ব্যাংক লিকুইডেশন করলে গ্রাহক প্রতি এক লক্ষ টাকা পাবে এই আলাপটা নিয়ে বিবিসি এবং দৈনিক যুগা – জিয়া হাসান

ব্যাংক লিকুইডেশন করলে গ্রাহক প্রতি এক লক্ষ টাকা পাবে এই আলাপটা নিয়ে বিবিসি এবং দৈনিক যুগান্তরের রিপোর্টে মির্জা আজিজুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম খালেদের ভিন্নমুখী বক্তব্যে আপাতদৃষ্টিতে মোহাম্মদ ইব্রাহিম খালেদ সঠিক বলেছে মনে হলেও , বাস্তব ক্ষেত্রে মির্জা আজিজুল ইসলামের বক্তব্য অধিক সঠিক হবে।

একাধিক বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলে আমি এই ফিডব্যাক টা পাচ্ছি।
এখানে একটা গভীর পলিটিক্স আছে যা, ইব্রাহিম খালেদ সাহেব নিঃসন্দেহ অবগত আছেন কিন্তু সেটা জেনেও তিনি প্রকাশ করেন নাই।

প্রথম বিষয়টি হচ্ছে যে কোনো ব্যাংক বা non-banking ফাইনান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান যদি অবসায়ন করা হয় – তবে ধারণা গত ভাবে আমরা জানি যে অবসান প্রক্রিয়ার পরে ডেপোজিট ররা তাদের জমা টাকা ফেরত পাবেন- এই বিষয়টা পুরোপুরি ধারণাগত।

আমার বন্ধুরা জানাচ্ছেন ওরিয়েন্টাল ব্যাংক যা 2006 সালে অবসায়ন করা হয়েছে তার টাকা ডেপোজিটররা এখনো ফেরত পায়নাই।

পিপলস লিজিং অবসায়নের সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে কিন্তু ডেপোজিটরা কবে টাকা পাবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং আইন এবং বিবিধ আইনের ফাঁকফোকরে এবং দীর্ঘসূত্রতায় এই পুরো টাকাই গায়েব হয়ে যায়।ফলে কোন ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে ক্ষুদ্র ডিপোজিটরদের এ
প্রাথমিক যে সুরক্ষা সেইটি আসে ইন্সুরেন্স থেকে।
এই পরিমাণটি ২০০০ সাল থেকেই এক লক্ষ টাকা আছে।

ভারতে ও ১৯৯০ সাল থেকেই ডিপোজিট ইন্সুরেন্স গ্যারান্টির পরিমাণ এক লক্ষ টাকা ধারণ করা আছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে কিছু নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান অবসায়ন হওয়ার ফলে জনদাবির মুখে মাত্র ২০২০ সালের বাজেটে এই ডিপোজিট ইন্সুরেন্স এর সীমা এক লক্ষ রুপি থেকে ৫ লক্ষ রুপি তে রূপান্তর করা হয় যা বিগত চার ফেব্রুয়ারি থেকে আইন হিসেবে বলবৎ হয়েছে।

ভারতীয় আইন প্রণেতা এবং ভারতীয় প্রেসার গ্রুপ দের মতামত ছিল, ২৬ বছর ধরে এক লক্ষ টাকা ইন্সুরেন্স এর সীমানা বহাল আছে যা এখন যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না।
এইজন্য ২৬ বছর পরে এই এক লক্ষ রুপির ডিপোজিট ইন্সুরেন্স গ্যারান্টি 5 লক্ষতে নিয়ে আসে সরকার।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০ , এর নতুন যে সংশোধন করা হচ্ছে তাতে এই এক লক্ষ টাকার ডিপোজিট ইন্সুরেন্স গ্যারান্টির সীমানা বাড়ানো হয়নি। আমার বন্ধুরা জানাচ্ছেন মূলত ব্যাংক মালিকদের চাপে এই কাজটি করা হয়নি।
কারণ এই অর্থটি যদিও বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে কাটা হবে কিন্তু এই গ্যারান্টি ক্ষুদ্র ডিপোজিরদের অর্থের বড় একটি সুরক্ষা দিত।
আরো বিস্ময়কর হচ্ছে বর্তমান আইনে বলা হচ্ছে কারো যদি একাধিক একাউন্ট থাকে এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট যদি অতিরিক্ত অর্থ থাকে তবুও সে সবগুলো একাউন্ট মিলে ১ লক্ষ টাকার উপরে পাবে না।

এই আইনটি সম্পূর্ণভাবে ব্যাংক মালিক এবং ব্যাংক লুটের বেনিফিশিয়ারি দের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য সাজানো হয়েছে।

বাংলাদেশের পলিটিকাল রিয়ালিটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা সত্ত্বেও, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক এবং পিপলস লিজিং এর অবসায়নের টাকা ডিপোজিটর এর হাতে না পৌঁছানোর পরিস্কার উদাহরন থাকা সত্ত্বেও ইব্রাহিম খালেদ সাহেব কেন বিবিসিতে বললেন,

“ক্ষুদ্র আমানতকারীরা এ থেকে লাভবান হবেন।”
“আমানতকারীদের টাকা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা এবং এ জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও আইন আছে।”

এইটা উনি জানেন।

আইন যদি ডেপোজিটর দের স্বার্থ রক্ষা করতেই পারে তাহলে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বা পিপলস লিজিং এ পারে নাই কেন?

এই অবস্থায় ডিপোজিট ইন্সুরেন্স গ্যারান্টি, অন্তত বিগত 20 বছরের ইনফ্লেশন এডজাস্ট করে পরিমাণ টা বাড়তে পারতো, তাতে কোন ব্যাংক যদি দেউলিয়া হতো ক্ষুদ্র ডিপোজিটররা কিছুটা হলেও সুরক্ষা পেত।

কি কারনে ডিপোজিট ইন্সুরেন্স গ্যারান্টির পরিমাণ ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়ানোর বিপক্ষে গিয়ে ব্যাংক মালিকদের পক্ষে গিয়ে তিনি অবস্থান নিলেন , এবং কি কারণে তিনি এই গণবিরোধী আইনের পক্ষে গান গাইলেন আশা করি উনি এটা আগামীতে পরিষ্কার করবেন।

Zia Hassan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-07 22:17:52