আমার এক শাহবাগি বন্ধু ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই নাস্তেক। একেবারে থাবা বাবা – এএসএম ফখরুল ইসলাম

আমার এক শাহবাগি বন্ধু ছিলো। স্বাভাবিকভাবেই নাস্তেক। একেবারে থাবা বাবা লেভেলের। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। তবে মতাদর্শের প্রশ্নে তাঁর/প্রায় সবার (দুঃখজনকভাবে, আমার ক্লোস ফ্রেন্ডদের সবগুলাই পাঁড় শাহবাগি) সাথে আমার লাগতো। কিন্তু ঘটনাগুলো ২০১৩ এর আগে হওয়ায় বিভাজন/বিভক্তিটা প্রকট ছিলো না। ২০১৩ এর পর সেটা প্রকট হলেও শুরুটা অবশ্য অন্য জায়গায়।

একই ফ্রেন্ড সার্কেল থেকে সবার আগে আমি হুট করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাওয়ায়/আমেরিকা চলে আসায় খুব কাছের ফ্রেন্ডরাই সম্ভবত বিষয়টা হজম করতে পারে নি। তাঁদের কাজকর্ম দেখে তখনই বেশ কয়েকজন আমার কাছে পয়েন্ট আউট করে যে ওরা আমার প্রতি হিংসুটে আচরণ করছে। আমি কথাটা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলাম। যত দূরত্বই তৈরী হোক, আমার এককালের ক্লোস ফ্রেন্ডদের কেউ এমন মানসিকতা ধারণ করতে পারে এটা আমার জন্য বিশ্বাস করা শুধু কঠিন না, অসম্ভব ছিলো।

কিছুদিন আগে আমাদের সেই ফ্রেন্ড সার্কেলটিরই এক ফ্রেন্ড যখন জানালো, সেও মনে করে যে আমি ইউএস চলে আসার পর অন্য ফ্রেন্ডরা বিষয়টা সহজভাবে নিতে পারে নি এবং ঈর্ষাকাতর হয়েই বিরূপ আচরণ করতে শুরু করে, প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমাকে এবার এই থিওরিটাতে বিশ্বাস রাখতেই হলো। কারণ এই ফ্রেন্ড আমাদের সবাইকে খুব কাছ থেকে দেখেছে। সেও যখন একই কথা বলছে যা অন্য অনেকেরও মূল্যায়ন ছিলো, তখন আসলে আই হ্যাভ টু সোয়ালো দ্য হার্ড পিল। এটা তো অনেক আগেই বুঝে গেছি, পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই।

যে নাস্তেক ফ্রেন্ডের কথা দিয়ে আলাপ শুরু করেছিলাম, সে ফ্রেন্ডটির কাজ ছিলো মোটামুটি সবাইকে নিয়ে চুলকানো। তার উপর আমি আস্তেক ও শাহবাগের জম হওয়ায় আমাকে নিয়ে তো তাঁর চুলকানির কোনো শেষ নাই।

আমি ইউএস চলে আসার পর সে অনেকগুলো পোষ্ট দিয়েছিলো যার সারমর্ম হচ্ছে, কোনো যোগ্য লোক ইউএসএ যায় না ও যারা দেশে সুবিধা করতে পারে না একমাত্র তাঁরাই বিদেশে পালায়। ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে তখন একমাত্র আমিই ইউএস এসেছিলাম। সুতরাং এ কথাগুলো সে কাকে নিয়ে বলে চুলকে পাছার ছাল তুলে ফেলতো এই ব্যাপারে সন্দেহের বিন্দুমাত্র অবকাশ ছিলো না। পিএইচডি করতে আসাও যে অযোগ্যতা হতে পারে এই চিঁড়িয়াকে না দেখলে সেটা বুঝতে পারতাম না।

ভাগ্যের কি ফের! সেই এক্সট্রা খাউজানির ব্যারামঅলা বন্ধুটি আজ ইউএসতে। আরও দুঃখের ব্যাপার হচ্ছে, ইউএস আসা নিয়ে হাস্যকর চুলকানি দেখানো লোকটি নিজ যোগ্যতাতে ইউএস আসে নি। এসেছে স্পাউজ ভিসায়।

বিষয়টি সে ইউএস আসার পরপরই আমি লক্ষ্য করি। তখন যেহেতু সে একটি নাজুক পর্যায়ে ছিলো তাই এ বিষয়ে বিদ্রুপ করলে ও সেটা তাঁর চোখে পড়লে/কানে গেলে মনোঃকষ্ট পাবে ভেবে এ বিষয়ে কখনো কোনো কথা তুলি নি। যেহেতু অনেক বছর ধরে সে ইউএস আছে সেহেতু এখন তোলা যেতে পারে।

ইউএস আসার পর সে ছোটোখাটো একটা ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডমিশানও জুটিয়েছে। দেশ নিয়ে এক্সট্রা পীরিতি দেখানো ও বিদেশগামী আমাকে নিয়ে অকারণ চুলকানি দেখানো সে হয়তো গ্রিণকার্ডঅলা স্ত্রীর লেজ ধরে গ্রিণকার্ডও পেয়ে যাবে। অযোগ্য হয়েও প্রিভিলেজড জীবন পেয়ে যাবার একটি উতকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে সে।

ফেইসবুকের ফ্রেন্ড সাজেচশানের কারণে তার প্রোফাইলটি সামনে পড়ায় আজ কথাগুলো বললাম। যেহেতু সে এস্টাবলিশড হয়ে গেছে, এখন এ কথাগুলো বললে হয়তো তাঁর বিশেষ খারাপ লাগবে না। পাশাপাশি আমার মনের জ্বালাটাও মিটলো। অন্যের যোগ্যতা নিয়েও অকারণ চুলকানো ও যোগ্যতার বিন্দুমাত্র প্রমাণ না দিয়ে স্ত্রীর লেজ ধরে ঝুলতে ঝুলতে প্রতিষ্ঠা পাওয়া এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ড্রপ-আউট শাহবাগি দেশপ্রেমিক নাস্তেক বন্ধুটি আমার সামনে পড়লে নিশ্চয় এখন ভাববে, দুনিয়াতে আল্লাহর বিচার বলে আসলেই কিছু আছে।

Asm Fakhrul Islam | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-20 08:08:04