আমি অ্যাকাডেমিশিয়ান বা বুদ্ধিজীবী নই, আমি অ্যাক্টিভিস্ট। আমি কখনো অ্যাকাডেমিশিয়ান বা বুদ্ধ – পিনাকী ভট্টাচার্য

আমি অ্যাকাডেমিশিয়ান বা বুদ্ধিজীবী নই, আমি অ্যাক্টিভিস্ট। আমি কখনো অ্যাকাডেমিশিয়ান বা বুদ্ধিজীবী হতে চাইনি। আর আমি এটাও জানি যে, আমি একজন মারকুটে অ্যাকটিভিস্ট।

একজন মারকুটে অ্যাকটিভিস্ট হওয়ার জন্য যা যা অ্যাকাডেমিক ও ব্যক্তিগত যোগ্যতা লাগার কথা বাংলাদেশে তার চাইতেও আমার যোগ্যতা ঢের বেশী আমি মনে করি।

আমার লেখালেখিও অ্যাকটিভিজমের পার্ট। যারা অ্যাকটিভিজম করে, যারা বিপ্লব করতে চায়, তারা বুদ্ধিজীবীদের আর অ্যাকাডেমিশিয়ানদের কাছে থেকে তত্ত্ব আর বয়ান ধার করেনা, তাদের বুদ্ধির পরোয়াও করেনা। তারা নিজেদের বয়ান নিজেদের রাজনীতি নিজেরাই নির্মাণ করেন। লেনিন নিজেই নিজের রাজনীতি নির্মাণ করেছিলেন। শেখ মুজিব নিজেই নিজের রাজনীতি নির্মাণ করেছিলেন। আজকের হাসিনাও নিজের রাজনীতি নিজেই নির্মাণ করছেন।

কারো রাজনীতি আর বয়ান সাধারণ্যে জনপ্রিয় না হলে সে নতুন রাজনীতি নির্মাণ করতে পারেনা। লেনিনের মতবাদ সাধারণ্যে জনপ্রিয় ছিলো। সেজন্যই তিনি রাশিয়ায় বিপ্লব করতে পেরেছিলেন। শেখ মুজিব জনপ্রিয় রাজনীতি করেছিলেন। সেজন্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা হতে পেরেছিলেন।

আমাকে পারভেজ আলম পপুলিষ্ট বলে রাবীন্দ্রিক যে গালি দেন, আমি সেটা উপভোগই করি।

রাজনীতিতে ক্ষমতাই হলো শেষ কথা। রাজনীতি কোন মরাল, ফিলোসফিক্যাল বা অ্যাকাডেমিক এক্সারসাইজ নয়।

আমি জানি আওয়ামী ও তার সমর্থক বাম বয়ানকে আমার ধ্বসিয়ে দেয়ার ক্ষমতা আছে। আমার এই ক্ষমতাই আমাকে বাংলাদেশে পরিচিত করেছে। এইজন্যই ব্যাপকসংখ্যক মানুষ আমার লেখা পড়েন। এই প্রচ্ছন্ন ক্ষমতার কারনেই আমার পিছনে ডিজিএফআই লেলিয়ে দিয়ে আমাকে দেশছাড়া করা হয়েছে। এই ক্ষমতার জন্যই আমার বই প্রকাশিত হতে দেয়া হয়না।

পারভেজ আলমের বই বাংলাদেশে ছাপা হয় মহাসমোরহে বইমেলায় বিক্রিও হয়। আর আমারে ইউরোপে আমেরিকায় প্রকাশকের দুয়ারে ধর্ণা দিতে হয়। বাংলা ছাইড়্যা ইংরেজি আর দুর্বল ফ্রেঞ্চে লেখালেখি করতে হয়।

শুধুমাত্র জনপ্রিয় হওয়ার খায়েশ থাকলে আমি সোলায়মান সুখন হইতাম বা আরিফ আর হাসান হইতাম। অথবা, সিনেমায় নামতাম, কবিতা আবৃত্তি করতাম বা ম্যাণ্ডোলিন বাজায়ে বাজায়ে পাবলিকরে মাত কইর‍্যা ফেলতাম। এই সবগুলাই আমি ভালোই পারতাম।

আমার একটা রাজনীতি আছে। আর সেই রাজনীতি যেহেতু প্রবলভাবে আওয়ামী লীগকে আঘাত করে তাই পারভেজ আলমদের জ্বলে। এছাড়া আমাকে নিয়ে সত্যিকারের আওয়ামী বিরোধীদের জ্বলার কোন কারণ নাই।

আমি তো বিএনপির রাজনীতি করিনা। বিএনপির অসংখ্য কাজ আমার না পছন্দ। তো আমি কি সকাল দুপুর বিএনপিরে ধুই? অন্তত আপাতত বিএনপি আমার শত্রু না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্যে বিএনপি আমার বন্ধু।

পারভেজ আলমদের কেন আমারে এতো ধুইতে হয় সকাল সন্ধ্যা এখন এই হিসাব মিলায়ে দেইখেন। আমি পারভেজ আলমের মতো রাবীন্দ্রিক বুদ্ধিজীবী হইয়া গেলে আসলে কার লাভ হতো? পারভেজ আলম, আপনি আসলে কোন দলের লোক, বলতে পারেন?

Pinaki Bhattacharya | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-09 17:49:02