আবারও ভুল জায়গায় মলম দিতেছেন: – রেজাউল করিম রনি

আবারও ভুল জায়গায় মলম দিতেছেন:

সাবেক ছাত্রলীগার এখন প্রগতী-লীগ করছে, এই তথাকথিত লেখক আনিসের বক্তব্য দেখে আপনাদের বুঝতে পারার কথা এরা কতটা ভয়ংকর। একজন মৃত মানুষকে নিয়ে তামাশা করা, জাতিকে বোকা বানানো, মিথ্যা আবেগের গল্প বলাই ওদের ব্যবসায়। ছোট্টা একটা পোষ্টের প্রতিটি লাইন মিথ্যা কথা দিয়ে ভরা।

কিআলোর অনুষ্ঠানের উম্মাদনায় যে ছাত্রকে আজকে হত্যা করা হল, তাকে নাকি ক্যাম্পে প্রথমে এফসিপিএস ডাক্তার দেখেছে। দেখে হাসপাতালে পাঠাইছে। বুঝেন অবস্থা।
এফসিপিএস দেখে কিছু করতে না পেরে এমবিবিএস ডাক্তারের কাছে পাঠাইছে। পর পরে লিখেছে, হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন ডাক্তার। তার পরে লিখেছে, এর চেয়ে কঠিন শোক তিনি আর জিবনে পান নাই। এর পরে লিখেছে, সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, আবরারের অবস্থার উন্নতি হলে তিনি আপনাদের জানাবেন।
তার মানে মারা যাওয়ার পরেও এই কুলাঙ্গারের গল্পের ছুতায় মৃত আবরারের অবস্থার উন্নতি হবে -এমনটা আপনাদের বিশ্বাস করতে বলেন। এরা সুস্থ্য ও ঠান্ডা মাথার খুনি। যেটা বলছিলাম,

আপনারা ভুল জায়গায় মলম দিচ্ছেন। আবরার হত্যা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। কিন্তু এই চক্র গোটা দেশকে গণহত্যার উৎসবে শামিল করেছে। বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে এরা ফ্যাসিবাদের উৎপাদক। এরা প্রগতীর নামে, চেতনার নামে, রবীন্দ্রনাথে নামে দেশে এই ফ্যাসিবাদকে সাংষ্কৃতিক ভাবে পোক্ত করেছে।

অন্যদিকে, একজন আবরার আজ মারা গেছেন কিন্তু যে সব বাচ্চা ছেলে-মেয়ে, কিশোর-কিশেরারী আলোকিত ও প্রগতীশীল-সংষ্কৃতিমনা ও সেলিব্রেটি লেখক-শিল্পী হওয়ার জন্য এই চক্রের জালে আটকা পড়ে মানসিক ‍ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে মৃত্যু বরণ করছেন। এরা এমন এক আলোর ব্যবসা শুরু করছে তাতে গোটা প্রজন্মকে অমানুষ বানিয়ে দিচ্ছে সংষ্কৃতিবান করার নামে। এরা আলোর নামে এক নয়া পোত্তলিকতার দিকে গোটা প্রজন্মকে নিয়ে যেতে চায়। যা মানসিক ভাবে চিন্তার দিকে থেকে হত্যার শামিল। আদর্শ ও চিন্তা নিহত হলে বেঁচে থাকা অর্থহীন। তখন ওদের গোলামি করে বেঁচে থাকতে হয়। এটা জায়নবাদি কৌশল। এটাই ওরা করছে। ফলে একটা প্রাণের মৃত্যুর চেয়ে ভয়াবহ তাদের প্রকল্প। গণবিরোধী চক্রটি গোটা দেশের তারুণ্যকে শাহবাগি আদর্শ মোতাবেক গড়ে তুলতে সাংষ্কৃতিক জেহাদ করে যাচ্ছে। এর ফলে কত তরুণ জিন্দা লাশে পরিণত হচ্ছে তার হিসেব কে রাখবে?

তাদের সেলিব্রেটিপনার যে উম্মাদনা তাতে মুগদ্ধ হয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরা এইসব জিনিস চর্চা করাকে জাতে ওঠা বা এগিয়ে থাকার উপায় মনে করে। আদর্শ হিসেবে আনিস, জাফর এক বাল টাইপের লোকদের সামনে খাড়া করা হয় আইকন হিসেবে।
পুরো সাহিত্য ও সংষ্কৃতির বাজারে এরা এমন এক মনোপলি কায়েম করেছে যে, কোন স্বাধীন লেখক আদালা ভাবে দাঁড়াতে পারছে না। বাধ্য হয়ে ওদের খাঁচায় ডুকে বনসাই হয়ে যায়। বিশ্বমানের কোন লেখক তৈরি হতে পারে না। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য ওদের খাচায় ধরা পড়তে বাধ্য হয়। সাহিত্যর নামে এরা পয়দা করে কিছু শাহবাগি অর্বজনা। অন্যদিকে ৭১ -এর চেতনাকে একটি দলীয় প্রকল্প বানাতে এদের সাহিত্য ও আদর্শগত প্রকল্প বিরাট ভূমিকা রাখছে।

চেতনার বিপরীতে যারা থাকবে তাদের হত্যা করা জায়েজ -এমন হিংসার পরিবেশ পোক্ত করেছে এরা। এতে কত মানুষ এই পন্ত হত্যা হয়েছে তার হিসেব আছে কি? এইসবের দায় কি ওদের নাই? এবং এখন গোটা প্রজন্মকে ভারতের বিশেষ করে কলকাতামুখি রবীন্দ্র কলোনিয়ালিজমে ধর্মান্তরিত করে বৃদ্ধিবৃত্তিক ভাবে তাদের হত্যার যে মেশিন চালু করেছে এরা, এটার বিরুদ্ধে ধারাবাকিক সংগ্রাম না করলে দেশ থেকে কোন দিনও ফ্যাসিবাদ দূর হবে না।
এটাই আসল সংগ্রাম এখন।

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-11-02 15:55:45