বড় বড় দালান দেখিয়ে নিজেদের সিংগাপুর ভাবা বন্ধ করেন। যেই দেশে আইন কানুন – সাবিনা আহমেদ

বড় বড় দালান দেখিয়ে নিজেদের সিংগাপুর ভাবা বন্ধ করেন। যেই দেশে আইন কানুনের মা-বাপ নেই সেই দেশ উগান্ডাও না।

ছবিতে দেখলাম স্কুলের বাচ্চাদের পুলিশ পিটিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ছবিটা দেখে কাশ্মীরের কথা মনে পড়ল। সেখানেও স্কুলের বাচ্চারা দাবী নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ালেই সেনারা বাচ্চাদের লাঠিপেটা করে। কোন কোন ছবিতে ফিলিস্তিনের ওয়েস্ট ব্যাংকের মতন লেগেছে। যেখানে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কেউ কোন দাবী নিয়ে রাস্তায় নামতেই পারে না। যেমন পারে না বাংলাদেশে।

এদিকে আপনারা নিজেদের সিংগাপুর ভাবেন। আর অল্প কয়দিনেই নিজেদের সুইডেন বানাতে চললেন বলে ভাষণ মারেন। কিন্তু এসব উন্নত দেশ সাধারন মানুষ আর বিরোধী দলগুলোকে যত অধিকার দিয়েছে তার ধার কাছ দিয়েও আওয়ামী সরকার যায় না। ক্ষমতাসীনেরা দাবী চাওয়া মানুষগুলোর উপর নিজেদের পুলিশ আর গুন্ডা লেলিয়ে দিয়ে সবাইকে চুপ রাখতে চায়।

বেপরোয়া গাড়ি চলাচলের কারনে দেশের সড়কে মানুষ মরছে, ওদিকে অট্টহাসিতে শাজাহান খান বলছে, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন, ভারতের মহারাষ্ট্রে গাড়ি দুর্ঘটনায় ৩৩ জন মারা গেছেন। এখন সেখানে কী…আমরা যেভাবে এগুলোকে নিয়ে কথা বলি, এগুলো কি ওখানে বলে?”

ভাবখানা যেন মনে মনে বলছে, “চুপ সব ছোটলোকের বাচ্চা, দুই ছাত্র মরেছে তো কি হয়েছে, বাকি কোটি লোক তো বেচে আছে। এত অকৃতজ্ঞ কেন তোরা? রাস্তায় যে বাস চলে তাতেই তো শোকর করে বলবি জয়তু বঙ্গবন্ধু।”

কি চমৎকার যুক্তি এই লোকের। এবার ওনার যুক্তিতেই নাহয় নীচের
অল্প কয়টা উদাহরন দেখাইঃ

জাপানঃ২০১৮ সালে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে ২৫ সেকেন্ড আগে ছেড়েছিল বলে কর্তৃপক্ষ জনগনের কাছে ক্ষমা চেয়েছিল।

যুক্তরাজ্যঃ ২০১৬ সালে লন্ডনে বারবার ট্রেন টেবিল বাতিল আর কমিউটার ট্রেন দেরীর জন্য জন দুর্ভোগের কারনে জনগন রাগ আর ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। যার ফলাফলে রেলমন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

বেলজিয়ামঃ ২০১৬ সালে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির ব্যর্থতার অভিযোগে বেলজিয়াম যোগাযোগ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

দক্ষিন কোরিয়াঃ ২০১৪ সালে এক ফেরী দুর্ঘটনায় ৩০০ মানুষ মারা গেলে দক্ষিন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার দায়ভার গ্রহন করে পদত্যাগ করেছিলেন।

স্কটল্যান্ডঃ ২০১০ সালে পরিবহনমন্ত্রী শীতকালীন চরম আবহাওয়ার কারণে ভ্রমণের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় অক্ষমতার কারনে পদত্যাগ করেছিলেন।

মিসরঃ ২০১২ সালে এক বাস দুর্ঘটনায় পঞ্চাশ জন মানুষ, যার বেশিরভাগই শিশু নিহত হলে দেশটির পরিবহন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন।

বঙ্গদেশের মন্ত্রীরা এসব উদাহরন দেখে না; দেখলেও শিখে না। তারা কেবল কোথায় কিভাবে কে কি করে ক্ষমতা আর টাকশাল ধরে রেখেছে সেসব দেখে শিখে। আর এরাই আবার বড় গলায় সিংগাপুর-সুইজারল্যান্ডের উদাহরন টানে। ফর দেয়ার ইনফরমেশান সিংগাপুর-সুইজারল্যান্ডে এমন ট্রাফিক জ্যাম নাই, আইন কানুন না মানা পরিবহনতন্ত্র নাই, লাইসেন্সবিহিন বাস-ট্রাক ড্রাইভার সেসব দেশে রাস্তায় গাড়ি চালায় না। যেই দেশে প্রতিটা পরিবহন বা বাসের মালিক বিশাল কোটিপতি, সেই দেশে এমন দৈন্য ঝুড়ঝুড়া বাস-ট্রাক রাস্তায় চলে না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে সাধারন মানুষের জান মালের তোয়াক্কা না করে শোষক শ্রেনী কেবল টাকশালের টাকা গুনে আর সেই টাকায় আইন কিনে সাধারন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলে।

সমস্ত সিভিল ইন্সটিটিউশান ধ্বংস করে যে কোন মুল্যে ক্ষমতায় থাকার নাম বাংলাদেশ। এই দেশের আইন কানুনের চাইতে আমাজনের জঙ্গলের পশুদের আইন কানুন ভালো। এই দেশের ক্ষমতাসীনদের কোন জবাবদিহিতা নাই। তাদের বেপরোয়া শাসন নীতিতে জান দিবে কেবল সাধারন মানুষ, বিরোধী দল, আর নিজেরা ঘুমাবে সোনার পালঙ্কে।

প্রায় দেড়শ বছর আগে ব্রিটিশ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই অঞ্চল শাসন করা ছেড়ে গেলেও রেখে গেছে তাদের লুট এন্ড রুল লেগাসি। আওয়ামী লীগ সেই লেগাসি থেকেই শিখেছে, সেই নিতিতেই শাসন করে।

Sabina Ahmed | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-07-31 22:15:08