আগের দিনে পন্ডিতেরা পলিম্যাথ ছিলেন। সক্রেটিস, এরিস্টটল হতে আরও অনেক অনেক নাম এই তালিকায় যো – জাহিদ রাজন

আগের দিনে পন্ডিতেরা পলিম্যাথ ছিলেন। সক্রেটিস, এরিস্টটল হতে আরও অনেক অনেক নাম এই তালিকায় যোগ করা সম্ভব।

ইমাম শাফেয়ী একটা বড় সময় (সম্ভবত পাঁচ বছর) ব্যয় করেছেন ফিরাসা (ফেস রিডিং) শিখতে। বলা যায় বর্তমান সময়ে পিএইচডি এর সমান। এছাড়া আরবি সাহিত্য, ব্যাকরণ, হাদিস এসব বিষয়ে তার সমান পাণ্ডিত্য হয়ত খুবই কম স্কলারদেরই ছিল। বর্তমান সময়ে বিশেষজ্ঞরাও একটার বেশী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন না। এর কারণ টা কি আসলে জ্ঞানের অগ্রগতি নাকি বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবন ?

একটা বিষয়ে পন্ডিত হওয়ার জন্য সুইডিশ প্রফেসর কে এরিক এন্ডারসন এর দশ হাজার ঘণ্টা অনুশীলন এর থিওরি সবচেয়ে বহুল সমাদৃত। ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল সহ যারাই পারফরম্যান্স নিয়ে কাজ করছেন তারাই বলতে চেয়েছেন, আপনাকে বিশ্বমানের স্পেশালিস্ট হতে হলে কম্পক্ষে দশ হাজার ঘণ্টা ডেলিবারেট অনুশীলন করতে হবে। সহজ ভাষায় যেটা হোল-প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে নয় বছরের চেয়ে কিছু বেশী সময়। নিউরো সার্জারি বা এরকম জটিল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হলে আরও অনেক বেশী প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ হাজার ঘন্টা অনুশীলন প্রয়োজন।

প্রশ্ন হোল – ডেলিবারেট এটেম্পট বলতে আমরা কি বুঝি ? ধরুন আপনি গলফ খেলা শুরু করলেন। প্রথম পঞ্চাশ ঘণ্টা ব্যয় করার পরেই আপনি অনেকটা উন্নতি করবেন। খেলার বেসিক নিয়ম কানুন শিখে যাবেন। বড় সড় ভুলগুলো হয়ত আর হবে না। এরপর আপনি যদি ফান হিসেবে খেলতে খেলতে দশ হাজার ঘণ্টা কাটিয়ে দেন তাহলে কি আপনি বিশেষজ্ঞ হবেন বা বিশেষজ্ঞ লেভেলের সক্ষমতা অর্জন করবেন ?

উত্তর হোল- না, কারণ আপনার অনুশীলন ডেলিবারেট না। এর জন্য আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার ভুলগুলো কি । এরপর এ ভুলগুলো নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করতে হবে। একটা ভুলকে ঠিক করতে হলে অনেক সময় শত শত বার অনুশীলন করতে হবে। ভুল জিনিস হাজার বার অনুশীলন করেও কোন লাভ নেই। এ জন্য প্রফেশনাল খেলোয়াড়রা এমন কোচ বেছে নেন যারা খুব চমৎকার ফিডব্যাক দিতে পারে, একেবারে ছোটখাট ভুল ধরিয়ে দিতে পারে।

আমেরিকার ন্যাশনাল বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট এ খেলোয়াড়দের স্কোরিং নিয়ে দুইজন বিশেষজ্ঞ গবেষণা করে বের করেছেন – ৪৫ ডিগ্রি কোণে বল থ্রো করে করলে সহজে স্কোর করা সম্ভব। গাণিতিক হিসেব এক জিনিস আর সেটার প্রয়োগ একটা ভিন্ন জিনিস। এখন প্রশ্ন হোল ৪৫ ডিগ্রি কোণে বল থ্রো করা, এটা খেলোয়াড়দেরকে শেখানো যায় কিভাবে ? দুই গবেষক 'আর্ক অব নোয়া' নামে ক্যামেরা এবং অটোমেটেড ভয়েস আছে এরকম একটা মেশিন তৈরি করলেন যেটা খেলোয়াড়দেরকে অনুশীলন এর সময় রিয়েল টাইম ফিডব্যাক দিবে, অনেকটা গাড়ির আধুনিক জিপিএস এর মত, যে সাথে সাথে বলে দেয়- আপনার থ্রো এত ডিগ্রি হয়েছে। খেলোয়াড়রাও নিজের থ্রো সম্পর্কে বুঝতে পারে কিভাবে এটা এডজাস্ট করতে হবে এবং ধীরে ধীরে ৪৫ কোণে বল থ্রো করা রপ্ত করে ফেলে। এতে পারফরম্যান্স এর উপর অনেক পজেটিভ প্রভাব পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে- প্রফেশনাল এথলিট বা দাবারু বা অন্য যে কোন স্পোর্টস প্রফেশনালরা অনেক ছোট বেলায় অনুশীলন শুরু করে এবং পনের বছর বয়সেই দশ হাজার ঘণ্টা ডেলিবারেট অনুশীলন করে ফেলে।

বাংলাদেশে আমাদের পক্ষে দশ হাজার ঘণ্টা অনুশীলন করা এক প্রকার অসম্ভব কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে (অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে) । খেলোয়াড়রা ছাড়া (এখানেও অনেক- 'তবে' 'কিন্তু' আছে) এর বড়সড় ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায় একমাত্র হাফেজদের মধ্যে যারা কোরআন মুখস্ত করেন। তারা বেশীরভাগই কোরআন মুখস্ত করতে গিয়ে দশ হাজার ঘণ্টার বেশী সময় অনুশীলন করেন এবং উস্তাদদের কাছ থেকে প্রচুর ফিডব্যাক পান। যে কারণে দেখা যায় বাংলাদেশের হাফেজরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতায় ভাল করছেন।

Jahid Razan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2016-09-25 14:37:00