১। ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানা অতি জরুরী। স্বজাতির অতীত, বঞ্চনা, ভূমিহীনতা ও দাসবৃত্তির দীর্ঘ যাত – ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ

১। ইতিহাস ও ঐতিহ্য জানা অতি জরুরী। স্বজাতির অতীত, বঞ্চনা, ভূমিহীনতা ও দাসবৃত্তির দীর্ঘ যাতনা, পরাধীনতার শিকল কিংবা স্বদেশের সভ্যতা, সাবেক সমাজ কাঠামোর মানবিক দিকগুলো না জানা আলোহীনতা। সেটা মেনে বাংলাদেশে ৩য় থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত বাংলা ও সমাজ বইতে ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ক বহু আর্টিক্যাল পড়ানো হয়, তার উপর বহু ক্লাস প্রশ্ন এবং পরীক্ষা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই দীর্ঘ একাডেমিক পাঠের পরেও তা সচেতনতা কিংবা দেশপ্রেম তৈরিতে ভুমিকা রাখছে না কেন? এত দীর্ঘ সিলেবাসের পরেও দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাব্জেক্টে এবং বিশেষায়িত (বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের আলাদা কোর্স আছে) কোর্সে নাকি ইতিহাস পাঠ ঢুকানোর কথা উঠছে?? কেন আগের ১০টি বছরে ইতিহাস পাঠ ব্যর্থ হলো? দেশের অভিভাবকদের কাছে এর কোন জবাব আছে? ধরে নেই প্রায় ১০ বছর থেকে শুদ্ধ ইতিহাস পড়ান হচ্ছে।

২. হ্যাঁ মুনতাসির মামুনের “বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস” বইই নাকি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের সব সাব্জেক্টে পাঠ্য করার কথা বলা হচ্ছে। তবে ৩য় থেকে দ্বাদশের বর্তমান আওয়ামী লীগ এর একক ভার্শনের ইতিহাস সংস্করণের (১০ টি শিক্ষা বর্ষের ইতিহাস পাঠ) সিলেবাসের অনেক কিছুই উনার বইয়ের রেফারেন্স এ লিখা। যদিও ভদ্রলোক কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন তা জানা যায়নি।

৩. গত বছর অষ্টম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষার একটা প্রশ্ন ছিল এরকম- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সংক্ষেপে আলোচনা কর। -১০ মার্ক। (শিক্ষা জীবনে প্রায় সব শিক্ষার্থী এই প্রশ্নের উত্তর কোন না কোন ক্লাসে লিখেছেন বোধ করি)। আর এই একই পাঠই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো দিবার কথা বলছেন মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান? তাইলে আগে ক্লাসে তা বাদ দিবার কথাও বলবেন? কারণ আমরা কোর্স কন্টেন্টে রিপিটেশন চাই না, শিক্ষা জীবনকে পুনঃ পুনঃ কোর্স পাঠের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করে রিচ এন্ড স্লিম করতে চাই।

৪. বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ এর অভ্যুদয় এর ব্যাকগ্রাউন্ড হল অর্থনৈতিক শোষণেরর পটভূমিতে দাঁড়ানো রাজনৈতিক অধিকার কেন্দ্রিক। অভ্যুদয়ের ইতিহাস লিখা যে ভদ্রলুকের বই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য করার কথা আলোচিত হচ্ছে উনি অতি সম্প্রতি ফার্মারস ব্যাংক নামে একটি ব্যাংক ই লুটের অভিযুক্তদের তালিকা ভুক্ত।

অর্থনৈতিক বঞ্চনার ইতিহাস লিখা লোকে সুযোগ পেয়ে দেশের জনগণের অর্থই লুট করে দিয়েছে, এর চেয়ে নির্মমতা ও ভাগ্যের পরিহাস একটি দেশের জন্য আর কি হতে পারে?

আবার তারই বই দেশের উচ্চতম বিদ্যালয়ে পড়ানোর জোর তদবির দেখা যাচ্ছে! যদি একই ধরণের সুযোগ কখনও আসে!! কত বেশি সংখ্যক বুদ্ধিজীবী এই দেশে উচ্ছিষ্ট ভোগের আশার নিদারুণ চামচামিতে অপেক্ষমাণ তা বোধ করি আপনারা উপলভদ্ধি করতে পারবেন।

৫। পুনশ্চ!
ইতিহাস ঐতিহ্য কে কিভাবে নন একাডেমীক (পারিবারিক ও সামাজিক) লার্নিং প্রসেসে আনা যায় তা নিয়ে ভাবা দরকার। যা কিছু চাপিয়ে দেয়া তা ফলহীন। বেড়া আমাদের ক্ষেত খেয়ে ফেলেছে। এখানে রাষ্ট্রীয় শপথ যারাই নিয়েছে, তাদের প্রায় সবাই রাষ্ট্রকে লুট করেছে, নিজ নিজ সাধ্যমত।

একদিকে ইতিহাস নিয়ে তেলেসমাতি হয়েছে, প্রতিটি সরকার এসে নিজ নিজ স্বার্থে ইতিহাস চেতনাময় করেছে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার দেশে রক্তেই চেতনা কেনা হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতা রক্ষায় রক্ত ঝরেনি তেমন। ফলে ইতিহাস সময়ে অসময়ে এর ওর পক্ষে ও বিরুদ্ধে কথা বলেছে।

অন্যদিকে যা কিছু ঐতিয্য তা প্রতিবেশীরা পেটেন্ট করে নিয়ে গেছে। স্কুলের কোন দরিদ্র কোমলমতি শিশু জাতীয় যাদুঘর প্রদর্শনের সৌভাগ্য পায়নি, যদিও সে শুধু শাহবাগের নাম শুনেছে!

৬। বিশ্ব বিদ্যালয় উন্মুক্ত চিন্তা ও চর্চাক্ষেত্র, মুল কোর্সের বাইরে ছাত্র ছাত্রী কি নিয়ে মাথা ঘামাবে তা তার উপর ছেড়ে দিন। মুল কোর্স উচ্চ মান করার চিন্তা ও চেস্টা করুণ। জ্যাক অফ ওল ট্রেইড না বানিয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় কিভাবে সাব্জেক্ট ম্যাটার এক্সপার্ট প্রডিউসার হতে পারবে তা ভাবুন।

সাথে সাথে প্রতিটি ডোমেইনের নিন্ম মধ্য ও উচ্চ শিক্ষা কিভাবে “সেন্স অফ আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট সাস্টেইনেবিলিটি”, টেকসই উন্নয়ন, টেকসই জীবনমান, টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার, টেকসই পানি পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা ইত্যাদির সেন্স ডেভেলপ করতে পারে তা নিয়ে ভাবুন।

ফাইজ় তাইয়েব আহমেদ | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-02-28 22:34:02