ভিক্ষুকরাও বুঝে চাওয়ার জন্য কোথায় যাওয়া যায় – আমান আবদুহু

ছোটবেলায় আমাদের এলাকায় মাঝে মাঝে ভিক্ষুকরা ভিক্ষা করতে আসতো। আমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি তারা এলাকার সবচেয়ে ধনী লোক হাসান সাহেবের বাড়িতে যেতো না। রমজানের সময় তিনি জাকাতের শাড়ি লুঙ্গি দিতে প্রায় হাজার মানুষের মজমা বসিয়ে ফেলেন প্রতিবছর, কিন্তু বছরের বাকী কোন দিন কোন ভিক্ষুকই তার গেইটে ভুলেও কড়া নাড়তো না। হাসান সাহেবের দারোয়ান কেরামত আলী খুবই জঘন্য প্রকৃতির একটা লোক ছিলো। সম্ভবত তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য ছিলো হাসান সাহেবের পরিবারের খেদমত করা এবং পৃথিবীর সমস্ত অন্য প্রাণীজগতের সাথে অবিরাম সংঘর্ষে লিপ্ত থাকা। তাকে দেখা যেতো সারাদিন গাড়ি ধুচ্ছে বাগানে পানি দিচ্ছে এই করতেছে সেই করতেছে কিংবা টুলে বসে আছে। এলাকায় নতুন কোন ভিক্ষুক এসে না বুঝে ঐ গেইটে গেলেই সে খেকিয়ে উঠতো। মাঝে মাঝে লাঠি নিয়েও দৌড়ানি দিতো। আমাদের ক্রিকেট খেলার টেনিস বল কোনমতে হাসান সাহেবের বাগানে গেলে সেই বল সে আর ফেরত দিতো না। সুতরাং আমাদের নিয়ম ছিলো হাসান সাহেবের বাগানে বল গেলে ব্যাটসম্যান আউট। তো যাইহোক কেরামতের এই অবস্থার কারণে হাসান সাহেবের বাড়ির দরজা ছিলো পুরাপুরি ভিক্ষুকমুক্ত। রমজানের শেষদিকে জাকাত বিতরণের দিনটা ছাড়া। ঐদিন পুরা পাড়া ছ্যাড়াব্যারা হয়ে যেতো অবশ্য। এলাকার সমস্ত ভিক্ষুকরা জানতো, এই দরজায় গিয়ে কোন লাভ নাই। খামাখা সময় নষ্ট। ধমক তো খেতে হবেই, উল্টা দৌড়ানিও দিতে পারে। তাদেরকে দেখেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম, হতভাগা ভিক্ষুকরাও বুঝে চাওয়ার জন্য কোথায় যাওয়া যায়, আর কোথায় যাওয়া অনর্থক।

Aman Abduhu | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-02-27 16:39:27