আপনি কোন দলে: – রেজাউল করিম রনি

আপনি কোন দলে:

“যোদ্ধা দুই প্রকার। এক. সচেতন যোদ্ধা । দুই. অচেতন যোদ্ধা। অনেক সময় এই দুই ধরণের ব্যক্তিদের লক্ষ্য ও গন্তব্য এক হলেও প্রথম শ্রেণীর লোকদের চিন্তার স্থায়িত্ব ও দৃঢ়তা অধিক হয়ে থাকে।
এমনটি শুধু সংগ্রামের ক্ষেত্রেই নয় বরং পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি কাজে এই ধরণের স্তর বিন্যাস রয়েছে। ইসলামের পথে আহ্বানকারী ব্যক্তিত্ব ও লেখকদের মধ্যেও এমন অবচেতন ও সচেতন মনের দুটি ধারা রয়েছে।”
– আফজাল গুরু।
(কশ্মিরের মুক্তির সংগ্রামের প্রতীক শহীদ আফজাল গুরু'র করাগারে বসে লেখা বই যেটা মিরর বা আয়না নামে প্রশিত হয়েছে, উনাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার ৬ মাস পরে -সেটা থেকে লাইনগুলো নেয়া হয়েছে।)

ব্যাখ্যা:

এই লাইনগুলো আপনারা সহজে হয়তো পড়ে ফেলেছেন! কিন্তু গভীর ভাবে কি চিন্তা করেছেন? আমাদের সমস্যার সাথে কি এর সম্পর্ক আবিস্কার করতে পেরেছেন?

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন কাশ্মিরের সমস্যা আর আমাদের সমস্যার মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকার পরেও সবচেয়ে বড় মিল হল, আমরাও পরাধীন। এবং নেপথ্যে একই দেশ মানে আগ্রসী ভারত রাষ্ট্রই আমাদের এই বেগতির পিছনে মদদ দিয়ে যাচ্ছে। এবং সমাজে বিরোধীতার একটা চাপা আগুন পিনপিন করে জ্বলছে।
কিন্তু এই বিরোধীতাকে জাতীয় মুক্তির জন্য কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই খানে বলা দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকদের জন্য এটা সম্ভব হচ্ছে না। এই যে অবচেতন যাদের আমি ফ্যানটিক বা এর বাংলা করতে পারেন- 'হুজুগে' বলি এরাই সংখ্যায় প্রধান। এরাই সমাজের সব স্তরে প্রধান্য বিস্তার করে আছে বিরোধীতার নামে। এবং এই ধরণের বিরোধীতার সংষ্কৃতিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল এক শ্রেণীর আরও সক্রিয় হুজুগে লেখক ও একটিভিস্ট। যারা এই হুজগেপনাকে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যক্তি পপুলারিটিকে বাজারে বাড়াতে চায়। অস্ত্র হিসেবে ভাষা ও মশকারি করে পাবলিকে আমোদিত করার কৌশলকে কাজে লাগায় এরা। প্রতিটি ইস্যুতে ফেসবুকে এর একটা অসুস্থ্য প্রতিযোগিতাও চোখে পড়ে।

এদের কারণে স্থায়ী ও কার্যকর রাজনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের চিন্তা করা অল্পকিছু মানুষের দিকে আমরা নজর দিতে পারছি না। ফলে এই যে প্রতিদিন বিরোধীতার নামে হুজগে-পনা এটাকেই রাজনৈতিক বর্ম বা শেল্টার আকারে ব্যবহার করছে জালেম ক্ষমতা। আর লেখা-লেখি ও এক্টিভিজমের নামে বাড়ছে হতাশাগ্রস্থ এনার্কি।
তাইলে এবার বুঝেন আপনি সক্রিয়তার নামে রাজনৈতিক ভাবে ক্ষতিই করছেন কিন্তু। অন্তত রাজনীতে ভুল করার চেয়ে কোন কিছু না করাই বেশি রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় বহন করে। কারণ যখন সবাই হুজগকেই সংষ্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করে নিয়েছে তখন সক্রিয়তার নামে মূল কাজের পরিবেশ নষ্ট করার দরকার কি? বরং চুপ করে স্থায়ী সংগ্রামের ভিত তৈরিতে মন দেয়ই রাজনৈতিক আচরণ।

এবার আপিনই চিন্তা করুণ, আপনি কোন দলে থাকবেন? হুজুগে হবেন? নাকি স্থায়ী সংগ্রাম গড়ে তুলতে ধীর স্থিরভাবে চিন্তা করে জাতীয় মুক্তির সংগামকে প্রকৃতভাবেই সংগঠিত করতে ভুমিকা রাখবেন?
সীধান্ত আপনার।



Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-10-24 22:52:08