মানুষের চিন্তাপদ্ধতিতে একটা বড় ফ্ল হোল- এটা প্যাটার্ন দেখে দেখে অভ্যস্ত, ফলে প্যাটার্ন খুঁ – জাহিদ রাজন

মানুষের চিন্তাপদ্ধতিতে একটা বড় ফ্ল হোল- এটা প্যাটার্ন দেখে দেখে অভ্যস্ত, ফলে প্যাটার্ন খুঁজে বের করার কাজটা তার জন্য প্রায় অটোমেটিক। যে কারণে মানুষের মধ্যে আশেপাশের সবকিছুকে নিয়মের মধ্যে ফেলার প্রবণতা কাজ করে। এর উদ্দেশ্য মহৎ- যাতে দক্ষতার সাথে সব কাজ করা যায়, একটা সাধারণ নিয়ম দিয়ে পরের সমস্যাগুলো সল্ভ করা যায়।

কিন্তু এর সবচেয়ে সমস্যা হোল এটা জটিল পরিস্থিতিকে সহজ করে ফেলে, সমস্যার জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে যেতে চায়, একটা ওয়ান টাইম ইভেন্টকে প্যাটার্ন মনে করে। অথবা যেটা আগে কখনো হয়নি সেটা ভবিষ্যতেও হবে না এ ধরনের সিদ্ধান্তে চলে যায়।

আপনার আমার আশেপাশে যত ঘটনা ঘটছে এর একটা বড় অংশের সাথে জড়িত আছে – স্রেফ ভাগ্য। আপনার মনে হতে পারে আপনি একটা কাজের জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, এতে আপনি সফলও হয়েছেন। ফলে এতে আপনার কৃতিত্ব অনেক বেশী এবং ভাগ্যের কৃতিত্ব অনেক কম। কিন্তু একটু ভালভাবে পরীক্ষা করলে দেখা যাবে যে- আপনার সমান চেষ্টা করে, একই ফর্মুলা ব্যবহার করে রহিম করিম অনেকেই আপনার মত ফলাফল পায় নি। এর কারণ এ ক্ষেত্রে আপনি স্রেফ অন্যদের চেয়ে ভাগ্যবান।

বরং বলা যায় যে, একটা কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়াটাই মিরাকল, না হওয়াটাই স্বাভাবিক। হিসেব করলে দেখা যাবে , একটা কাজ হওয়ার জন্য অনেক অনেক কন্ডিশান পুরোপুরি মিলে যেতে হবে, না হওয়ার জন্য একটা গরমিলই যথেষ্ট যেটার সম্ভাবনা অনেক বেশী। ধরুন আপনি সময় মত অফিসে পৌছাতে চান, এর জন্য অনেকগুলো কাজ ঠিক মত করতে হবে। আপনাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে, সময় মত রেডি হতে হবে, নাস্তা করতে হবে, গাড়ির পেতে হবে এরকম আরও অনেক। এগুলোর মধ্যে কোন একটা কাজ ঠিক মত না হলেই আপনি হয়ত সময়মত পৌছাতে পারবেন না- যেটার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

এখানেই হোল আরেক বিপত্তি- মানুষ সম্ভাবনা জিনিসটা খুব ভালভাবে বুঝতে পারে না। বিশেষ করে নেগেটিভ ফলাফলের ক্ষেত্রে মানুষ মনে করে- হোয়াই মি ?

আপনি যখন ইন্টারনেটে পড়েন- পৃথিবীতে দুই পারসেন্ট মানুষের অমুক সমস্যা আছে, আপনি ভাবেন আচ্ছা জানলাম। এরপর যদি দেখেন ব্যাপারটা আপনার সাথে ঘটেছে, আপনি মনে করেন – এত এত মানুষ থাকতে আমি কেন ? পরপর কয়েকটা ঘটনা যদি আপনার অনুকূলে না যায়, আপনি ভাবতে শুরু করেন- আমি খুবই আনলাকি। যদিও সম্ভাবনার বিচারে হয়ত ঘটনাগুলো খুবই স্বাভাবিক এবং কারও না কারও সাথে প্রতিদিন ঘটছে, আপনিও সম্ভাবনা সাইকেলের অংশ মাত্র।

যাই হোক, বিজ্ঞানীরা বলছেন আশাবাদী মানুষ বেশীদিন বাঁচে। মানুষ এমনিতেই অনেক বেশী আশাবাদী কারণ মানুষ সম্ভাবনার হিসেবটা খুব ভাল বুঝে না। যারা হতাশাবাদি তারাও যদি জীবনের সব কিছুকে সম্ভাবনা দিয়ে বিচার করতেন তাহলে এত অপ্টিমিস্টিক জীবনধারণ করা কঠিন হত। আবার অনেক ক্ষেত্রে আশাবাদীরাই ভাল করে। কগনেটিভ সায়েন্স বলছে কিছু ক্ষেত্রে ডিলিউশান খুবই গুরুত্বপূর্ণ (যেমন- স্পোর্টস এর রোগ ব্যাধি ভাল হওয়ার মত কোন ব্যাপার)।

ইসলাম ধর্মের কথা হোল – আশাবাদী হওয়া চরিত্রের ভাল গুণ (হাদিস)। মানুষ যদি আল্লাহকে আশা নিয়ে ডাকে তাহলেই আল্লাহ তার ডাক শুনেন। তাই আশা নিয়েই চেষ্টা করতে হবে। সময়ে সময়ে ঘটনাকে মেনে নিতে হবে।

প্রেয়ার অব সেরিনিটিটা আমার কাছে ভাল লেগেছে যেখানে স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে- Grant to us the serenity of mind to accept that which cannot be changed; courage to change that which can be changed, and wisdom to know the one from the other,

Jahid Razan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2016-09-16 12:31:39