ডায়েট সিরিজ: কয়েকটি ফ্রিকুয়েন্টলি আস্কড কোশ্চেনস: – রেজাউল করিম ভূইয়া

ডায়েট সিরিজ: কয়েকটি ফ্রিকুয়েন্টলি আস্কড কোশ্চেনস:
==========
১. সারাদিন মুরগী খেতে খেতে আমরা বিরক্ত হয়ে গেছি। গরু-খাসী তো এত খেলে বুকে ব্লক হবে। মাছ খেতে ভাল লাগেনা। উপায় কি?

উত্তর: অনেক অপশন আছে। যেমন : হাঁস আর কবুতর। পাখির গোশত, পিউর গোশত। তবে হাঁস কবুতর এসব প্রসেস করা ঝামেলা। পালক তুলা বেশ কষ্টকর, সময়সাধ্য। কাজেই একসাথে অনেকগুলো কিনে, প্রসেস করাবেন কোন কাজের লোক কে দিয়ে, একদিনে। ৫০-১০০ টাকা এক্সট্রা দিবেন ওজন্য।

তারপর ফ্রিজে রেখে রেখে খাবেন। মাঝে মাঝে মুরগী, মাঝে মাঝে হাঁস, কবুতর, মাঝে মাঝে গোশত। আর অনেকদিন পরে একদিন গরু-খাসী। ব্যস। হয়ে গেল।

সতর্কতা: কখনও মুরগী- হাঁস – কবুতরের চামড়া খাওয়া যাবেনা। গিলা কলিজা: ঝুকিপূর্ন। না খেলে ভাল। শুধু পিউর মাংস – হাড় খাবেন।

২. খালী পেটে ভিনেগার নাকি ভরা পেটে?

উত্তর: এক ভাবে খেলেই হলো। তবে খালি পেটে সকালে খেলে ম্যাক্সিমাইজড বেনিফিট পাবেন। কিন্তু সমস্যা হলে ভরা পেটেই খান, নো প্রবলেম।

৩. ভিনেগার কিভাবে খেতে হয়?

উত্তর: ১-২-৩ চামচ ভিনেগার এক গ্লাস পানিতে মিশাবেন। এরপর ইচ্ছে হলে লেবু দিতে পারেন। একচামচ মধুও দিতে পারেন। লেবু মধু না দিলেও হবে। এরপর খাবেন।

৪. ফার্মের মুরগী নাকি দেশী মুরগী?

উত্তর: ফার্মের মুরগীকে বিষাক্ত অনেক কিছু খাওয়াইতে পারে, আবার ভাল ফার্মার হলে ভাল খাওয়ায়। কাজেই কি খাইয়েছে, তার উপর নির্ভর করে এটা ভাল কি খারাপ তা নির্ধারিত হবে। কেউ জানেনা।
এদেরকে গ্রোথ হরমোন দেয়, এন্টিবায়োটিক দেয়, ওগুলো আপনার শরীরেও ডিপোজিট হবে। কাজেই আমি আসলে দেশে থাকতে এভয়েড করতে সবোর্চ্চ চেষ্টা করি। সবসময় দেশী খাবো, না হইলে নাই।
তার মানে দেশী মুরগী খেলেই আপনি কিছুটা সেইফ। দাম বেশী? কম খান। খাবার ফ্রিকুয়েন্সী কমিয়ে দিন।

৫. ফার্মের মুরগীর ডিম না দেশী মুরগীর ডিম?

উত্তর: দেশী মুরগীর ডিম ভাল, কিন্তু সাইজে অনেক ছোট আর প্রতি ৫ টার মধ্যে ১-২ টা পচা হয়। তাই দেশী মুরগী তো প্রবলেম।

মুরগীর মধ্যে যতটুকু বিষ থাকবে, ডিমের মধ্যেও একটু যেতে পারে, কিন্তু কম হবে। কিন্তু কিছু করার নাই, কি খেয়ে বাচবেন?

তাই বিকল্প হল হাসের ডিম। কোয়েলের ডিম। তবে হাসের ডিম বেশী গরম। মুরগীর দুইটা = হাসের একটা। হাসের ডিম বেশী খাওয়া কষ্ট। তবে পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশী হলে হাসের ডিম কিন্তু ভাল। একটা দিয়েই ৪ জনকে খাওয়াতে পারবেন। ছোটকালে তো এক ডিম ৫-৬ জন খেতাম। এখন একাই …….., আসতাগফিরুল্লাহ। প্রতিটি মানুষ এক একটি খাদক্

কাজেই বিষ কনসেন্ট্রেশন কমানোর জন্য, কখনও ফার্মের মুরগীর ডিম, কখনও হাস, কখনও দেশী মুরগীর ডিম, এভাবে মিক্স করে কিনে খেতে পারেন।

৬. ফলফলাদি তো যে ফরমালিন দেয়? কি করবো?

উত্তর: ঢাকায় থাকতে আমি যে ফলই খেতাম, আমার খালী গলা-বুক-পেট জলতো। আম বা পেপে খেলেই গলা-বুক জ্বলে, তরমুজ খেলেই পেটে প্রবলেম।

তার মানে ওরা যে এসবে ওষুধ মিশায়, বিষাক্ত , তাতে সন্দেহ নাই। কাজেই এসব বহুল প্রচলিম কমার্শিয়াল ফল, যা খেতে খুব সুস্বাদু, মানুষ খুব খেতে চায় না খাবার অনুরোধ রইলো। যদি সোর্স নিশ্চিত না হন। আমি আসলে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। এগুলোতে টাকার খেলা বেশী হওয়ায়, বিষের খেলাও বেশী চলে্ ।

তাহলে উপায়? উপায় হল, গরীবের ফল-ফলাদি-শাকসবজি খাবেন। এগুলোতে বিষ দেয়না, কারণ গরীবের টাকা নাই। যেসব ফল খুব বিখ্যাত না, মানুষ খুব একটা খায়না, দাম কম, মাঝে মধ্যে পাওয়া যায়, সেগুলো খাবেন।

আমড়া-পেয়ারা-মিষ্টি আলু-পানি ফল-শশা-গাজর-আলু জাতীয় এক ধরনের গরীবের মিষ্টি ফল :: এগুলোর মাস প্রডাকশন সেভাবে হয়না, কাজেই একটু সেইফ। ফরমালিন ঝুঁকি কম। সিজনালী অনেক ফল বাজারে আসে, কেউ কিনতে চায়না, বা চাহিদা কম, এগুলোতে বিষাক্ত কিছু দেবার সম্ভাবনা কম, এগুলো খাবেন।

বিষাক্ত ফলফলাদি-শাকসবজি খাবার থেকে তো না খাওয়াই ভাল। কি বলেন?

সতর্কতা: কামরাঙ্গা খাবেন না, এটা খেলে কিডনী নষ্ট হয়। অতিরিক্ত ফল-শাকসবজি খাবেন না। সবসময় অতিরিক্ত খেলে বডিতে পটাসিয়াম হাই হয়ে হার্টবিট মিস হয়ে মারা যায় মানুষ, কিডনী ড্যামেজ হয়। প্রতিদিন সবোর্চ্চ ৪০০ গ্রাম ফল+শাকসবজি মিলে খাবেন, এর বেশী নয়।

৭. লাল চিনি নাকি সাদা চিনি? গুড়?

উত্তর: সাদা চিনি থেকে লাল চিনি বা গুড় একটু 'কম খারাপ', আর গুড়ে কিছু এসেনসিয়াল মিনারেল থাকে, সুগার ছাড়াও। কাজেই মিষ্টির চাহিদা মিটাতে লাল চিনি বা গুড় ব্যবহার করতে পারেন। তবে দৈনিক লিমিট ৩৫ গ্রাম রাখবেন। ( লাল চিনি বা গুড় এর জন্য। )
৩৫ গ্রাম = ৮-৯ ছোট চা চামচে যতদূর ধরে, বেশ কম। এক গ্লাস শরবতে যেটুকু চিনি মানুষ দেয়, সেটুকু। আনুমানিক।

খালী মিষ্টি খেতে মন চায়? খেজুর, কিসমিস, মধু : এই তিনটা মিলিয়ে মিশিয়ে খাবেন। কিসমিস আর মধু বেশী খেলে খারাপ কিন্তু। কম কম খাবেন। জিলাপী-বাজারের মিষ্টি, বিভিন্ন পদের মিষ্টান্ন: শত হাত দূরে থাকবেন।

৮. তেল কতটুকু দিবো তরকারীতে? এর উত্তরে বলেছিলাম ৫০-৬০ গ্রামের মতন, প্রতি কেজিতে বা প্রতি লিটারে? এত মেপে কে দিবে? টাইম আছে?

উত্তর : এজন্য একটা ছবি দিচ্ছি। ছবিতে ৬০ মিলি ( = ৫০ গ্রাম ) তেল দেখানো আছে। এতটুকু তেল দিবেন এক কেজি মাংস/সবজি রাধার সময়। ইনাফ। যদি ডাল করেন, প্রতি লিটারে এই পরিমান দিবেন। দুই লিটার ডাল করলে এর ডাবল দিবেন। দুই কেজি মাংসতে এর ডাবল দিবেন। ডাল বেশী করলেও ডাবলের বেশী না দিলেও হয়। ডালে একটু তেলে পেয়াজ পুড়ে দিলেই হয়। হালকা বাঘার হলেই হয়, এত তেল লাগেনা। মনে রাখবেন, ডালে বেশী তেল দিলে কিন্তু কেউ টেরই পায়না। কম দিলেও খুব একটা পায় না।

এতটুকু তেল দিলে খুব পাতলা একটা লেয়ার হয়, তার মধ্যে পেয়াজ-রসুন ছেড়ে দিবেন। যদি ঘন হয়ে যায় মসলা দেবার পর? একটু পানি ঢেলে দিবেন, লিকুইফাইড হয়ে যাবে। এই ছবি দেখে এতটুকু তেল মনে রাখেন। বা এরকম একটি ছোট কাজের জার কিনেন। তারপর সবসময় তরকারীতে মেপে মেপে তেল দিন। তাহলে বেশী হয়ে যাবেনা।

খোলা তেল কিনবেন না। সবসময় ভাল কোম্পানীর ব্রান্ডের তেল। ভাল ব্রান্ডের তেল লিখে যে ১৫% স্যাচুরেটেড ফ্যাট। কোনরকম চলে, যদিও একটি বেশী। খোলা তেলে কিন্তু ৪০-৫০% স্যাচুরেটেড এবং অনেক বেশী ট্রান্সফ্যাট থাকতে পারে।



M. Rezaul Karim Bhuyan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-04-29 11:00:15