কার্ল পপারের ফলসিফিকেশন থিওরির কথা আপনারা হয়তো জানেন। পপার বিজ্ঞান থেকে অবিজ্ঞানকে কীভাবে – আসিফ সিবগাত ভূঞা

কার্ল পপারের ফলসিফিকেশন থিওরির কথা আপনারা হয়তো জানেন। পপার বিজ্ঞান থেকে অবিজ্ঞানকে কীভাবে আলাদা করা যায় তা বোঝাতে এই ফলসিফায়েবিলিটির আইডিয়া নিয়ে এসেছিলেন। একটি ধারণাকে বৈজ্ঞানিক ধারণা হতে হলে তাকে ফলসিফায়েব্‌ল হতে হবে, অর্থাৎ সেটাকে ভুল প্রমাণিত করার সুস্পষ্ট পথ থাকা লাগবে।

যেমন ধরুন আপনি যদি বলেন জিন বলে আসলেই কিছু আছে। তাহলে পপারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি অবৈজ্ঞানিক কথা। কারণ কথাটিকে বৈজ্ঞানিক হতে হলে জিন যে নেই সেটা পরীক্ষা করার রাস্তা থাকতে হবে। যেহেতু জিন আছে বা নেই এটা পরীক্ষা করার কোনও সুস্পষ্ট পথ বা পদ্ধতি নেই তাই এটা বৈজ্ঞানিক দাবীই হতে পারে না। তার মানে এই নয় যে কথাটি 'ভুল', কথাটি স্রেফ বৈজ্ঞানিক নয়। যে কোনও ধর্মীয় দাবীই আসলে বৈজ্ঞানিক নয় চারিত্রিক ভাবে। এগেন তার মানে এই নয় যে ধর্মীয় দাবীটি ভুল বা ঠিক। কোনো প্রস্তাবের ঠিক বা ভুল নির্ধারণ করার জন্য বিজ্ঞানই (বা সায়েন্টিফিক মেথডলজি) একমাত্র পদ্ধতি কিনা সেই প্রশ্ন তখন প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়। যারা ধর্মে বিশ্বাস করেন তাদের মূল প্রস্তাব সেক্ষেত্রে এটাই (বা এটাই হওয়া উচিৎ) যে বিজ্ঞান ছাড়াও কোনও দাবীকে গ্রহণ বা বর্জন করার অন্য উপায় থাকতে পারে এবং আছে। কিন্তু যে ব্যাপারে ধর্মীয় ও অধর্মীয় লোকেরা – যারা ধর্ম ও বিজ্ঞান উভয়কেই ঠিকমতো বুঝেছেন – তারা একমত হতে পারেন সেটা হোলো যে ধর্মীয় দাবীগুলো চারিত্রিক ভাবে বৈজ্ঞানিক নয়।

একটি মজার উক্তি দিয়ে এই ফলসিফায়েবিলিটির ব্যাপারটাকে বোঝানো যেতে পারে। এক বিজ্ঞানীর কাছে একজন লোক এসে আগাগোড়া একটি অবৈজ্ঞানিক দাবী করে বসলেন। বিরক্তিতে সে বিজ্ঞানী বললেন: “You are not right! hell, you are not even wrong!”

Asif Shibgat Bhuiyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-01-05 19:44:34