আমার যদি যথেষ্ট টাকা থাকতো তাইলে ঢাকা শহরে একটা লাইব্রেরি করতাম- বেঙ্গ – কদরউদ্দিন শিশির

আমার যদি যথেষ্ট টাকা থাকতো তাইলে ঢাকা শহরে একটা লাইব্রেরি করতাম- বেঙ্গল টাইপের। অতো শানেমানে না। জাস্ট বসার, আড্ডার একটা বড় পরিসর। আর তাতে প্রতিদিন চায়ের দাওয়াত দিতাম জঙ্গি থেকে শুরু করে মিলিটেন্ট সেকুলার-হেফাজত-নাস্তিক-জামাত-আওয়ামী লীগ-বাম-বিএনপি-সুন্নী-শিয়া-ওয়াহাবি-দেওবন্দি-সালাফি-মাওবাদাী-মার্কিস্ট-লেনিনিস্ট-কওমী-সরকারী-বেসরকারি-ইংলিশ মিডিয়াম সব ধরনের নেতাকর্মীরে। নিজের টাকায় চা খাওয়াইতাম আর হ্যাগোরে কইতাম তুমরা লাঠি ছাড়া যতক্ষণ একে অন্যর লগে কিলাকিলি করতে পারো করো! আমি হইলাম রেফারি। খেলা শেষে কে জিতলা আর কে হারলা বইলা দিমু শুধু।

বাঙালী খুব ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক। ভিন্ন মতের লোকরে খালি কল্পিত ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে দেখে। বামরা দেশরে কিভাবে নাস্তিকস্তান বানানোর এজেন্টশিপ নিছে তার বয়ান দেবে একপক্ষ। আরেকপক্ষের কাছে উদ্বেগের বিষয় হইলো শিবিরকর্মীরা আইএসআইয়ের কাছ থেকে মাসে কত টাকা বেতন নিয়ে দেশটাকে আবার পাকিস্তানে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়া আগাইতেছে সেইটা। হেফাজত যে আফগানিস্তানের তালেবানের আর আল কায়দার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে সেইটা আরেকপক্ষে কনসার্ন। এইভাবে সবাই একে অন্যের নাম শুনলেই শিউরে উঠে! কারো সাথে কেউ একবার চা খাইতে বসে না। গল্প করে না। কথাই কয় না। মুখই না দেখতে পারলে যেন বাঁচে।

সবপক্ষের সব চিন্তার মানুষের মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ, আলাপ আলোচনা, যোগাযোগ শুরু করতে হবে, বাড়াইতে হবে। তাইলে কল্পিত ষড়যন্ত্রতত্ত্বগুলোর চর্চা কমবে। বিভাজন রেখাগুলো চিকন হয়ে আসবে। খালেদা-হাসিনা, কিম্বা শফী-ইনুরাও এক টেবিলে বসলে নিজে নেয়ার আগে অন্যরে চায়ের কাপটা আগায়া দেবেন। এইভাবে হয়তো একদিন আমরা আসলেই সিঙ্গাপুর হবো।

Qadaruddin Shishir | উৎস | তারিখ ও সময়: 2018-07-04 21:11:10