পেশা যখন রাজনীতি – একেএম ওয়াহিদুজ্জামান

পেশা যখন রাজনীতি

রাজনীতি কি কারো পেশা হতে পারে?
যারা পুরোদস্তর রাজনীতি করে তাঁদের আয়ের উৎস কি?

আমরা কেউ কি কোনদিন এই প্রশ্ন দুটোর উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছি?

পেশা কি? আয়ের জন্য মানুষ যা করে। পৃথিবীতে স্যুট পড়া ব্যবসায়ী থেকে সিটি কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার- সবারই কোন-না কোন পেশা আছে। তারা তাঁদের দিন-রাত এক করে দেন কিছু আয়ের জন্য।

তাহলে এই যে ফুলটাইম রাজনীতিবিদ তোফায়েল সাহেব, ইনু সাহেবেরা সারাদিন এই অনুষ্ঠান-সেই অনুষ্ঠানে গলাবাজি করে বেড়ান এবং কে কবে রাজাকার ছিল তা নির্ধারণ করে দেন, এদের আয়ের উৎস কি? বড় বড় কথা বলা ওবায়দুল কাদেরদের আয়ের উৎস কি?

ধরে নিলাম তারা এখন সাংসদ-মন্ত্রী, তাই ভাতা পান। কিন্তু যখন তারা সাংসদ-মন্ত্রী ছিলেন না তখন টাকা আসতো কোত্থেকে? কিংবা এখনও কি এমন ভাতা পান যে একেকজনের সম্পদ দশ-বারো গুণ বেড়ে যায়?

প্রচলিত ধারণা মতে- বড় ব্যবসায়ী, দলের শুভানুধ্যায়ীদের টাকা দিয়ে দল চলে, ফুলটাইম রাজনীতিবিদদের আয়ও সেখান থেকেই আসে।

এই ধারণা যদি ঠিক হয়, তাঁর মানে হচ্ছে- রাজনীতিবিদেরা এই ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি। তারা চাঁদা বন্ধ করে দিলে এদের ভাত শেষ। কিন্তু কেন ব্যবসায়ীরা দিনের পর দিন এদেরকে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে? কারণ তাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলে এরা।

ব্যপারটা এমন, ব্যবসায়ীদেরকে টাকা দিতে হয় সরকারি দলকে, এই টাকা তোলার জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারি দলকে বলে জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে, বিদ্যুতের দাম বাড়াতে। সরকার এইগুলোর দাম বাড়ায়, ব্যবসায়ীদের পকেট ভরে, এবং এই টাকার পার্সেন্টেজ পায় এই ফুল টাইম রাজনীতিবিদেরা।

এভাবে দিনের পর দিন মানুষ জিম্মি হয়ে যাছে এই দুষ্টচক্রের হাতে।

বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। বিএনপি ব্যবসায়ীদের দল, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল। কথা সত্যি। বিএনপি যারা করে এদেরকে দিনের বেলা নিজের রুটি-রোজগার যোগাড় করা লাগে। কাজ করে যে সময় বাঁচে সেই সময়ে রাজনীতি করতে হয়।

অন্যদিকে আরেকটা দল আছে যাদের অধিকাংশ নেতার কাজ নাই। এরা চলে চাঁদাবাজি করে। ব্যবসায়ীদের টাকায় এদের রাতের ভাত রান্না হয়। তাঁদের সংগঠন খুব শক্ত। তাঁদের ভাত ছিটাতে কষ্ট হয় না, তাই তাঁদের কাকেরও অভাব হয় না।

রাজনীতিকে যখন আপনি একটা লাভজনক পেশা বানিয়ে ফেলবেন, তখন দেশে তো রাজনীতিবিদদের বাম্পার ফলন হবেই। এই রাজনীতিবিদেরা যখন তখন রাস্তা আটকে দিবে, মিছিল করে দেশে জ্যাম বাঁধাবে। এইটাই তো স্বাভাবিক, তাই না?

জিয়াউর রহমান বলছিলেন, “I will make politics difficult for the typical politicians.”। এই বক্তব্য নিয়ে তোফায়েল সাহেবের অনেক খেদ আছে। কারণ জিয়াউর রহমান এই রাজনীতিবিদদের কাজ করে খেতে বলেছেন। কোন মতে থার্ড ডিভিশন নিয়ে পাশ করা এই রাজনীতিবিদদের কাজ করতে বলা মানে তো বিরাট অপরাধ করে ফেলা।

আমার ধারণা আজকের আওয়ামী লীগকে দেখে দেশের মানুষের উপলব্ধি হয়েছে কেন জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে কঠিন করতে বলেছিলেন। রাজনীতি যে কেউ চাইলেই করতে পারে না। রাজনীতি করার জন্যও যে কিছু যোগ্যতা প্রয়োজন সেটা বাঙালি যেদিন বুঝবে, সেইদিন এই দেশ থেকে আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

A K M Wahiduzzaman | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-11-12 20:06:30