সময়ে ফজলু টাইপের কিছু ফ্যানাটিক আন্দোলন শুরু করে দিছে। এতো দিন কই ছিল এরা? অবশ্যই ইমরান খানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা যাবে। তার যে সব পলিসির সাথে দ্বিমত হবে তা নিয়ে রাস্তাও নামা যাবে। কিন্তু কাশ্মির নিয়ে ইমরান খান যখন একটা লম্বা পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে চাইছেন তখন এবং নির্বাচনের ১৫ মাস পরে কেন এরা বলছেন, খানের নির্বাচনে জিতে আসার প্রকৃয়া সহিহ হয় নাই। এটা সত্যহলে নির্বাচনের পর দিন থেকেই তো আপনাদের ময়দানে থাকার কথা ছিল।
ভারত কাশ্মির-পাকিস্তানে ৯ টি ইসলামি দলকে সরাসরি মদদ দেয়। ফলে ইসলামি দেখেই বেহুস হয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। ( এটা নিয়ে আলাদা লিখব)

সব চেয়ে বড় কথা হল, ইসলামের নামে আপনারা তো এই প্রচলিত ক্ষমতা কাঠামোর ভেতরই রাষ্ট্রকে রাখতে বাধ্য বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে, তাইলে কেন ইসলামের নামে ক্ষমতার কথা বলছেন? ইসলামে ক্ষমতার প্রশ্নটা কি এমন? কেন এই প্রতারণা করছেন? ইসলাম তো কোন প্রতারণার ধর্ম না।
বাংলাদেশে এদের ফ্যানরা শাপলার রে যেমন মিষ্টি তেতুল হয়েছেন এখনও একই কাজ করছেন।

৫.

বাংলাদেশের ইসলামি রাজনীতির জানাজা রচিত হয়েছে এইসব ফ্যানাটিকদের জন্য। জামায়াত থেকে শুরু করে হেফাজত এরা নীতি ও কৌশলের প্রশ্নে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে ইহুদিদের মতো ব্যবহার করছে। মুখে একটা অন্তুরে আরেকটা। এটা ইসলামি আচরণ না।

এটা কোন ধরণের ইসলামি রাজনীতি? জানি আমাকে গালি দিবেন। কিন্তু আমি যতটা জামায়াতের ও হেফাজতের নাগরিক অধিকারের জন্য লিখেছি। সব কলঙ্ক হাসি মুখে মেনে নিছি তা বাংলাদেশে আর একটা লোকও করে নাই গত ১২ বছর ধরে। যারা দল করে ও কিছু লোক ধান্দার জন্য করেছে সেটা অন্য কথা। কাজেই আমাকে গালি দেওয়ার আগে এগুলা পড়ে নিয়েন। ফেবুতে ডিটেইলস লিখছি না। এটা নিয়ে আমি বিস্তারিত লিখেছি, 'শাপলার শাহবাগি পরিণতি' লেখাটিতে।

শেষ করি।
আমরা শেষ জমানায় আছি। ফেতনা ঘরে ঘরে। যে কুরআন ও নবী (সা:) গোটা মানব জাতির জন্য রহমত আমরা তাকে নিজেদের সুবিধামত ব্যবহার করি। সাধারণ মানুষকে ভড়কে দেই মনমত ফতোয়া শুনিয়ে। এলেমকে তুচ্ছজ্ঞান করে ব্যক্তি অহং ও আধুনিকতাবাদিদের সুবিধা মতো আচরণ করি। না পারি ইসলামের খেদমত করতে না পারি আধুনিক ক্ষমতায় কোন মর্যাদার আসন নিতে। হয়ে উঠি হাস্যকর। শুরু করি বিবাদ ভাইয়ে ভাইয়ে। শিয়া-সুন্নি, পীর, মিলাদ, সালাম, তালাক-বিয়া নিয়ে মেতে উঠি ইসলামের নামে।

ইসলামকে কোন শক্তি ধ্বংস করতে পারবে না। আল্লাহই এই দ্বিনের জিম্মাদার। কিন্তু আমরা কি করছি? কিয়ামতের দিন কোন মুখে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবেন? মনে রাখবেন, ইসলামি খেলাফতের অবসান কিন্তু কোন অমুসলমানদের দিয়ে হয় নাই। এটা করেছে মুসলমানরা। আর একদল আলেম নামের জালেম এই ব্রিটিশ-ইহুদিদের চক্রান্তের সহযোগি হয়েছিল।

এই ভারতবর্ষের মুসলমানরা রক্ত দিছে । কিন্তু এরা গান্ধিকে যখন খেলাফত আন্দোলনের অন্যতম নেতা হিসেবে মেনে নিছে তখনই এই আন্দোলনের ব্যার্থতা সুনিশ্চিত হয়ে গেছিল। আপনার শত্রু ও মিত্র সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার সমস্যা তো আছেই তার উপর প্রচন্ড লোভ ও ধান্দামি। এটা কোন ধরণের ইসলমী চেতনা?
( ৯৬ সালে জামায়ত-লীগ ঐক্য ও লীগের ক্ষমতা নেয়া এবং হেফাজতের লীগার বা শহবাগিদের মিত্র হয়ে যাওয়া। অনেকের কাছে এটা কৌশলগত বাট ক্ষমতার প্রশ্নে এটা হল শত্রু-মিত্র চিনতে ভুল করা বা রাজনৈতিক ভন্ডামি, নীতির চেয়ে নগদ লাভ লাভ ও ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেয়া। এই সবের পরিণতি কি হয়েছে সবাই দেখতেই পাচ্ছেন।)

এইসব কৌশল ধারণ করে কি করে জনগনকে ইসলামের নামে রাজনৈতিক দাওয়াত দেন? আপনাদের অন্তরে কি আল্লাহর ভয় নাই?

ফজলু মওলানকে নিয়ে সবরকম মিথ্য প্রপাগান্ডা ছড়ায়ে সরলমান মুসলমানদের এমন ভাবে প্রতারিত করছেন কিছু ইসলামি লোকজন এটা দেখলে শয়তানও লজ্জা পাওয়ার কথা।
হেফাজতের সময়ও এমন ফাও উত্তেজনা তৈরি করেছিল এরা। আজও এদের একই খাসিলত দেখতে পাচ্ছি। ধরে নিলাম আপনার শত্রু মিথ্যার মধ্যে আছে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কি মিথ্যা অস্ত্র দিয়ে আপনি আন্দোলন করবেন? এটা কি ইসলামি আচরণ?

ইসলামের স্পিরিট লম্বা জোব্বা আর টুপির মধ্যে থাকে না। এটা থাকে সরল-সহজ পথের মধ্যে। আপনারা যে ইহুদিবাদি ইসলামের চর্চা করে চলেছেন তাতে ইসলামের ধ্বংস হবে না। ক্ষতি হবে সরলমনা মুসলমানদের। এবং এটা কতবড় ক্ষতি তা বুঝবেন যখন প্রকৃত যুদ্ধের মধ্যে পড়বেন। আমি মূর্খ মানুষ হিসেবে যতটা বুঝতেছি, সেই দিন খুব বেশি দূরে নয়। আফগানিস্তান মানে খোরাসানে কোন দিন কোন পরাশক্তি মুসলমানদের পরাজিত করতে পারে নাই। এটা কখনও কারো কলনি ছিল না। হবেও না। এই যুদ্ধের পরে দুনিয়ার ইতিহাস নতুন করে শুরু হবে। আর এটাতে আপনাদের কোন ভূমিকা থাকবে না। আপনারা কৌশলের নামে থাকবেন ভারত-আমেরিকা ইসরায়েলের সাথে।

কাজেই ইসলামি রাজনীতি, নবীর কথা শুনলেই বেহুস হয়ে যাইয়েন না। শয়তানও হুজুরের লেবাস ধরে আসতে পারে। চিন্তা করুণ। নিজে প্রজ্ঞাবান না হতে পারলে চুপ থাকুন। সত্য জিবন ধারণ করেণ ও প্রকৃত ভাবেই জ্ঞান চর্চা করেন -এমন আলেমদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন। ফটকা ও ডিসকো হুজুরদের কারণে সবাইকে বিভ্রান্ত মনে করার দরকার নাই। ঢালাও ভাবে হুজুগেপনা আমাদের ক্ষতি করছে। সবাইকে ধন্যবাদ। সালাম।

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-11-02 23:32:19