ইন্ডিয়ান সেক্যুলারিজমের ধারণা আমাদের দেশের সেক্যুলারেরাও গ্রহণ করেছে। একারণেই সেক্যুলারিজম – পিনাকী ভট্টাচার্য

ইন্ডিয়ান সেক্যুলারিজমের ধারণা আমাদের দেশের সেক্যুলারেরাও গ্রহণ করেছে। একারণেই সেক্যুলারিজম তার সব স্ববিরোধিতা নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। সাধারণ মানুষ সেই স্ববিরোধিতা চট করেই ধরে ফেলতে পারে।

তৃণমুলের মুসলমান সম্প্রদায় থেকে আসা সংসদ সদস্য নুসরাত যখন সিঁদুর পরে রথযাত্রায় সামিল হয় অথবা মন্দিরে আরতি দেয় তখন তা ভারতের মহান স্যেকুলারিজমের ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে ওঠে। বিজেপিও আনন্দে নুসরাতের পিঠ চাপড়ে দেয়। কিন্তু যখন ওই একই দলের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি মুসলমানদের ইফতার পার্টিতে গিয়ে মোনাজাতের ভঙ্গিতে হাত তোলেন তখন সেটা সংখ্যালঘু তোষণ হয়ে যায়।

কয়েকদিন আগে কাশ্মীরি মুসলিম অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম বলিউড ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করলে তিনি তাঁর ঈমান ও আকিদা রাখতে পারবেন না। এই ঘটনায় জায়রার উপরে সেই স্যেকুলার নামধারীরা উন্মত্তের মতো তাদের শব্দবাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। জায়রা তাঁর রিলিজিয়াস ভাষায় বলিউডের নোঙরামোকে তুলে ধরেছিলো।

বলিউড কি আসলেই নোঙরা জায়গা নয়? সাম্প্রতিক সময়ের প্রত্যেক নামী অভিনেত্রী হয় পরিচালক অথবা প্রযোজক অথবা সহ অভিনেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। প্রায় বছর দশের আগে নানা পাটেকার এক অল্প বয়সী অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের উপরে সিনেমার সেটেই হামলে পড়েছিলো। তনুশ্রী পালিয়ে বেঁচেছিলো। তার গাড়ির উপরে নানা পাটেকারের গুণ্ডারা হামলা করেছিলো। পরে তনুশ্রীর বাবা মা পুলিশকে সাথে নিয়ে তনুশ্রীকে সেট থেকে উদ্ধার করে।

তনুশ্রী ভয় লজ্জা ভেঙে এই কথা প্রকাশ করায় এবং এই অভিমানে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেয়ায় ভারতের মানুষ দুই হাত তুলে তার প্রশংসা করেছিলো। তনুশ্রী বলেছিলো কোন মর্যাদাবান নারী সন্মান রেখে এখানে কাজ করতে পারেনা। তনুশ্রীর লড়াই আর জায়রার লড়াই একই, কিন্তু জায়রা তার ইসলাম ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গায় দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেছে আর তনুশ্রী লিবারেল ভ্যালুজের উপরে দাঁডিয়ে কথাগুলো বলেছে। দুজনে একই কথা বলেছে কিন্তু ভিন্ন ভাষায়। ভারতের সমাজ তনুশ্রীর ভাষাকে গ্রহণ করেছে, জায়রার ভাষাটা গ্রহণ করেনি।

তাহলে এই স্যেকুলারিজমের সারবত্তা কী দাড়ালো? সারবত্তা এটাই যে তুমি হিন্দু কালচার আর আইডেন্টিটিকে সেলিব্রেট করতে পারবে কিন্তু মুসলমান কালচার, বিশ্বাস আর আইডেন্টিটি সেলিব্রেট করতে পারবে না।

এই স্যেকুলারিজমকে প্রচ্ছন্ন হিন্দুত্ববাদ বলতে সমস্যা কোথায়?

আমরা যে কবে ট্রু স্যেকুলারদের দেখতে পাবো কে জানে? তবে মমতা যে ট্রু স্যেকুলার, এতে সন্দেহ নেই।

PB/FS/2/07JUL2019



Pinaki Bhattacharya | উৎস | তারিখ ও সময়: 2019-07-07 16:27:15