করোনা ভাইরাস সমগ্র। – রেজাউল করিম ভূইয়া

করোনা ভাইরাস সমগ্র।
====
করোনার সবচে বড় দিক দুইটা। এক হল এর ইনকিউবেশন পিরিয়ড সারপ্রাইজিংলী লং। প্রায় ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।

মানে কারো করোনা হল, এখন ১৪ দিন পর্যন্ত সে জানবেনা যে তার করোনা হইছে। এই ১৪ দিন ধরে সে হাটে যাবে, বাজারে যাবে সবার সাথে হ্যান্ডশেইক করবে, সে করোনাকে ছড়াবে।

১৪ দিন পরে তার জ্বর আসবে, এবং বুঝা যাবে যে তার করোনা হয়েছে। তখন তো তাকে সরকার কোয়ারান্টাইন করবে বা সে নিজেই করবে।

কিন্তু এই চোদ্দ দিনে তো ছড়িয়ে দিয়েছে অনেকের মাঝে। সেই অনেকে আবার এভাবে ছড়াবে।

সাধারনত: অন্য ভাইরাসের ক্ষেত্রে এমনটা হয়না, এত লম্বা হয়না ইনকিউবেশন পিরিয়ড। শুরুতেই ধরা পড়ে।

====
আরেকটা দিক হল: করোনাতে মানুষ আসলে সেভাবে মারা যাচ্ছেনা। প্রতি ১০০ জনে মাত্র ৪-৫ জন মারা যাচ্ছে। তবে এ সংখ্যাটা আরো কমতে পারে, কারন প্রথম দিকে একে চাইনিজরা সিরিয়াসলী নেয় নি।

আসলে এই ভাইরাসে একদম বৃদ্ধ বা শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশ কম তারা মারা গেছেন। অধিকাংশ লোকই নিজে নিজেই সুস্থ হয়ে গেছে। মানে ৯৫% এর বেশী মানুষ করোনা হবার পরে আবার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে কোন ভ্যাকসিন ছাড়াই। বডির সেলফ ডিফেন্স মেকানিজম কত শক্তিশালী দেখেন।

তার মানে সেই যে ব্ল্যাক প্লেগ হয়ে ইউরোপে ৪০% লোক মারা গেছে , তেমন কিছু ইনশাআল্লাহ হবেনা বলে বিশ্বাস করি।

বরং যেটা সবোর্চ্চ হতে পারে ( আল্লাহ না করুক ) , যে একটা দেশের বিশাল অংশের মানুষ আক্রান্ত হয়ে ১-২ মাস বেডে থাকবে। তারপর ৯৫% মানুষই আবার সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবে।

কিন্তু সমস্যা হল, এত বিশাল সংখ্যক এক্সট্রা রোগীকে হাসপাতালে জায়গা দিবে কিভাবে? সব হাসপাতাল তো প্যাক হয়ে যাবে। ডাক্তার-নার্স রা তো নিজেরাও অসুস্থ হবে বা অতি কাজে কর্মক্ষমতা হারাবে। এত বিশাল ( লক্ষাধিক) রোগীকে সামলোনোর ব্যবস্থা তো নাই।

আর যারা অসুস্থ, তারা তাদের ব্যক্তিগত কাজগুলো করতে পারবেন না, তাদের পরিবার পরিজন তাদের পিছনে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। সুতরাং প্রাইভেট কোম্পানীগুলো সব টেমপোরারী কাজ করতে অক্ষম হয়ে যাবে। ট্রান্সপোর্টেশন-ফুড সাপ্লাই-বিদ্যুত সাপ্লাই-ম্যানুফ্যাকচারিং-ইন্টারনেট-মোবাইল : এ সংক্রান্ত সবকিছু হল্ট করতে পারে কিছু কাল। তখন মানুষ প্যানিক হয়ে যা যা করে , তা করতে পারে।

আল্লাহ না করুক। আশা করি এসব হবেনা, তবে হওয়া অসম্ভব না। এত দূর এখনও ছড়ায় নি।

=====

সুতরাং করোনা ভাইরাস ইটসেলফ যতটা ক্ষতিকর, তার সোশাল-পলিটিকাল-ইকোনমিকাল এফেক্ট আরো বেশী ক্ষতিকর হবার সম্ভাবনা।
====

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত: হংকং (২৬) এবং সিঙ্গাপুরে(৩৩) কিছুটা ছড়িয়ে গেছে করোনা। কিছুটা প্যানিক হয়েছে তারা। রাস্তায় রাস্তায় মানুষ মাস্ক পরে ঘুরতেছে। গ্রসারী আইটেম সবাই কিনে কিনে জমাচ্ছে। সারা দুনিয়ার কিছু দেশের তালিকা দিলাম:

জাপান-২৫
সাউথ কোরিয়া-২৪
মালয়েশিয়া-১৬
জার্মানী-১৩
ইউএস-১২
ফ্রান্স-১১
ইউকে-০৩
ইন্ডিয়া-০৩
রাশা-০২

: এই হল আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
====
আর চায়না: ৩৪,৯৬৩ জন। চিন্তা করছেন? সবকিছুরে গুজব বানাইলে যা হয়। পুরা বাংলাদেশের ডেঙ্গু গুজবের মতন।
===

তাহলে, বুঝেন আনন্দিত হবার কিছু নাই। বরং যদি এটা বাংলাদেশে আসে, তাহলে একদম বাংলাদেশের ইকোনমি শেষ হয়ে যাবে। এক পিচ্চি রোগ ডেঙ্গুতেই কি হইছিল। আর ডেঙ্গু তো মশা ছাড়া ছড়ায়না। এই করোনা তো মানুষ থেকে মানুষে জাস্ট স্পর্শ দিয়েই ছড়ায়।

গুলিস্তান-ফার্মগেট মোড়ে একজন করোনা রোগী ভীড়ের মধ্যে গেলেই পুরা বাংলাদেশ ইনফেক্টেড। বা ইভেন বইমেলা। কারন মনে রাখবেন, একজন কিন্তু ১৪ দিন ধরে ছড়াবে।

উন্নত বিশ্বে ভীড়ের মধ্যেই মানুষের বডি একে অপরকে টাচ করেনা। কিন্তু বাংলাদেশে লোকের ভীড় এত বেশী, যে অনিচ্ছাকৃত ভাবে হলেও তা হয়। সুতরাং উন্নত বিশ্বে বা ইভেন চায়নায় ১ জন থেকে যদি ৫ জনে ছড়ায়, বাংলাদেশে ১ জন থেকে ৫০০ জনে ছড়াবে।

তবে শেষ কথা: আসলে এতদূর হয়তো ব্যাপারটা গড়াবেনা ইনশাআল্লাহ, অতি দ্রূত সম্ভবত ভাইরাসটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। সবোর্চ্চ খারাপ কি কি হতে পারে, তা চিন্তা করে রাখলাম, মেন্টাল প্রিপারেশনের জন্য।

====

আসেন দোয়া করি, যে আল্লাহ যেন আমাদেরকে তার সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আমাদেরকে রক্ষা করেন।

আর মৃত্যু নিয়ে এত টেনশনের কিছু নাই। আল্লাহ যাকে যতটুকু সময় দিবেন, তার বেশী সে পাবেনা।

যদি টেনশনের কিছু থাকে, সেটা হল, মৃত্যুর পরে কি হবে তা নিয়ে।

আসেন টেনশন করি, মৃত্যুর পরে কি হবে, তা নিয়ে। এবং সেই অনুযায়ী আমল করি। যদি আমল করতে নাও পারি, এট লিস্ট ক্ষমা প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে। জাস্ট ক্ষমা প্রার্থনা করে আসতাগফিরুল্লাহ পড়ার কারনেও হয়তো আল্লাহ আমাদের অনেক কে ক্ষমা করে জান্নাত দান করবেন।

====

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-09 01:40:34