রুমিন ফারহানার স্বপ্নভঙ্গঃ সব দোষ শেখ মুজিবের – আমান আবদুহু

রুমিন ফারহানার স্বপ্নভঙ্গঃ সব দোষ শেখ মুজিবের

প্রতিবাদী জনগণের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর এবং মুক্তির স্বপ্ন দেখানো ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি খুব বেশি কিছু চান নাই। মাত্র দশ কাঠা জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু হিংসুটে ষড়যন্ত্রকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে তার স্বপ্ন পূরণ হলো না। ঢাকা শহরে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে পারলেন না তিনি।

রুমিন ফারহানার এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আমরা একটু পরে যাবো। তবে তার আগে জামালপুরের ডিসির সাথে রুমিন ফারহানার মিল সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অবগতির প্রয়োজন আছে।

জামালপুরের ডিসি প্যান্ট খোলা অবস্থায় ধরা খেয়ে যেমন সিসিটিভি ফুটেজ ফাঁস করে দেয়া ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন, রুমিন ফারহানাও শাড়ি তোলা অবস্থায় ধরা খেয়ে সরকারী অফিস থেকে ডকুমেন্ট ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন।

প্রশ্ন হলো, এখানে শেখ মুজিবের দোষ টা কোথায়?

রুমিন যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতেছেন তাদের কাছে ভিক্ষা চাইতেছেন। এই যে অদ্ভুত একটা কান্ড, এরও কিন্তু গোড়া আছে।

এই চিন্তাটাই এসেছে মুজিবের আদর্শ অনুসরণ করতে গিয়ে। পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দুলন করে গান্ডু বাঙালির সামনে স্মোকস্ক্রিণ ঝুলানো শেখ সাহেব নিজেই পাকিস্তানী আলফা ইন্স্যুরেন্স থেকে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহণ করতেন।

সমস্যা হলো রুমিন ফারহানা এখনো এমেচার কন আর্টিস্ট, অন্যদিকে শেখ সাহেব ছিলেন একজন প্রফেশনাল। তিনি একদিকে বছরের পর বছর পাকিস্তানী ভাতা খেয়ে শেষ বছরে এসে পাকিস্তানী মেহমান হওয়ার মুরোদ রাখতেন, আবার অন্যদিকে আগরতলায় খেলাধুলা করার স্ট্যামিনাও তাঁর ছিলো।

রুমিন ফারহানাকে এখনো অনেক দূর যেতে হবে।

দ্বিতীয় আরেকটা সমস্যা হলো এই যে জেন্টলম্যান এগ্রিমেন্টের ভিত্তিতে রাজনীতির খেলা হতো, শেখ সাহেবের মতো লোকজন বাটপারি করে সেই বিশ্বাসের জায়গাটাকে নষ্ট করে দিয়েছেন।

তখন মুজিবকে প্রচুর মাসোহারা ভাতা ইত্যাদি দেয়া হতো কিন্তু পাবলিকলি কখনোই তা জানানো হতো না। বাইরে বিক্ষোভ প্রতিবাদ চলতো। কিন্তু সেই দিন আর নাই। এখন খেলা টাফ হয়ে গেছে। সুতরাং সরকারী অফিস থেকে ডকুমেন্ট ফাঁস হবেই। যুগের এই পরিবর্তন হওয়ার বিষয়টা রুমিন সম্ভবত বুঝে উঠতে পারেননাই।

সবশেষে যে কথাটা না বললেই নয় তা হলো বাংলাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং দীর্ঘ জীবনযাত্রায় গান্ডু বিএনপির অবদান প্রচুর। জমি ভিক্ষা চেয়ে ধরা খাওয়ার পর গান্ডুরা হিসাব কষতে বসেছে, সংসদ থেকে বেতন নেয়া যাবে? চিকিৎসার খরচ নেয়া যাবে? শুল্কমুক্ত গাড়ি নেয়া যাবে? চুল ছিড়ে হিসাব কষে আজগুবি এক নৈতিকতার দাঁড়িপাল্লায় কি নেয়া যাবে আর কি নেয়া যাবে না সেই ভাগজোক তারা করেই ফেলবে।

ওহে শুয়োর কি আওলাদো, ন্যুনতম আত্মসম্মানবোধ থাকলে তোরা বেতন নেয়া তো দূরের কথা, না খেয়ে মারা গেলেও আওয়ামী লীগ থেকে একটা পয়সা নিতি না। কিন্তু অসীম লোভে বাংলাদেশকে লুটেপুটে খেয়ে ফেলা আওয়ামী লীগের ভাড়ুয়া তোরা, উচ্ছিষ্ট খাওয়ার লোভে বাকশালী ফ্যাসিবাদের পায়ের কাছে জিহবা বিছিয়ে রাখা ফইন্নির দল।

তোদের অযোগ্যতা, দুর্নীতিপরায়ণতা, চাটাবাজি এবং অক্ষমতাই হলো আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় টিকে থাকার আসল কারণ।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আরো দশ বিশ ত্রিশ বছর ক্ষমতায় থাকবে। তোরাও দেয়ালের বাইরে দৌড়ে দৌড়ে ছুঁড়ে দেয়া উচ্ছিষ্ট হাড্ডি খাওয়ার জন্য ভুখে যাবি। শেখ হাসিনা তো অনেক পরের কথা, শেখ হাসিনার ড্রাইভারও যদি ফ্যাশিস্ট প্রধানমন্ত্রী হয় তারপরও তোরা তার একটা লোম তুলতে পারবি না।

ভিখারী হওয়াটা বিপুলাংশে একটা মানসিক বিষয়। আওক্বাত তোদের অতটুকুই। দুর্ভাগ্যটুকু আমাদের আর কি।

Aman Abduhu | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-09-01 04:14:52