করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই যেহেতু কিছু না কিছু বলছে – কায়কাউস

করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই যেহেতু কিছু না কিছু বলছে সেহেতু একজন বদনবোদ্ধা হিসেবে আমারও কিছু বলাটা জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই জরুরী। এ বিষয়ে আমার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ হচ্ছে করোনা ভাইরাস নিয়ে বদনভুবনে যে আলাপ চলছে তা অনেকটাই কোরবানীর গরুর আলাপ। সবাই সবাইকে প্রশ্ন করছেন — ভাই গরু কিনছেন? ভাই গরু কিনছেন? কিন্তু নিজে অপেক্ষা করে আছেন কখন ইন্ডিয়ান গরু নামবে, গরুর দাম কমবে আর একেবারে শেষ মুহুর্তে কম দামে গরু কিনে বিজয়ীর হাসি হেসে বলবেন — কইছিলাম না? অন্যরা মাথা দুলিয়ে বলবে — ভাই আপনি জিতছেন।

জাতিগতভাবে যদি বাঙালের স্বাস্থ্যসচেতনা, খাদ্যাভ্যাস, পরিচ্ছন্নতা, মহামারী আর যে কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পূর্ব পরিকল্পনার অপরিসীম উদাসীনতাকে আপনি গান্ডুত্বের একক ধরে নিয়ে সূত্রবদ্ধ করতে চান, তাহলে যে সহজ সূত্রে তাকে প্রকাশ করা যায় তা হচ্ছে —

গান্ডুত্ব = বাঙ্গালের সংখ্যা X করোনা ভাইরাসের সংখ্যা X ২।

কাজেই, আমাদের অসীম জাতিগত গান্ডুত্বকে আমলে নিয়ে এই মুহুর্তে সবচাইতে কার্যকর যে পদক্ষেপটি হতে পারে, তা হচ্ছে — চুপ থাকা। হ্যাঁ, একেবারেই চুপ থাকা। কারণ এ নিয়ে যত বেশি হাউকাউ করবেন তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত গান্ডুরা। বিত্তশালী গান্ডুরা প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই হামলে পড়বে খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মজুদকরণে। এই সুযোগে গান্ডু ব্যবসায়ীরা এক কেজি আলুর দাম ৫০০ টাকা হাঁকালেও সাধারণ গান্ডুরা রা করবেনা। তারা বড়জোর প্রথম করোনা ভাইরাস যদি মিরপুরে সনাক্ত হয় তাহলে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত গোল চক্কর পার হয়ে মোল্লার দোকান থেকে এক কাপ গরম চা খেয়ে এক খিলি পান মুখে দিয়ে নাক ঝাড়তে ঝাড়তে বাসায় ফিরে করোনা বিষয়ে সচেতনার সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখবেন।

অতএব, এলাহী ভরসা। চুপ থাকেন। যে দেশে করোনা আর কারিনা এক পুকুরে গোসল করে সে দেশে আপনার মৃত্যুর সম্ভাবনা ডেঙ্গু থেকে কম। আর মরলে তো মরলেনই। বেঁচে থাকলে ১০ নং মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যখন ঘূর্ণিঝড় উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করে যাওয়ার পর বলেন তেমনি ভাবে বলবেন — বালের করোনা॥

কায় কাউস কাউস | উৎস | তারিখ ও সময়: 2020-03-05 22:47:19