খবর: বায়তুল মোকাররমে প্যান্ডেল ঝড়ে বিধ্বস্ত। একজনের মৃত্যু। – রেজাউল করিম ভূইয়া

খবর: বায়তুল মোকাররমে প্যান্ডেল ঝড়ে বিধ্বস্ত। একজনের মৃত্যু।
=====

এ ধরনের ঘটনাগুলোও কয়েকবছর ধরেই ঘটতেছে। এবং তা বাংলার হুজুরদের উপরই বেশী আসতেছে। তাই , ধারণা হচ্ছে, যে আল্লাহ আমাদেরকে ( হুজুরদেরকে ) সতর্ক করছেন হয়তো। হয়তো বড় আযাব আসার আগে ছোট আযাবের পদধ্বনী শুনছি আমরা।

আমাদের উপরকি বড় কোন আযাব আসতে যাচ্ছে? আত্মম্ভিরতা রেখে এখনই কি আত্মসমালোচনার সময় নয়? আমরা কি কি পাপে লিপ্ত এবং এটা বন্ধ করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছিনা , তা বিবেচনা করা উচিত নয় কি ?

==========

তাহলে আসুন, আমরা হুজুর রা কি কি অপরাধে লিপ্ত , তার একটি তালিকা বের করি, উদ্দেশ্য , নিজেদের কে শোধরানো। যাতে আল্লাহর দেয়া সিগনাল অনুযায়ী আমরা আগাতে পারি। যদি আল্লাহ এই সিগনাল দিয়েই থাকেন।

===========

এক. বহুদিন ধরেই বাংলাদেশে শত শত জুমু'আর খুতবা শুনছি। কিন্তু জাতি হারামে লিপ্ত হলেও কখনও মিম্বার থেকে জরুরী কথা বলা হয়না। সাধারণত: । অথচ, জাতিকে সাবধান করা হুজুরদের কর্তব্য। এটাই কি ইলমের দাবী নয়?

জরুরী কথা গুলো এই:

এক. সাধারণ মানুষ জানেনা, যে মাহরাম কে আর নন-মাহরাম কে। অথচ মাত্র ৫ মিনিটের বয়ানে হুজুর রা এটা মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারে। কিন্তু বছরে ৫২ টা খুতবার ৫২টায় কিচ্ছা কাহিনী, দান-খয়রাত নিয়ে ব্যয় হয়।

শুধু তাই নয়, সামাজিক সম্পর্কে বাঙ্গালীরা মুশরিকি নিয়ম মেনে চলে। অনেক সময় অনেক বিয়ে ,ইসলামে বৈধ হলেও, সম্পর্ক মিলে না বলে ভেঙ্গে দেয়া হয়। অথচ জায়েজ ছিল। এর কারণ হয়, ইসলামী বৈধ-অবৈধ সম্পর্ককে না বুঝা , বরং সনাতন তরীকায় সম্পর্ক নির্ধারণ করা।

কাজেই প্রতিটি যুবক যুবতীর কাছে এই খবরটা পৌছাতে হবে, যে কার সাথে পর্দা করতে হবে, কার সাথে হবেনা। কার শরীর ছুলেই পাপ হবে, কারটা ছুলে হবেনা। দুলাভাই-ভাবী-চাচত-ফুপাত-খালাত অপজিট জেন্ডার – খালু-মামী এইসব ব্যাপারে সতর্ক করে দিতে হবে। বার বার বললে মানুষ মানবেনা কেন বলেন?

এটা বলা হচ্ছেনা, এবং জাতি গুণাহে লিপ্ত।

দুই. মিরাসের হুকুম মানুষ জানেনা। সুন্নাহ হল, কোন ব্যক্তি মারা গেলে ইমিডিয়েট সম্পদ ভাগ করে ফেলা। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, কেউ মারা গেলে, তার সম্পত্তি ৮০ বছরেও ভাগ হয়না। সব মুখে মুখে চলতে থাকে। বোনদের সম্পত্তির ভাগ দেয়া হয়না। আবার অনেকে মেয়েকে বেশী দেয়।

কেউ মারা যাবার পর ৩-৪ জেনারেশন সম্পত্তি ভাগ না হওয়ায়, নাতি-পুতিদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হয়ে জমি নিয়ে মারামারি লাগে । এরপর সব টাকা উকিল আর পুলিশ খায়। বাংলাদেশে ৩০ লাখ মামলার ৯০ ভাগ হল জমি সংক্রান্ত। ইভেন খুন খারাবী ধর্ষণ, জালাও পোড়াও এর পিছনের ঘটনা ঘাটলে দেখবেন যে জমি নিয়ে প্রবলেম ছিল, তাই এইগুলা হইছে।

এর জন্য দায়ী হল , জমি ইমিডিয়েট ভাগ না করা ( ২-৩ মাসের মধ্যে ) ।

এসব ঝামেলা হুজুর রা চাইলেই সমাধা করতে পারে। খুতবায় বলতে হবে, বার বার। মানুষ জানেনা, তাই ঝামেলা হচ্ছে।

তিন. চারিদিকে ব্যাভিচার এর প্রসার। এর জন্য হুজুরদের থেকে সেক্যুলার রা বেশী জড়িত। কিন্তু মসজিদে তো বলতে হবে। বলা হয়না তো। কম বলা হয়।

চার. প্রতিটি হাফেজী মাদ্রাসায় ব্যাপক মারধর। মারতে মারতে ছেলেদেরকে মেরে ফেলা হচ্ছে, আত্মহত্য হচ্ছে। সমকামিতা হীন হাফেজী মাদ্রাসা পাওয়া কষ্ট। এগুলা সমাধানের জন্য নতুন কোন ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্যোগ নেই, বরং ধামাচাপা দেবার চেষ্টা।

আদীব হুজুর একটা ফরম্যাট দিয়েছিলেন, তা নিয়েও মাথাব্যথা নেই। কোন উদ্যোগই নেই সেরকম।

অথচ কত বড় গুণাহ চলতেছে। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত।

পাচ. বিয়ে শাদীতে গায়ে হলুদ, অতিরিক্ত গয়নাগাটি – আসবাব বিতরণ, মাত্রাতিরিক্ত খরচ , মাত্রাতিরিক্ত পার্টি , এসব বিজাতীয় রসম রেওয়াজ নিয়ে কখনও খুতবায় কেউ কিছু বলেনা। মানুষকে বলে মানুষ শুনবেনা কেন?

ছয়. মানুষ মারে গেলে, যে বিদাতগুলো হয়, সেগুলো নিয়ে কেউ কিছু বলেনা। মানুষ মারার পরে তো আসলে জানাজা ছাড়া আর কিছু নেই। বলা দরকার না?

======= এবার আমজনতাকে দেয়া কষ্ট।

সাত. মসজিদের মাইকে উচ্চস্বরে সেহরীর সময় ডাকাডাকি করা, রাত দুইটা থেকে। মানা করলেও থামেনা।

আট. ওয়াজ মাহফীল শুরু করবে ১০ টার পরে। মাইক দিবে আবাসিক এলাকায়। সারা রাত চিৎকার চেচামেচি। কেউ ঘুমাতে পারেনা। মাইকে জিকির করে। বললে থামেনা। কেন মাইকগুলো ভাল দেখে কিনলে কি হয়? মাইক অধো:মুখি করে আস্তে আস্তে কথা বললে কি হয়? মানুষ সারাদিন কাজ করে রাতে একটু ঘুমাবে , বা দিনেও কাজ করবে, করতে দেন না কেন? অসুস্থ রোগী আছে, বাচ্চারা ঘুমাচ্ছে, মহিলারা আছে বাসায়, তাদের কথা মাথায় রাখতে হবেনা?

এক সময় বলতো মাইক হারাম। এখন মাইক হাতে পাইলে, হুশ থাকেনা।

এগুলাকে ছোট বিষয় মনে করবেন না, এগুলো জরুরী বিষয়। এগুলোর কারণে মানুষ ইসলামকে ঘৃণা করতেছে।। কাজেই এগুলো ঠিক করতে হবে।
=====

সারাদিন বিতর্কিত বিষয়, তারাবী ৮ না ২০, আমীন: জোরে না আস্তে, এইসব নফল বা অপশনাল বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্ক করেসময় নষ্ট। কিন্তু ফরজ ওয়াজীব নিয়ে খবর নাই। হারাম থেকে জাতিকে কিভাবে বাচানো, তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই।

এই যে, লালমনির হাট সহ উত্তরবঙ্গে মানুষকে অমুসলিম হয়ে যাচ্ছে, রোহিঙ্গারা অমুসলিম হয়ে যাচ্ছে, খবর নাই। খবর খালী ছৌটখাট বিষয় নিয়ে তর্ক বিতর্ক। সময় নষ্ট।

=========

আলহামদুলিল্লাহ, অনেকে এসব ব্যাপারে সচেতন। কিন্তু জেনারেল ট্রেন্ড হল , আসলে আমাদের হুশ নাই। আমরা পাগড়ী নিয়ে খুব সচেতন। পাগড়ী কোন কালারের হবে, তা নিয়ে মারামারীতে লিপ্ত। কিন্তু লুঙ্গি পরা যে ফরজ, লুঙ্গি যে নাই। সেটা নিয়ে কোন মাথাব্যথা নাই।

=========

আসুন আমরা আমাদের শুধরাই। ফরজ ওয়াজীবকে গুরুত্ব দি, হারাম থেকে নিজে দূরে থাকার চেষ্টা করি, অপরকে বলি, ভুল হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করি। কম প্রয়োজনীয় বিষয়, যে যা খুশী করুক, কি আসে যায়।

জরুরী এবং প্রয়োজনীয় বিষয় ( এক থেকে ছয় ) নিয়ে কথা বেশী বলি, এবং কাজের প্রায়োরিটি বুঝি।

=======

তাহলে আল্লাহ কোন খান থেকে রিযিক দিবেন, কোন খান থেকে বরকত এসে দশ কেজি চালে দশ কোটি লোক চলবে, টেরও পাবেন না।

জলে ও স্থলে যে বিপর্যয়, তা আমাদের কামাই বই কিছু নয় আর।

========
একবার বনী ইসরাইলের এক অংশের উপর আযাব পাঠানোর জন্য আল্লাহ ফেরেশতাকে পাঠালেন। ফেরেশতা আযাব বাস্তবায়ন না করে, আল্লাহর কাছে গিয়ে বললেন, যে ওই খানে এক বুজুর্গ আছে, যে সারাদিন ইবাদতে লিপ্ত, এখন কি করবো? একজন তো ভাল আছে?

আল্লাহ ফেরেশতাকে বললেন, যে ওই ইবাদতগার বুজুর্গকে দিয়ে আযাব শুরু করবা। কারণ তার সামনে তার উম্মাত এত গুণাহে লিপ্ত হচ্ছে, কিন্তু তার এটা নিয়ে কোন মাথাব্যথা নাই কেন? সে নির্লিপ্ত কেন? সে এগুলো থামানোর জন্য চেষ্টা করতেছেনা কেন ?

ফলাফল: আযাব নিশ্চয়ই ওই ইবাদতগার বুজুর্গকে দিয়ে শুরু হইছে।
আল্লাহ ভাল জানেন।

কাজেই আমি হুজুর, আমি নিজে ইবাদত করবো, বাহিরে কি হবে কিচ্ছু জানিনা, এসব বললে হবেনা। নাহি আনিল মুনকার। ওকে? এট লিস্ট , চেষ্টা করতে হবে, উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে হুজুরকে দিয়েই আযাব শুরু হইতে পারে। কারণ হুজুর যা জানে, তা কিন্তু আমজনতা জানেনা।

=========
সমস্যার সমাধান খুব সহজ, খালী মুখে বলবেন, বার বার বলবেন, ভদ্রভাবে বলবেন। বড়দের কানে পৌছাবে তাহলে। বড়রা অনেক কাজে ব্যস্ত। পুশ না করলে কাজে হাত দেবার তাড়না পায়না। এই আরকি। গুরুত্ব না দিতে দিতে এসব এখন বড় সমস্যা হয়ে গেছে।

আরকিছুনা। তারা ভাল মানুষ, মুখলিছ বান্দা, কিন্তু ঘটনা কতটুকু র‍্যামপ্যান্ট তা জানেন না, তাই খালী পুশ করতে হবে। মৌখিক ভাবে। উপর থেকে হুকুম আসলে, সব মাদ্রাসা মানবে, না মেনে উপায় নাই।

======

জাযাকাল্লাহ।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-05-18 05:57:49