পীর চরমোনাইর ভাই মাদ্রাসার একটি মেয়ে মারা যাবার ঘটনা চাউর হয়েছে। সেটা – রেজাউল করিম ভূইয়া

পীর চরমোনাইর ভাই মাদ্রাসার একটি মেয়ে মারা যাবার ঘটনা চাউর হয়েছে। সেটা নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলাম। সেটা ছিল, মেয়ের বাবা-মা র বক্তব্য।
এটা হল মাদ্রাসার পক্ষের বক্তব্য। বোথ পার্টিরর বক্তব্য শুনতে হবে, যেকোন ডিসপিউটে। ইসলাম সেটাই বলে। কাজেই এবার মাদ্রাসার পক্ষের বক্তব্য শুনুন।
========
লিখেছেন: এম শামসুদ দোহা।

আমি আগে থেকে ঘটনাটা কম বেশী জানতাম। রামপুরা মহিলা মাদ্রাসায় কী ঘটেছিল, সেটা ব্যক্তিগতভাবে বুঝার চেষ্টা করেছি। আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া ছাত্রী ও তার মা সীমা বেগমের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা ঠিক হবে না এ মূহুর্তে। কিন্তু সীমা বেগম ও তার স্বামী যে একটা ‘ব্যাড গেইম’ খেললো! সে বিষয়ে একটু বিশ্লেষণ করতে হবে এখন।

ঐ মহিলাই তো আত্মহত্যা মেনে নিয়ে “আত্মহত্যায় প্ররোচনা”র মামলা করেছিল হাতিরঝিল থানায়। থানা পুলিশের প্রতি আস্থার অভাব বলে ‘পিবিআই’ দ্বারা তদন্ত করার আবেদন জানালে কোর্ট তার আবেদন মেনে তদন্তের দায়িত্ব দেয় ‘পিবিআই’কে। পিবিআই তদন্ত করে তার অভিযোগের সত্যতা পায়নি। ওখানে কোন ধর্ষণ বা খুনের ঘটনা ঘটেনি বলে সরাসরি ফাইনাল রিপোর্ট দিয়েছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায়ও তদন্ত হয়েছে। সেখানেও ধর্ষণ বা হত্যার আলামত প্রমাণিত হয়নি। শুধু মাত্র একজন শিক্ষিকাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে অভিযুক্ত করেছে। কারণ সে ঐ ছাত্রীকে বকাঝকা করেছিল। সে এখন জামিনে মুক্ত।

ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার আগে মেয়েটি একটি চিঠি লিখে যায়। যা ‘চিরকুট’ নামে পরিচিত। একপাশে সে তার বাবা মাকে দোষারোপ করে, এবারে সে সত্যি সত্যি মরতে যাচ্ছে। অন্য পাতায় মাদ্রাসার এক শিক্ষিকাকে দায়ী করেছে খারাপ ব্যবহারের জন্য। কেন তাকে তার প্রেম পিরিতি নিয়ে সে বকাঝকা করেছে! মেয়েটির স্বাধীন চলাফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মাদরাসার পরিবেশ তথা উক্ত শিক্ষিকা।

মেয়েটিকে নিজেদের কন্ট্রোলে রাখতে না পেরে তার পিতা-মাতা এখানে পূনরায় ভর্তি করিয়েছে, নিম্ন ক্লাশে এবং ‘মুবাররা মুনতাহা’ নতুন নামে। এর আগে এখান থেকে চলে গিয়ে অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছিল। সেখান থেকে আবার এখানে ভর্তি হয়েছে ভিন্ন নাম ও ভিন্ন ক্লাশে। আত্মহত্যার পর তার আসল নাম ও পরিচয় বের হয়। পূর্বে দেয়া প্রকৃত নাম “সানজিদা রশীদ মীম”।

সীমা বেগম (মেয়ের মা) তার লোকজন দ্বারা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে টাকা আদায় করতে চেয়েছিল, কারণ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ‘বড় পার্টি’। দালাল গোছের কিছু লোক প্রস্তাব দিয়েছিল, পঞ্চাশ লাখ টাকা দিলে তারা চুপচাপ থাকবে। কিন্তু এ আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। মাদরাসা ও পরিচালকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রকল্প তারা হাতে নেয় । এ পর্যায়েও যদি তার সাথে টাকা পয়সা দিয়ে আপোষ করে , সে সম্ভাবনায়। কিন্তু মিথ্যা দাবীর প্রতি নতি স্বীকার না করায় এখন উল্টো চাপের মধ্যে আছে সীমা বেগমরা।

নিহত সানজিদা রশিদ মীম ওরফে মুবাররা মুনতাহা

নিজের ও নিজ মেয়ের চরিত্র জানা আছে সীমা বেগমের। সেটা নিয়ে একটা বাজি ধরেছে। আত্মহত্যার পূর্বে সে যৌন নির্যাতনের সন্মুখীন হয়নি। অথচ মা হয়ে নিজের মেয়েকে ধর্ষণের অপবাদ দিলো।

রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার পরিবেশ সবাই জানে। মেয়েরা পর্দার সাথে ১০০% ঘরোয়া পরিবেশে অবস্থান করে। যে এলাকায় কোন পুরুষ যেতে পারে না। পাঠদানের সময় উস্তাদ নিদৃষ্ট জায়গায় নিরাপদ দূরত্বে বসেন পর্দার অন্তরালে। আর সকল ছাত্রীরা থাকে বোরকায় ঢাকা। যে কারণে ঐ মেয়েকে চিনতে পারেনি কেউ। সে তার নাম পরিচয় চেঞ্জ করে ভর্তি হবার পরও।

মামলার সুরতহাল রিপোর্ট, থানা পুলিশের তদন্ত, পিবিআইর তদন্ত, হাসপাতালে ময়না তদন্ত, ফরেনসিক রিপোর্ট সহ কোন ইনভেস্টিগেশনেই কথিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। ধর্ষণ বা খুনের ঘটনা ঘটেনি। সিআইডিতে চিরকুট পরীক্ষায়ও প্রমাণিত হয়েছে চিরকুটটি আত্মহত্যাকারী মেয়েটির লেখা।

এমতাবস্থায় “জাগো নিউজ” পোর্টালের নিউজ উদ্দেশ্যমূলক। অনেক মিডিয়া এমনকি টিভি চ্যানেলও এসেছিল মজা করে খবর প্রকাশ করার জন্য কিন্তু তারা এলাকাবাসীর স্বাক্ষ্য ও মামলার কাগজপত্র দেখে ফিরে গিয়েছে। কিন্তু জাগো নিউজ সীমা বেগমের সাক্ষাতকার নিয়েছে এবং তাতে হুজুররা দল বেঁধে তার মেয়েকে ধর্ষণ করার মতো অভিযোগ করেছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাছাড়া মহিলার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে তাকে পাশ থেকে কেউ শিখিয়ে দিচ্ছে কথাগুলো। ‘এটা বলুন, ওটা বলুন’ বলে তাকে প্ররোচিত করছিলো। তারা চেয়েছিল একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রামপুরা মহিলা মাদরাসা ও এর কর্তৃপক্ষকে চুড়ান্ত ভাবে হেনস্থা করবে। ফেসবুকে ভাইরাল হলে অনেক ফায়দা। সে ফায়দার পরিবর্তে উল্টো তারাই এখন অভিযুক্ত হতে চলেছে ইনশাআল্লাহ।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অচিরেই জাগো নিউজ ও সীমা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আদালতে মূল মামলায় বাদী সীমা বেগম নারাজী দিয়েছে। সে ব্যাপারে তার অপেক্ষা করা উচিত ছিল। তা না করে মিডিয়ার মাধ্যমে নিজ মেয়েকে ধর্ষিতা বানানোর কূট কৌশল অচিকমেন্রেটে লিংক। ই বুমেরাং হয়ে দেখা দিবে।

ঘটনার নয় মাস পরে বারবার জাগো নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশ করা বিশেষ উদ্দেশ্য বহন করে। এছাড়াও প্রকৃত তথ্য না জেনে ব্যক্তিগত আইডি দ্বারা হাজারো হুজুগে পোস্ট হয়েছে ও তা শেয়ার হয়েছে।

জাগো নিউজে প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে, আর থানায় জিডি করা হয়েছে। সুতরাং আইনীভাবে যা হবার হবে। মিথ্যা সংবাদ যারা ভাইরাল করেছেন তারাও একটি মেসেজ পাবেন, হুজুগে দাঁড়ানো ঠিক না।

=========

পুনশ্চ: সবসময় বোথ পার্টি মামলায় এমন করে।যে কোন পার্টি সত্য হতে পারে। আবার দুই পার্টিই সত্যের সাথে মিথ্যা মিশাচ্ছে, এমনও হতে পারে। আসল সত্য অন্য কিছু সেটাও হতে পারে।

তবে বোথ পার্টির বক্তব্য শুনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া সরকারের দায়িত্ব।

======

আমরা যারা ফেবুকার, তাদের পক্ষে সত্য জানা কঠিন। আমরা খবর পড়ি , পড়ে বুঝতে চেষ্টা করি যে আসলে কি হয়েছিল।

======

আল্লাহ সত্যকে উদঘাটন করুন, এবং সত্যের উপর সবার ফয়সালা করুন, আমীন। কমেন্টে লিংক।

M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-05-03 22:33:09