আমেরিকা ব্লগারদের এসাইলাম দিবে এটা দেখে একটা নিউজ মনে পড়ল। – জাহিদ রাজন

আমেরিকা ব্লগারদের এসাইলাম দিবে এটা দেখে একটা নিউজ মনে পড়ল।

আফগানিস্থান ইরাকে আমেরিকার অনেক ইন্টারপ্রেটার আছে যারা আমেরিকান সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করে। এদেরকে ইন্টারপ্রেটার না বলে স্পাই বলাই ভাল কারণ মূলত তারা আমেরিকার গোয়েন্দা বাহিনীকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এনে দেয়। পথঘাট চিনিয়ে দেয়। এলাকার কালচার বা বিভিন্ন হালচাল সম্পর্কে ধারণা দেয়। এক কথায় কোটি কোটি টাকার ইন্টিলেজেন্স ইনফরমেশন এনে দেয়।

কিছু দিন পর আমেরিকা ঐ এলাকায় মিশন বন্ধ করে চলে আসে। এরপর এসব ইন্টারপ্রেটারদের কি হয় ?

এরা তালেবান-আইএস বা অন্য আমেরিকা বিরোধীদের গুলি খেয়ে মরে। এক পর্যায়ে আর কেউ এই ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করতে রাজি হচ্ছিল না। আমেরিকা তখন নতুন চাল চালল। বলল- যারা ইন্টারপ্রেটার হিসেবে কাজ করবে আমেরিকা তাদেরকে প্রোটেকশান দিবে। ভিসা দিয়ে আমেরিকায় নিয়ে আসবে। এরপর অনেক তরুণরা আবার দলে দলে স্পাই হয়ে ভিসা পাওয়ার জন্য আসল, আমেরিকার সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করল।

এরপর গেজ হোয়াট ? আমেরিকান সৈন্যরা তাদেরকে যাওয়ার সময় আগের মতই আফগানিস্তান বা ইরাক রেখে গেছে। কিন্তু এবারে আশ্বাস দিয়ে গেছে ভিসা রেডি হলেই তুমি সাই করে আমেরিকা চলে যাবে এন্ড দেন- ডূড উই উইল হেভ ফান টুগেদার।

দিন যায় কথা থাকে। ভিসা ত আর আসে না। আজকে এম্বাসি তে একটা ইন্টারভিউ হয় এরপর আবার ছয় মাস খবর নাই। এরপর আবার বলে এই ত প্রায় শেষ- ভিসা রেডি প্রায়। ছাপানো হচ্ছে। এভাবে একবছর দুইবছর কেটে যায় ভিসা প্রসেসিং আর বন্ধ হয় না। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলে- হ্যাঁ হ্যাঁ ওদের অসামান্য ত্যাগের কথা আমাদের মনে আছে। আমরা বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

এর মধ্যে মাঝে মাঝে তালেবানদের চিঠি আসে- মরার জন্য রেডি থাক আমরা আসতেছি। এরপর একদিন তালেবানদের সাথে দেখা হয়ে যায় হুট করে। একে-৪৭ এর বুলেট শরীরের কয়েকটা অংগ স্পর্শ করে এবং এভাবেই আমেরিকাগামী আফগান যুবকের স্বপ্নের সমাধি ঘটে।

এর মধ্যে দুই একজন আমেরিকা গিয়ে আবার ফিরে আসছে। কোন কাজকাম পায় না। দাঁতে দাত চেপে কয়েক মাস থেকে আবার ব্যাক টু আফগানিস্তান।

মরাল অব দ্য স্টোরি- আমেরিকা যাওয়া সোজা না'রে পাগলা। তবে জার্মানির লোকসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাইনাসের দিকে (সিরিয়ান রিফিউজিরা এটা প্লাস বানায়ে ফেলবে কয়েক বছরের মধ্যে)। সে হিসেবে জার্মানিতে আগামি তিন চার বছর আশা আছে কিছুটা।

সোজা কথা হোল- আমেরিকা যাওয়ার আশা সে ত মরীচিকা। যেই দেশে ইসলাম বিরোধী প্রচারণার জন্য ফক্স টিভি আছে সেই দেশ দুই চার পাতা ডকিন্স পড়া লোক নিয়া করবে কি ?
————————-
কিউরিয়াস মাইণ্ড ওয়ান্টস টু নো-

খেলার সাথে রাজনীতি মিশে এটা ত বুঝলাম। বরং এখন থেকে খেলাই রাজনিতী। পড়ালেখার সাথে বা ইমিগ্রেশনের সাথে রাজনিতী মিশবে কিনা ?

এই যে আমেরিকা একাত্তর সালে মৌলবাদী পাকিস্থানি রাষ্ট্রকে সমর্থন করল, এখন আমাদের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে পড়ালেখা করতে আমেরিকা যেতে চায় (যাওয়ার আগে হাজারটা আনুসঙ্গিক পরীক্ষাও দেয়) এটা ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কাজ।

এমনকি আমেরিকা যদি এক দুইটা এসাইলাম ভিসা ছিটায় এবং ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সারভড ভিত্তিতে সরবহরাহ করে এর জন্যও তরুণ প্রজন্ম আগামীকাল সকালে গুলশানে রাস্তা বন্ধ করে লাইনে দাঁড়াবে।

ধান্দা দিয়ে ত জীবন চলে না। পেটে ভাত থাকলে এরপর সাধিনতার চেতনা !

Jahid Razan | উৎস | তারিখ ও সময়: 2016-04-10 17:58:43