“কবিতা হলো কোন জতির পরিমাপযন্ত্র বা কথার পরিমাপদন্ড” – রেজাউল করিম রনি

“কবিতা হলো কোন জতির পরিমাপযন্ত্র বা কথার পরিমাপদন্ড”
-হযরত আলী (রা.)

তিনি নিজের আরবি ভাষা ও সাহিত্যের পন্ডিতজন ছিলেন। তাঁর আসাধারণ কাব্য প্রতিভার নজির হিসেবে দুনিয়াতে আজও ‘দিওয়ানে আলি’ সংকলনটি পড়া হয়। যারা পাঠ করেন তারা মুগ্ধও হন। কবিরা সমাজে বাস করে। অবশ্য বাংলাদেশের কবিদের দেখলে মনে হতে পারে বা কবিতা পড়লে মনে হয় জাদু ঘরে বাস করেন। মরার আগেই অমর হয়ে বসে থাকে নিজে নিজেই। আমাদের কবিতা ও কবি গোষ্ঠি প্রচন্ড ভাবে ফ্যাসিবাদি রাজনৈতিক শক্তির গোলামী করে। কুত্তার হাড্ডির মতো ক্ষমতার পা চাটতে রেডি থাকে। পুরস্কারের জন্য রাজনৈতিক নেতাদের সাথে লবিং করে। আর কবিতা যা লিখে তা এতোটাই জঘন্য যে হয় তা পুতুপুতু আবেগ না হয় রাজনৈতিক ভাবে এন্টি পিপল।
অন্যদিকে আমাদের কবিতার নন্দনতাত্বিক সমস্যাটিও গভীর। এরা কলকাতার বা সংষ্কৃত সাহিত্যের নানন্দনীক মাপকাঠিতে কবিতাকে বিচার করে। যা রাজনৈতিক ভাবে পঙ্গুত্বের লক্ষণ। আমরা যারা এর বাইরে তাদের যতটা পারা যায় কর্নার করে করার চেষ্টা করা হয়।

আর কিছু কবি আছে ইমোশনাল গল্প লিখে, কিছু আবেগি রেটরিক্যাল লাইন লিখেই ফেবুতে হাতা-তালি পাইয়া পা মাটিতে পড়ে না। আমি অবশ্য এদের আনফ্রেন্ড করে দেই। আর আছে ভয়াবহ গোষ্ঠিবাদিতা।

রাজনৈতিক ভাবে যে কবি অশিক্ষত সে কবিতার কলঙ্ক। তাছাড়া
ব্যাক্তিজিবনকে কবিতার জন্য নিজেকে তৈরি করতে না পারলে আপনি কবিতার জন্য সাতঘাট ঘুরলেও লাভ নাই। কবিতাও আপনাকে নিতে চায় কি না তা দেখতে হবে। জোর করে কবি হতে চাওয়া খুব বিশ্রি দেখায়। খালি আপনি নিলে হবে না। কবিতা সার্বভৌম। সে আপনাকে না নিলে নিজেই নিজেকে বড় কবি ভাববেন আর দিন শেষে হতাশ হয়ে দুনিয়া ছাড়তে হবে। সব কথার এক কথা চেতনা সাহিত্যের কোন ভবিষ্যত নাই। আমাদের এখনকার কবিতা পড়লেই এই জাতি যে একটা কুশিক্ষিত ও সাংস্কৃতিক ভাবে হীন-মানসিকতার তা পরিস্কার হয়ে যায়( অল্প কিছু ব্যাতিক্রম বাদে )।

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-10-18 00:53:21