এরশাদ মৃদু স্বৈরাচারী নয়, ফুল ব্লৌন স্বৈরাচারী ছিলো। – পিনাকী ভট্টাচার্য

এরশাদ মৃদু স্বৈরাচারী নয়, ফুল ব্লৌন স্বৈরাচারী ছিলো।

স্বৈরশাসন আর ফ্যাসিবাদ এক জিনিস নয়। স্বৈরশাসকের পিছনে পপুলার সাপোর্ট থাকেনা। ফ্যাসিবাদের পপুলার সাপোর্ট থাকে।

ফ্যাসিস্ট শাসন সেই কারণেই চরিত্রগতভাবে স্বৈরশাসনের চাইতে বেশী নির্মম হয়। স্বৈরশাসনের উৎখাত তুলনামুলকভাবে সহজ। ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রে সমাজের একাংশের সমর্থন থাকে, কিন্তু স্বৈরশাসনের থাকেনা।

বুদ্ধিজীবী পপুলার পাবলিক ফিগারেরা স্বৈরশাসনের পক্ষে দাঁড়ায় না; কিন্তু ফ্যাসিবাদের পক্ষে দাঁড়ায়।

স্বৈরশাসনের জনভিত্তি না থাকার কারণে স্বৈরশাসনের বিরোধী শক্তিরা সমাজে বীরের সন্মান পায়। ফ্যাসিবিরোধী শক্তিদেরকে সমাজের একাংশ, বুদ্ধিজীবী, পপুলার পাবলিক ফিগার আর তার সমর্থকদের দিয়ে ডিমনাইজ বা দানবায়ন করে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে তারা দানব, খারাপ মানুষ, দেশের শত্রু, প্রগতির শত্রু, সাম্প্রদায়িক, মৌলবাদি, স্বাধীনতার শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে ও প্রচার চালায়। অবাক বিষয় হচ্ছে সমাজের একাংশ সেটা বিশ্বাসও করে। আপনি দেখবেন বাংলাদেশে যে কেউই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তাকেই দানবায়ন করা হয়েছে। সেটা পিয়াস করিম, মাহমুদুর রহমান থেকে শুরু করে ফরহাদ মজহার, পিনাকী ভট্টাচার্য পর্যন্ত।

ফ্যাসিবাদি সমাজে ফাঁসি, বিনা বিচারে হত্যা, কষ্ট দিয়ে হত্যা, প্রকাশ্য হত্যাকে উৎসাহিত করা হয়। অভিযুক্তকে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত করে তাকে সোজাসুজি শাস্তি দেয়ার বিষয়ে অধিক উৎসাহ দেখানো হয়।

ফ্যাসিবাদ একটা বলির পাঁঠা ও কল্পিত শত্রু তৈরি করে যেমন, জামাত শিবির ও পাকিস্তান। সেই কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে ক্রমাগত ঘৃণা উৎপাদন করে।

ফ্যাসিবাদের জামানায় জনগণ হয়ে ওঠে সেই ভেড়া যাকে বিশ্বাস করানো হয় যে তোমাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু শেষ বিচারে সেই ভেড়ার গলা কাটে তার রাখালই।

বাংলাদেশের জনগণকে বুঝানো হয় যে তোমাদেরকে মৌলবাদ গিলে খাবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই ফ্যাসিবাদ কায়েম করে রাষ্ট্রটাকেই গিলে ফেলে।

স্বৈরশাসককে ক্ষমা করার কিছু নেই, সে ঘৃণ্য। তবে ফ্যাসিবাদ ঘৃণ্যতর।

PB/FS/5/14JUL2019

Pinaki Bhattacharya | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-14 18:25:28