বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: – রেজাউল করিম রনি

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক:

বাংলাদেশের সাথে ভারতের সর্ম্পকের ইতিহাস বিশেষভাবে প্রতারণার ইতিহাস।
-এটা আমি শুরু থেকেই বলে আসছি। টকশোতেও বলেছি। দলিলসহ আজকে আবার বলছি।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র কায়েম হওয়ার পর থেকে ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক চর্চা শুরু হয় তা ছিল অসম। যা শুরু করেন আওয়ামী লীগের আইকন শেখ মুজিবর রহমান।
আমরা জানি, রাজনৈতিক সম্পর্ক দুটি দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। সেই দিক থেকে ভারতের প্রতি কারণে-অকারণে ঝুঁকে থাকার ফলে, ভারতের সহায়তায় ক্ষমতা পোক্ত করার মতলব থাকার কারণে শুরু থেকেই ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল বৈষম্যমূলক। এবং এই বৈষম্য দৃষ্টিকটু ভাবে চোখে পড়ার মতো করে শুরু হয় মুজিব আমলেই।

একমাত্র ব্যাতিক্রম হল, জিয়াউর রহমানের আমল। একটা ঘটনা শুনলে আপনারা আজকে চমকে উঠবেন।
ভারত সরকার তাদের বাজেটে ১৯৭৬-৭৭ অর্থ বছরে বাংলাদেশেকে ১৫.৩১ কোটি রুপি সাহায্য করার জন্য বরাদ্দ রাখে।
কিন্তু জিয়া সরকার ভারতকে 'ধন্যবাদ' দিয়ে বিনম্রভাবে সেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এবং এর পরে সেই সময় থেকে চায়না, মধ্যপ্রচ্য ও আমেরিকার সাথে শক্ত বৈদেশিক সম্পর্ক তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। অর্থনৈতিক বিষয়ে ভারতকে মুখের উপর না বলার ঘটনা এই আমলেই হয়েছিল। এবং ভারতের সাথে বাংলাদেশর বাণিজ্য ঘটতি ( ২৭.৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সব চেয়ে কম ছিল ৭৮-৭৯ সালে। হুম, আমলটা জিয়ার। এর পরে আর সেই সুদিন ফেরত আসে নাই। দিন দিন বেড়েছে বাণিজ্য ঘাটতি।

এখন এই ডিজিটাল আমলে আসলে ভারত-বাংলাদেশ ভেদ রেখা মুছে বাংলাদেশ ভারতের কলোনিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের অনৈতিক প্রভাব আমাদের উপহার দিয়েছে এক বিনাভোটের ফ্যাসিবাদি ক্ষমতা। বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে ভারতের বাজারে। চেতনার ফেরিওলারা এখন হিন্দী ভাষাতে নাটকের ডায়লগ বলে ও অভিনয় করে নিজেকে খাস গোলাম প্রমাণ করতে প্রাণপন চেষ্টা করে।

এই সরকার যে সব চুক্তি করেছে তা করার রাইট তাদের নাই। যেহেতু দেশটা তাদের দলীয় বা পৈত্রিক সম্পত্তি না। তাছাড়া এরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত না। এইসব চুক্তি বাতিল করাসহ- এতোদিন সেসকল প্রকৃয়ায় অন্যায় ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি করা হয়েছে, ফেনী নদীর পানি নেয়া হয়েছে, ফারাক্কার কারণে যে বিপুল ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ভারতের কাছে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। উল্লেখ্য যে, আন্তজা‍র্তিক মহলে ফারাক্কা নিয়ে প্রথম আপত্তি উঠানো হয় জিয়া আমলে। তিনি এই বিষয়ে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ আহবান করেছিলেন।

অনেক কথা বলা যায় এগুলা নিয়ে, আজ থাক। এখন একটাই কাজের কথা। দলমত নির্বিশেষে ভারতের পরিকল্পিত আগ্রাসণের বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে। সার্বভৌমত্বের বোধ যার নাই সে র্নিবোধ। তার রাজনীতি করার কোন দরকার নাই। আর বন্ধু রাষ্ট্র বলে কিছু নাই। এক রাষ্ট্র অপর রাষ্ট্র থেকে আলাদা হয় শত্রুতার পারসেপশন থেকেই। সম্মিলত সার্কাস ও মিথ্যার মঞ্চ নাটক জাতি বর্জন না কারলে এই অবস্থার পরির্বতন হবে না।

(লেখাতে যে তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে তা নেয়া হয়েছে, মোহাম্মদ সেলিমের পিএইডি গবেষণার লিখিত রুপ হিসেবে বাংলা একাডেমি থেকে ২০০৯ সালে প্রকাশিত 'বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক'- বইটা থেকে)

Rezaul Karim Rony | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-10-06 23:10:56